Dhaka ১২:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেঙ্গু রোগীতে উপচে পড়ছে কাউখালী হাসপাতাল, বাড়ছে উদ্বেগ সাতক্ষীরায় ‘গরীবের মেহমানখানা’ কর্মসূচিতে অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ কালিগঞ্জে সেভেন আপের বোতলে রাখা ঘাসমারা ওষুধ পান করে ব্যবসায়ীর মৃত্যু সদর সার্কেল অফিসের বার্ষিক পরিদর্শন করলেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার কাউখালীতে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান, দুই প্রতিষ্ঠানকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা বানারীপাড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ, ফ্যাক্ট চেকিং ও গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা শীর্ষক মতবিনিময় সভা রামপালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি বানারীপাড়ায় ৯ বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ সাতক্ষীরায় প্রাক্তন নিবন্ধিত শিশু ও যুবদের নিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরার রসুলপুরে অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

চুরির অপবাদে পিরোজপুরে ডিবি পুলিশের নির্মম নির্যা/তনের অভিযোগ, হাসপাতালে কেয়ারটেকার

 

পিরোজপুর প্রতিনিধি:

 

পিরোজপুরে চুরির অপবাদ দিয়ে ডিবি পুলিশের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মো. ইউনুস ফকির (৪০) নামে এক কেয়ারটেকার। অভিযোগ রয়েছে, তাকে মারধর, বৈদ্যুতিক শক এবং গরম মোম দিয়ে ঝলসে দেওয়ার মতো অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে তিনি পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ইউনুস পিরোজপুর পুলিশ লাইন্স সংলগ্ন একটি মেসে অস্থায়ী কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ১৩ এপ্রিল দুপুরে ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামের কক্ষ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ এনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে আটক করা হয়। অভিযোগ অস্বীকার করলে তাকে হাতকড়া পরিয়ে নিচতলায় নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। পরে আরও কয়েকজন ডিবি সদস্য যোগ দিয়ে নির্যাতনের মাত্রা বাড়ায়। একপর্যায়ে তাকে রান্নাঘরে নিয়ে গরম মোম দিয়ে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

পরবর্তীতে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে একই মেসের অপর কর্মী শাকিল জিজ্ঞাসাবাদে চুরির কথা স্বীকার করে এবং টাকা উদ্ধার করা হয়। এরপর ইউনুসের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া হয়।

চিকিৎসক স্বাধীন হাওলাদার জানান, ইউনুসের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাকে আগুনের ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও এখনো পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ইউনুসের পরিবার জানায়, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চাকরির প্রলোভনও দেখানো হয়েছে। তবে তারা এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবি করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে আরিফুল ইসলাম নির্যাতনের কথা অস্বীকার করে বলেন, তিনি ছুটিতে আছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। তবে এক সোর্সের মাধ্যমে নির্যাতনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে পুলিশ সুপারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গু রোগীতে উপচে পড়ছে কাউখালী হাসপাতাল, বাড়ছে উদ্বেগ

চুরির অপবাদে পিরোজপুরে ডিবি পুলিশের নির্মম নির্যা/তনের অভিযোগ, হাসপাতালে কেয়ারটেকার

Update Time : ০৬:৩৭:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

 

পিরোজপুর প্রতিনিধি:

 

পিরোজপুরে চুরির অপবাদ দিয়ে ডিবি পুলিশের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মো. ইউনুস ফকির (৪০) নামে এক কেয়ারটেকার। অভিযোগ রয়েছে, তাকে মারধর, বৈদ্যুতিক শক এবং গরম মোম দিয়ে ঝলসে দেওয়ার মতো অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে তিনি পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ইউনুস পিরোজপুর পুলিশ লাইন্স সংলগ্ন একটি মেসে অস্থায়ী কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ১৩ এপ্রিল দুপুরে ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামের কক্ষ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ এনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে আটক করা হয়। অভিযোগ অস্বীকার করলে তাকে হাতকড়া পরিয়ে নিচতলায় নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। পরে আরও কয়েকজন ডিবি সদস্য যোগ দিয়ে নির্যাতনের মাত্রা বাড়ায়। একপর্যায়ে তাকে রান্নাঘরে নিয়ে গরম মোম দিয়ে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

পরবর্তীতে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে একই মেসের অপর কর্মী শাকিল জিজ্ঞাসাবাদে চুরির কথা স্বীকার করে এবং টাকা উদ্ধার করা হয়। এরপর ইউনুসের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া হয়।

চিকিৎসক স্বাধীন হাওলাদার জানান, ইউনুসের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাকে আগুনের ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও এখনো পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ইউনুসের পরিবার জানায়, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চাকরির প্রলোভনও দেখানো হয়েছে। তবে তারা এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবি করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে আরিফুল ইসলাম নির্যাতনের কথা অস্বীকার করে বলেন, তিনি ছুটিতে আছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। তবে এক সোর্সের মাধ্যমে নির্যাতনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে পুলিশ সুপারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Spread the love