
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ;
খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স সাহিদা বেগমকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একজন সরকারি কর্মচারীর নির্ধারিত বেতন কাঠামোর সঙ্গে তার নামে-বেনামে থাকা বিপুল সম্পদের কোনো সামঞ্জস্য নেই।
সরকারি বেতন স্কেল অনুযায়ী একজন সিনিয়র স্টাফ নার্সের মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এই আয়ের বাইরে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন সাহিদা বেগম। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের মূল্যবান ওষুধ বাইরে বিক্রি এবং রোগীদের খাদ্য সরবরাহ সংক্রান্ত কার্যক্রম থেকে তিনি কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মানিকছড়ি বাজারের কেন্দ্রস্থলে প্রায় ৩০ গন্ডা জমির ওপর একটি বড় আবাসিক ভবন, বাজারসংলগ্ন চারতলা বাণিজ্যিক ভবন, লেমুয়া এলাকায় প্রায় ৫০ একরের বাগানবাড়ি, পানজারাম পাড়ায় প্রায় ৪০ একরের ফলজ বাগান এবং কালাপানি এলাকায় প্রায় ১০০ একর কৃষিজমি রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
এছাড়া মানিকছড়ি থানা সংলগ্ন প্রায় ৩ একর জমির ওপর নির্মিত একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে প্রায় ৫০টি ভাড়া বাসা রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। চট্টগ্রাম শহরেও তার একটি পাঁচতলা ভবন ও একাধিক ফ্ল্যাট থাকার তথ্য বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া গেছে।পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্থায়ী আমানত রয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরির বেতন ব্যাংক থেকে উত্তোলন না করার তথ্য। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাহিদা বেগমের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ অবস্থায় স্থানীয় সচেতন মহল সম্পদের উৎস, অর্থের লেনদেন এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার তদন্ত দাবি করেছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।
Reporter Name 






















