কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক,
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে বসতভিটার জমি ও ঘরের দখল নিয়ে দুই ভাইয়ের বিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাগভান্ডার মৌজার সোনাতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ছোট ভাই শহিদুল ইসলাম লিটনের অভিযোগ, বড় ভাই হাফিজুর রহমানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে গত ৯ অক্টোবর ঘর ভাঙাকে কেন্দ্র করে তাঁকে মারধর করা হয়। এতে তাঁর ঘাড়ের হাড় ভেঙে গেছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এ ঘটনায় পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানিয়েছে।
লিটনের দাবি, ২০১৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৪০৬ নম্বর দলিলের মাধ্যমে তাঁদের বাবা মৃত রুস্তম আলী ৩২ শতক বাগান শ্রেণির জমি তাঁকে হেবা দলিল করে দেন। জমিটি আরএস খতিয়ান নম্বর ৩১৬৭-এর অন্তর্ভুক্ত। পরবর্তী সময়ে তিনি নিজের নামে নামজারিও সম্পন্ন করেন। ওই জমিতে তাঁদের বাবার রেখে যাওয়া একটি ঘরও ছিল।
লিটন জানান, বাবার মৃত্যুর পর বড় ভাই হাফিজুর রহমান মালামাল রাখার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ঘরটি ভাড়া নেন। পরে ঘরটি খালি করতে বললে তিনি তা করতে অস্বীকৃতি জানান। লিটনের অভিযোগ, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বড় ভাই জমিটি নিজের দখলে রাখেন। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করেও তিনি প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন।
সালিশে সমাধানের পরও বিরোধ
লিটনের ভাষ্য, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জমিটি তাঁকে বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং হাফিজুর রহমানও তাতে সম্মত হন। এরপর লিটন জমিতে বেড়া দিয়ে একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করেন। তবে পুরোনো ঘরটি খালি করা নিয়ে বিরোধ থেকেই যায়।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড অফিসে অভিযোগ দেওয়া হলেও হাফিজুর রহমান উপস্থিত না হওয়ায় সমস্যার সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন লিটন।
ঘর ভাঙাকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ
লিটনের অভিযোগ, গত ৯ অক্টোবর সকাল ৯টার দিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইসাহাক আলী, হাজী তারিফুল ইসলাম মুকুল, মো. ইউসুফ আলীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে পুরোনো ঘর থেকে হাফিজুর রহমানের মালামাল সরিয়ে তাঁর অন্য বাড়িতে রাখা হয়। পরে ঘরটি ভেঙে ফেলা হয়।
এ সময় মালামাল বুঝে নেওয়াকে কেন্দ্র করে হাফিজুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন লিটন। একপর্যায়ে বাঁশ দিয়ে আঘাত করা হলে তাঁর ঘাড়ের হাড় ভেঙে যায় বলে দাবি করেন তিনি। স্থানীয়দের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে তাঁর ভাষ্য।
লিটনের আরও অভিযোগ, হাফিজুর রহমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে জমি দখল করে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হাফিজুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবার
ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন লিটনের স্ত্রী। তিনি বলেন, তাঁর স্বামী, সন্তান ও পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপর যেকোনো সময় হামলা হতে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন। এ অবস্থায় প্রশাসন ও সরকারের কাছে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জমির মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র ও সালিশি সিদ্ধান্ত বিবেচনায় নিয়ে বিরোধের সুষ্ঠু নিষ্পত্তি করা হোক। একই সঙ্গে হামলার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে জমির মালিকানা, ঘর ভাঙার ঘটনা এবং হামলার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত চিত্র নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
Reporter Name 

























