
প্রতিনিধি,বানারীপাড়া(বরিশাল);
শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবার সরবরাহে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ১২৬ জন প্রধান শিক্ষকের অংশগ্রহণে আয়োজিত একটি ভোজসভা নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পরও কিছু প্রধান শিক্ষক ওই প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত ভোজে অংশ নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক, সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি প্রকল্পে নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। এ অবস্থায় অভিযোগের মুখে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে বিপুল সংখ্যক প্রধান শিক্ষকের অংশগ্রহণকে অনেকেই প্রশ্নবিদ্ধ হিসেবে দেখছেন।
সচেতন মহলের দাবি, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার দায়িত্ব শিক্ষকদের ওপরই বর্তায়। কিন্তু অভিযোগের তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমন ঘনিষ্ঠতা জনমনে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। অনেক অভিভাবক মনে করছেন, এতে দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকে ঘটনাটিকে শিক্ষকদের নৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেছেন। তবে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষার্থীদের কল্যাণসংশ্লিষ্ট যেকোনো প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণই শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।
Reporter Name 
























