
সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বাগদা চিংড়ির রেণু উৎপাদনকারী ওশান হ্যাচারিতে ২৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি হাইব্রিড সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে হ্যাচারির বিদ্যুৎ ব্যয় কমার পাশাপাশি অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ শ্যামনগরের অন্যান্য হ্যাচারিতেও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) শ্যামনগরের ওশান হ্যাচারি প্রাঙ্গণে প্রকল্পটির উদ্বোধন করা হয়। যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সাইমা পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং ও জেনিক্সগ্রিন বাংলাদেশ।
সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আজিজুর রহমান জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্যে বড় শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের চাহিদা পূরণের পর অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবে। সরকার প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে ক্রয়ের পরিকল্পনা করেছে।
তিনি আরও বলেন, ওশান হ্যাচারিতে প্রচলিত স্থায়ী সৌর প্যানেলের পরিবর্তে বিশেষ প্রযুক্তিনির্ভর প্যানেল ব্যবহার করা হচ্ছে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী একপাশে সরিয়ে নেওয়া যাবে। ফলে হ্যাচারির পুকুর ও ট্যাংকে সরাসরি সূর্যের আলো প্রবেশের সুযোগ থাকবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমেও কোনো বিঘ্ন ঘটবে না।
সাইমা পাওয়ার টেকনোলজি ও সাইমা পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিচালক (অপারেশনস) সাইমা সাজেদুল করিম বলেন, বাগদা চিংড়ির হ্যাচারিতে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ বাংলাদেশে প্রথম। বিশেষভাবে নকশাকৃত সৌর প্যানেলগুলো প্রয়োজনে ভাঁজ করে সরিয়ে নেওয়া যাবে, ফলে ট্যাংক ও পুকুর শুকানোর সময় পুরো জায়গা ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
তিনি জানান, প্রকল্পে ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলেও হ্যাচারিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে। প্রকল্প থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ হাজার ইউনিট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
ওশান হ্যাচারির মালিক আব্দুল আজিজ বলেন, সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে নিজেদের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিকভাবে লাভবান হবে। তিনি জানান, প্রকল্পটিতে প্রায় ১ কোটি ২০ থেকে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আগে নির্দিষ্ট সময়ে হ্যাচারির ছাউনি খুলে পুকুর ও ট্যাংক রোদে শুকাতে হতো। নতুন প্রযুক্তির সৌর প্যানেল ব্যবহারের ফলে সেই কাজ সহজ হবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
পরিদর্শনকালে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, প্যানেল স্থাপন প্রযুক্তি, হ্যাচারির উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সমন্বয়, সংযোগ ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কারিগরি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এ সময় চায়না জেনিক্সগ্রিনের পরিচালক ডন, জেনিক্সগ্রিন বাংলাদেশের প্রধান প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান, ওজোপাডিকোর সাতক্ষীরা অঞ্চলের কর্মকর্তা সোয়াইব হোসেন, সাইমা পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মো. গোলাম মোস্তফাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের আশা, শ্যামনগরের এই উদ্যোগ সফল হলে দেশের চিংড়ি হ্যাচারি ও মৎস্য খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও সম্প্রসারিত হবে এবং শিল্পখাতের জন্য একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
Reporter Name 



















