সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :
দুই বছর পর আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে সাতক্ষীরার প্রায় তিনশ বছরের ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা। শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে গত ১ অক্টোবর শুরু হওয়া এ মেলাকে ঘিরে প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। বিকেল গড়াতেই মেলা প্রাঙ্গণে নামে জনস্রোত। কেনাকাটা, বিনোদন এবং নানা বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এ মেলা। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে মেলা প্রাঙ্গণ। নানা রকম স্টল, ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং বিনোদনের আয়োজন মেলায় আগতদের আকৃষ্ট করছে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
তবে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মেলা শুরুর মাত্র চার দিনের মাথায় নারীঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে দুটি পৃথক অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ উঠেছে, যা দর্শনার্থীদের মধ্যে শঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ রয়েছে, মেলার প্রথম দিন ১ অক্টোবর এক নবদম্পতি কয়েকজন কিশোরের হেনস্তা ও মারধরের শিকার হন। স্টল ঘুরে দেখার সময় তাদের পথরোধ করে পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। স্ত্রী পরিচয় দেওয়ার পরও নানা ধরনের হয়রানি এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। পরবর্তীতে ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে ৩ অক্টোবর রাতে নারীঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে কিশোরদের দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এসব ঘটনার পর পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মেলায় ঘুরতে আসা অভিভাবক কিরণময় সরকার বলেন, সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকায় আগের মতো নিশ্চিন্তে মেলা উপভোগ করা যাচ্ছে না। একইভাবে কলেজশিক্ষার্থী চয়ন মণ্ডল জানান, সংঘর্ষ ও ধারালো অস্ত্র বহনের অভিযোগের কারণে অনেকেই মেলায় প্রবেশে সংকোচ বোধ করছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল ও সমাজচিন্তকরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শতবর্ষী এ ঐতিহ্যবাহী মেলার সুনাম ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষ করে নারী, শিশু ও পরিবার নিয়ে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় নাগরিক নেতারা।
Reporter Name 



















