
কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাংয়ে টমটম অটোরিকশার একটি গ্যারেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০টি ইজিবাইক পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার দিকে হারবাং বাসস্টেশনসংলগ্ন সারফরাজ মার্কেটের নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।
গ্যারেজ পরিচালক আরমান উল্লাহ শিকদার জানান, সারফরাজ মার্কেটের নিচতলায় অবস্থিত তার গ্যারেজের দুটি কক্ষের মধ্যে একটিতে তিনি অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ পাশের কক্ষ থেকে বিকট শব্দ শুনে সেখানে গিয়ে আগুন জ্বলতে দেখেন। সঙ্গে সঙ্গে গ্যারেজে থাকা অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালালেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় তা আর সম্ভব হয়নি।
পরে তিনি বাইরে এসে স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পেয়ে আশপাশের শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন।
স্থানীয়রা জানান, আগুনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় সারফরাজ মার্কেটের ওপরের তলা ও পাশের হারবাং সিটি সেন্টারের ছাদে উঠে অনেকে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অগ্নিকাণ্ডে গ্যারেজে রাখা ১০টি ইজিবাইক সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এতে গাড়ির মালিক ও চালকেরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেকের জন্য এসব ইজিবাইকই ছিল জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন।
গ্যারেজ পরিচালক আরমান উল্লাহ শিকদার বলেন, “এই গ্যারেজই ছিল আমার একমাত্র আয়ের উৎস। আগুনে সবকিছু পুড়ে গেছে। গাড়িগুলোর মালিক ও চালকেরাও এখন চরম দুর্দশায় পড়েছেন। কীভাবে আবার নতুন করে শুরু করব, তা ভেবে পাচ্ছি না।”
চকরিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তা সেলিম উদ্দিন বলেন, স্থানীয়দের দ্রুত তৎপরতার কারণে আগুন বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ছড়াতে পারেনি। এতে সারফরাজ মার্কেট এবং আশপাশের অন্যান্য স্থাপনা রক্ষা পেয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আগুনের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত করা হবে।
Reporter Name 



















