Dhaka ০৪:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাতক্ষীরা পুকুরে ডুবে একই বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু সাতক্ষীরায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি দুই বছরেও কলেজে আসেননি সভাপতি, কাগজে-কলমে চলছে দায়িত্ব পালন! কাউখালীতে চরম নেটওয়ার্ক ভোগান্তি: সরকারি টেলিটক সেবা নিশ্চিত করার দাবি গ্রাহকদের সাতক্ষীরায় প্রবীণ ভিক্ষুককে পুনর্বাসনে ছাগল ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ সাতক্ষীরা সদর থানার দেয়ালেই অবৈধ স্থাপনার রাজত্ব! জনদূর্ভোগ চরমে সাতক্ষীরাকে মাদকমুক্ত করতে কঠোর অবস্থান, নতুন ২৩ আদালতে দ্রুত জনবল নিয়োগের আশ্বাস কলারোয়ায় খাস জমির পজেশন বিক্রির অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্ত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তে মিলেছে প্রাথমিক সত্যতা সাতক্ষীরার বিচার বিভাগের সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হবে: আইনমন্ত্রী সাতক্ষীরায় ট্রি অব লাইফের উদ্যোগে ৩ হাজার পানিবন্দি ও অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ

প্রবাসে স্বামী, দেশে স্ত্রীকে ঘিরে পরকীয়ার অভিযোগ; পাল্টাপাল্টি দোষারোপে উত্তপ্ত দুই পরিবার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:১২:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
  • ৩৭১ Time View

প্রতিনিধি,পিরোজপুর ;

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার জলাবাড়ি ইউনিয়নের গণপতিকাঠি গ্রামের বাসিন্দা দীপঙ্কর হালদারের মেয়ে দীপা হালদারকে ঘিরে পরকীয়ার অভিযোগ তুলেছেন তার স্বামী, বর্তমানে দুবাইপ্রবাসী শেখর মজুমদার। এ ঘটনায় দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চরমে পৌঁছেছে। তবে অভিযোগ স্বীকার করে দীপা হালদার দাবি করেছেন, স্বামীর অবহেলা ও অন্য নারীর সঙ্গে যোগাযোগের কারণেই তিনি পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন।

জানা গেছে, আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়নের আন্দাকুল গ্রামের বাসিন্দা শেখর মজুমদারের সঙ্গে ভালোবেসে বিয়ে হয় দীপা হালদারের। দীর্ঘ ৮বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। অভাব-অনটনের মধ্যেও তাদের সংসার ভালোভাবেই চলছিল। পরে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় স্ত্রী ও সন্তানকে রেখে দুবাইয়ে পাড়ি জমান শেখর। সেখানে ছয় মাস প্রশিক্ষণ শেষে তিনি ট্যাক্সিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং দেশে ফিরে সংসার গোছানোর স্বপ্ন দেখছিলেন।

শেখরের অভিযোগ, তার বিদেশ যাওয়ার কিছুদিন পর দীপা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। শুরুতে স্বামী ও মেয়েকে নিয়ে ছবি, ভিডিও পোস্ট করলেও ধীরে ধীরে নতুন বন্ধুদের সঙ্গে পরিচয় বাড়তে থাকে দীপার। একপর্যায়ে জয় হাওলাদার নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে পরকীয়ার সম্পর্কে রূপ নেয়। এর ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়ে সংসারে অশান্তি শুরু হয়।

 

শেখরের আরও অভিযোগ, শ্বশুর দীপঙ্কর হালদার ও শাশুড়ির প্রশ্রয়ে দীপা বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। মেয়ের চলাফেরা নিয়ে প্রথমদিকে আপত্তি থাকলেও পরে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে মেনে নেন শশুর শাশুড়ী। শেখরের দাবি, তাকে ডিভোর্স না দিয়েই জয় হাওলাদারের সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছেন দীপা এবং বেশ কয়েকদিন মেয়েকে বাড়িতে রেখে জয়ের বাড়িতেও অন্তরঙ্গ সময় কাটিয়েছেন।

 

