
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি:
ভোলার চরফ্যাশনে জরিনা বেগম (২০) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, তিনি বিষপান করেছেন। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর পর হাসপাতালেই মরদেহ রেখে স্বামী ও শ্বশুরের চলে যাওয়ার ঘটনায় মৃত্যুকে ঘিরে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে উপজেলার দুলারহাট থানার নুরাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে স্বামী শরীফের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জরিনা একই এলাকার সিরাজ পাটোয়ারীর মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে জরিনা বিষপান করেছেন বলে জানিয়ে তাকে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান তার স্বামী ও শ্বশুর। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে মৃত্যুর পর তারা হাসপাতালেই মরদেহ রেখে চলে যান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহতের বাবা সিরাজ পাটোয়ারী জানান, প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে শরীফের সঙ্গে জরিনার বিয়ে হয়। শুরুতে সংসার স্বাভাবিক থাকলেও কিছুদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। বিষয়টি তার মেয়ে ফোনে একাধিকবার জানিয়েছিল। তবে কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। মৃত্যুর পর স্বামী ও শ্বশুরের হাসপাতাল থেকে চলে যাওয়ার ঘটনায় তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, দাম্পত্য কলহের জেরে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো। এ কারণে ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু—তা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
দুলারহাট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোফরান সিকদার বলেন, ঘটনাটি রহস্যজনক হওয়ায় মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
Reporter Name 



















