Dhaka ০১:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাতক্ষীরায় নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সুরক্ষায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প সাতক্ষীরা হবিগঞ্জে হামলার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় এনসিপির প্রতিবাদ সভা সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নে আর বিলম্ব নয়, সরকারের প্রতি আহ্বান কাউখালীতে সাড়ে তিন হাজার মিটার অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ কাউখালীতে একই এলাকায় পরপর তিন চুরি, আতঙ্কে এলাকাবাসী সাপাহারে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধনের অভিযোগ, ক্ষতি দেড় লাখের বেশি ফেসবুকের প্রেমে বাল্যবিয়ে, ৭ মাসের সন্তান ফিরে পেল ১৩ বছরের কিশোরী মা ডাকাতি-চুরি প্রতিরোধে নেছারাবাদে রাতের পাহারা, পুলিশ-জনতার যৌথ উদ্যোগ উপকূলের পরিবেশ পুনরুদ্ধারে শ্যামনগরে ১০ লাখ বীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ডি.বি. ইউনাইটেড হাইস্কুলে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেককে সংবর্ধনা

দুই মাসের মাসের মাথায় নববধূর রহস্যজনক মৃ”ত্যু তদন্তের দাবি 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:১৫:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • ৪৪২ Time View

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, বানারীপাড়া (বরিশাল):

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বিশারকান্দি ইউনিয়নের কদমবাড়ী গ্রামে বিয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় মুনিয়া আক্তার (২২) নামের এক নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, নিহতের ননদের ভিন্নধর্মী বক্তব্য এবং ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া নানা প্রশ্ন স্থানীয়দের মধ্যে ধোঁয়াশা ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

নিহত মুনিয়া আক্তার উপজেলার কদমবাড়ী গ্রামের হাওলাদার বাড়ির বাসিন্দা ও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসানের (৩০) স্ত্রী। প্রায় দুই মাস আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। মুনিয়ার বাবার বাড়ি নেছারাবাদ উপজেলার সোহাগদল গ্রামে। তিনি স্বরূপকাঠি সরকারি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৬ মে) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে স্বামীর বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সময় স্বামী মেহেদী হাসান ঢাকায় কর্মস্থলে অবস্থান করছিলেন বলে পরিবারের দাবি।

 

নিহতের শ্বশুর বাদশা মিয়া ও শাশুড়ির ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকাল পর্যন্ত মুনিয়া স্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। দুপুরের দিকে তার কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি শুরু করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে তাকে ঝু” লন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে দ্রুত উদ্ধার করে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালএ নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে নিহতের ননদ তামান্নার বক্তব্য ঘটনাটিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিয়ের কিছুদিন পর এক রাতে মুনিয়া তার সঙ্গে একই কক্ষে ঘুমানোর সময় আচমকা ঘুমের মধ্যে তার গলা চেপে ধরেছিলেন। এ ঘটনার পর থেকেই পরিবারের ধারণা, মুনিয়া হয়তো কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।

তবে স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন, ঘটনার পরপরই মানসিক সমস্যার বিষয়টি সামনে আনা হওয়ায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। তাদের মতে, বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে নানা প্রশ্ন নববধূর এমন আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে বিভিন্ন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন দিনের বেলায় বাড়িতে লোকজন থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ঘটনাটি অগোচরে ঘটলো?
আ” ত্মহত্যার মতো ঘটনায় প্রতিবেশীদের তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করা হয়নি কেন? পুলিশকে খবর দেওয়ার আগেই কেন মরদেহ নামানো হলো? আলামত সংগ্রহ ও সংরক্ষণে কোনো গাফিলতি ছিল কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয় বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।

রোববার (১৭ মে) শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালএ ময়নাতদন্ত শেষে মুনিয়ার মরদেহ তার বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। নিহতের বাবা বাদী হয়ে মেয়ের স্বেচ্ছায় আ” ত্ম” হ” ত্যার ঘটনায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করেছেন।

স্থানীয়দের দাবি, এটি আ” ত্মহত্যা নাকি এর পেছনে পারিবারিক কলহ, মানসিক চাপ কিংবা অন্য কোনো রহস্যজনক কারণ রয়েছে—তা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। তারা দ্রুত প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতক্ষীরায় নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সুরক্ষায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

দুই মাসের মাসের মাথায় নববধূর রহস্যজনক মৃ”ত্যু তদন্তের দাবি 

Update Time : ০২:১৫:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, বানারীপাড়া (বরিশাল):

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বিশারকান্দি ইউনিয়নের কদমবাড়ী গ্রামে বিয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় মুনিয়া আক্তার (২২) নামের এক নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, নিহতের ননদের ভিন্নধর্মী বক্তব্য এবং ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া নানা প্রশ্ন স্থানীয়দের মধ্যে ধোঁয়াশা ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

নিহত মুনিয়া আক্তার উপজেলার কদমবাড়ী গ্রামের হাওলাদার বাড়ির বাসিন্দা ও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসানের (৩০) স্ত্রী। প্রায় দুই মাস আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। মুনিয়ার বাবার বাড়ি নেছারাবাদ উপজেলার সোহাগদল গ্রামে। তিনি স্বরূপকাঠি সরকারি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৬ মে) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে স্বামীর বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সময় স্বামী মেহেদী হাসান ঢাকায় কর্মস্থলে অবস্থান করছিলেন বলে পরিবারের দাবি।

 

নিহতের শ্বশুর বাদশা মিয়া ও শাশুড়ির ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকাল পর্যন্ত মুনিয়া স্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। দুপুরের দিকে তার কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি শুরু করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে তাকে ঝু” লন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে দ্রুত উদ্ধার করে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালএ নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে নিহতের ননদ তামান্নার বক্তব্য ঘটনাটিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিয়ের কিছুদিন পর এক রাতে মুনিয়া তার সঙ্গে একই কক্ষে ঘুমানোর সময় আচমকা ঘুমের মধ্যে তার গলা চেপে ধরেছিলেন। এ ঘটনার পর থেকেই পরিবারের ধারণা, মুনিয়া হয়তো কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।

তবে স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন, ঘটনার পরপরই মানসিক সমস্যার বিষয়টি সামনে আনা হওয়ায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। তাদের মতে, বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে নানা প্রশ্ন নববধূর এমন আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে বিভিন্ন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন দিনের বেলায় বাড়িতে লোকজন থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ঘটনাটি অগোচরে ঘটলো?
আ” ত্মহত্যার মতো ঘটনায় প্রতিবেশীদের তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করা হয়নি কেন? পুলিশকে খবর দেওয়ার আগেই কেন মরদেহ নামানো হলো? আলামত সংগ্রহ ও সংরক্ষণে কোনো গাফিলতি ছিল কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয় বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।

রোববার (১৭ মে) শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালএ ময়নাতদন্ত শেষে মুনিয়ার মরদেহ তার বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। নিহতের বাবা বাদী হয়ে মেয়ের স্বেচ্ছায় আ” ত্ম” হ” ত্যার ঘটনায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করেছেন।

স্থানীয়দের দাবি, এটি আ” ত্মহত্যা নাকি এর পেছনে পারিবারিক কলহ, মানসিক চাপ কিংবা অন্য কোনো রহস্যজনক কারণ রয়েছে—তা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। তারা দ্রুত প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

Spread the love