তিনি আরো জানান, বিষয়টি জানতে পেরে জয় হাওলাদারকে নিষেধ করলেও কোনো ফল হয়নি। শেখরের ভাষ্য অনুযায়ী, জয় তাকে বলেছেন, “তোমার স্ত্রী যদি আমাকে ছাড়া না বাঁচতে চায়, তাহলে আমি কী করতে পারি?” এ নিয়ে তাদের মধ্যে কয়েকদিন ধরে বিরোধ চলতে থাকে। শেখরের দাবি, এলাকায় দীপা ও জয়ের সম্পর্ক সম্পর্কে প্রায় সবাই অবগত।

এদিকে বিদেশে যাওয়ার সময় শ্বশুরের দেওয়া অর্থ নিয়েও বিরোধ তৈরি হয়েছে। শেখরের অভিযোগ, তার শ্বশুর দাবি করছেন, শেখরের কাছে তাদের ৩০ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। স্ত্রী দীপাও তাকে বলেছেন, টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তিনি ডিভোর্স দেবেন না। একই সঙ্গে শ্বশুর তার বিরুদ্ধে ৩০ লাখ টাকার মিথ্যা মামলা দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছেন বলেও অভিযোগ করেন শেখর মজুমদার।

এ বিষয়ে দীপঙ্কর হালদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “খয়রাতি রাস্তায় উঠিয়ে বড়লোক বানিয়ে দিয়েছি, এখন কত কথা বলবে। আগে ওর নামে একটা মামলা দিই, তারপর ওকে দেখছি।”

 

অন্যদিকে, দীপা হালদার পরকীয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, স্বামীর অবহেলা ও অন্য মেয়েদের সঙ্গে যোগাযোগের কারণেই তিনি ওই সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। তার দাবি, এসবের প্রমাণ তার কাছে রয়েছে। তবে শেখর জয় হাওলাদারের সঙ্গে খারাপ আচরণ করায় বর্তমানে সেই সম্পর্ক আর নেই।

দীপার জবাবে শেখর মজুমদার বলেন, “এসব কথা ঠিক না। আমি তাকে পর্যাপ্ত সময় দিতাম। আমি অন্য কোনো মেয়ের সঙ্গে কথা বলিনি। আমি আর তার সঙ্গে সংসার করতে চাই না। সে মিথ্যা বলছে, এখনও ওই ছেলের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। তার বাবার কাছ থেকে আমি কোনো টাকা নিইনি। তার ছোট মেয়েকে বিয়ে দিয়ে সেখান থেকেও এখন টাকা দাবি করছে।

পরিশেষে দীপা জানিয়ে দিয়েছেন, তার বাবা যে টাকা দিয়েছে, সেই টাকা না পাওয়া পর্যন্ত আমি ডিভোর্স দেব না। তবে সে যদি সবকিছু ভুলে আবার আগের মতো আমাকে সময় দেয়, তাহলে আমি সব কিছু ভুলে তার সংসার করতে চাই।”

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতক্ষীরা পুকুরে ডুবে একই বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

প্রবাসে স্বামী, দেশে স্ত্রীকে ঘিরে পরকীয়ার অভিযোগ; পাল্টাপাল্টি দোষারোপে উত্তপ্ত দুই পরিবার

Update Time : ০৪:১২:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

প্রতিনিধি,পিরোজপুর ;

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার জলাবাড়ি ইউনিয়নের গণপতিকাঠি গ্রামের বাসিন্দা দীপঙ্কর হালদারের মেয়ে দীপা হালদারকে ঘিরে পরকীয়ার অভিযোগ তুলেছেন তার স্বামী, বর্তমানে দুবাইপ্রবাসী শেখর মজুমদার। এ ঘটনায় দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চরমে পৌঁছেছে। তবে অভিযোগ স্বীকার করে দীপা হালদার দাবি করেছেন, স্বামীর অবহেলা ও অন্য নারীর সঙ্গে যোগাযোগের কারণেই তিনি পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন।

জানা গেছে, আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়নের আন্দাকুল গ্রামের বাসিন্দা শেখর মজুমদারের সঙ্গে ভালোবেসে বিয়ে হয় দীপা হালদারের। দীর্ঘ ৮বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। অভাব-অনটনের মধ্যেও তাদের সংসার ভালোভাবেই চলছিল। পরে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় স্ত্রী ও সন্তানকে রেখে দুবাইয়ে পাড়ি জমান শেখর। সেখানে ছয় মাস প্রশিক্ষণ শেষে তিনি ট্যাক্সিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং দেশে ফিরে সংসার গোছানোর স্বপ্ন দেখছিলেন।

