সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরায় পারিবারিক বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে হোসনে আরা খাতুন (৪০) নামে এক গৃহবধূকে মারধর করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে বাবা, ছেলে ও মেয়েসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে সাতক্ষীরা সদর থানাধীন কাটিয়া সরকারপাড়া এলাকার বাসিন্দা হোসনে আরা খাতুন তাঁর বাবার বাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে কলেজ রোডের টিএনটি ওয়্যারলেস টাওয়ারের সামনে পৌঁছালে পূর্ববিরোধের জেরে অভিযুক্তরা তাঁর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তাঁকে মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। হামলায় তাঁর নাক ফেটে রক্তক্ষরণ হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করেন। এ সময় তাঁর ভ্যানগাড়িতে থাকা নগদ ৪ হাজার ৯০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেছেন। এ ছাড়া গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত হোসনে আরাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তাঁর আঘাতের বিষয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং ঘটনাটি পুলিশ কেস হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
এজাহারে অভিযুক্ত হিসেবে কাটিয়া সরকারপাড়া এলাকার মো. এন্তাজ আলী (৬০), তাঁর মেয়ে মোছা. সাবিনা খাতুন (২৬) ও ছেলে মিয়ারাজ হোসেন (২৮)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা যাবে।
Reporter Name 



