শেখরের অভিযোগ, তার বিদেশ যাওয়ার কিছুদিন পর দীপা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। শুরুতে স্বামী ও মেয়েকে নিয়ে ছবি, ভিডিও পোস্ট করলেও ধীরে ধীরে নতুন বন্ধুদের সঙ্গে পরিচয় বাড়তে থাকে দীপার। একপর্যায়ে জয় হাওলাদার নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে পরকীয়ার সম্পর্কে রূপ নেয়। এর ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়ে সংসারে অশান্তি শুরু হয়।

 

শেখরের আরও অভিযোগ, শ্বশুর দীপঙ্কর হালদার ও শাশুড়ির প্রশ্রয়ে দীপা বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। মেয়ের চলাফেরা নিয়ে প্রথমদিকে আপত্তি থাকলেও পরে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে মেনে নেন শশুর শাশুড়ী। শেখরের দাবি, তাকে ডিভোর্স না দিয়েই জয় হাওলাদারের সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছেন দীপা এবং বেশ কয়েকদিন মেয়েকে বাড়িতে রেখে জয়ের বাড়িতেও অন্তরঙ্গ সময় কাটিয়েছেন।

 

তিনি আরো জানান, বিষয়টি জানতে পেরে জয় হাওলাদারকে নিষেধ করলেও কোনো ফল হয়নি। শেখরের ভাষ্য অনুযায়ী, জয় তাকে বলেছেন, “তোমার স্ত্রী যদি আমাকে ছাড়া না বাঁচতে চায়, তাহলে আমি কী করতে পারি?” এ নিয়ে তাদের মধ্যে কয়েকদিন ধরে বিরোধ চলতে থাকে। শেখরের দাবি, এলাকায় দীপা ও জয়ের সম্পর্ক সম্পর্কে প্রায় সবাই অবগত।

এদিকে বিদেশে যাওয়ার সময় শ্বশুরের দেওয়া অর্থ নিয়েও বিরোধ তৈরি হয়েছে। শেখরের অভিযোগ, তার শ্বশুর দাবি করছেন, শেখরের কাছে তাদের ৩০ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। স্ত্রী দীপাও তাকে বলেছেন, টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তিনি ডিভোর্স দেবেন না। একই সঙ্গে শ্বশুর তার বিরুদ্ধে ৩০ লাখ টাকার মিথ্যা মামলা দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছেন বলেও অভিযোগ করেন শেখর মজুমদার।

এ বিষয়ে দীপঙ্কর হালদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “খয়রাতি রাস্তায় উঠিয়ে বড়লোক বানিয়ে দিয়েছি, এখন কত কথা বলবে। আগে ওর নামে একটা মামলা দিই, তারপর ওকে দেখছি।”

 

অন্যদিকে, দীপা হালদার পরকীয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, স্বামীর অবহেলা ও অন্য মেয়েদের সঙ্গে যোগাযোগের কারণেই তিনি ওই সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। তার দাবি, এসবের প্রমাণ তার কাছে রয়েছে। তবে শেখর জয় হাওলাদারের সঙ্গে খারাপ আচরণ করায় বর্তমানে সেই সম্পর্ক আর নেই।

দীপার জবাবে শেখর মজুমদার বলেন, “এসব কথা ঠিক না। আমি তাকে পর্যাপ্ত সময় দিতাম। আমি অন্য কোনো মেয়ের সঙ্গে কথা বলিনি। আমি আর তার সঙ্গে সংসার করতে চাই না। সে মিথ্যা বলছে, এখনও ওই ছেলের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। তার বাবার কাছ থেকে আমি কোনো টাকা নিইনি। তার ছোট মেয়েকে বিয়ে দিয়ে সেখান থেকেও এখন টাকা দাবি করছে।

পরিশেষে দীপা জানিয়ে দিয়েছেন, তার বাবা যে টাকা দিয়েছে, সেই টাকা না পাওয়া পর্যন্ত আমি ডিভোর্স দেব না। তবে সে যদি সবকিছু ভুলে আবার আগের মতো আমাকে সময় দেয়, তাহলে আমি সব কিছু ভুলে তার সংসার করতে চাই।”

Spread the love