Dhaka ১০:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উন্নয়ন ও মানবিক উদ্যোগে বলদিয়াবাসীর আস্থার নাম সাইফুল ইসলাম, চেয়ারম্যান পদে নতুন সমীকরণ  নেছারাবাদে দুই সেতুর মালামাল চুরির অভিযোগ; অভিযুক্ত যুবকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি এলাকাবাসীর প্রবাসে স্বামী, দেশে স্ত্রীকে ঘিরে পরকীয়ার অভিযোগ; পাল্টাপাল্টি দোষারোপে উত্তপ্ত দুই পরিবার পাটকেলঘাটা থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ৪ বোতল উইনকোরেক্স সহ ০২ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে সাড়ে ১৫ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ “সেবার ব্রতে চাকরি” বাংলাদেশ পুলিশের ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ, ২য় দিনের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত: কাউখালীতে ব্র্যাকের উদ্যোগে স্বপ্ন সারথির দলের কিশোরীদের সমাপনী অনুষ্ঠান কাউখালীতে দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়ক চলাচলের অযোগ্য, ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো ব্যবহার করছে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ আট বছর পর শিশু রিফাত হত্যা মামলার রায়: বগুড়ায় পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড সাতক্ষীরার গ্রাহকরা ১ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হলে বাঁচবে ৩০৪ কোটি টাকা

নেছারাবাদে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন অনুউপস্থিত থেকেও বেতন উত্তোলনের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:২৬:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • ৪৮ Time View

0-0x0-1-0#

 

প্রতিনিধি,নেছারাবাদ (পিরোজপুর)

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সুটিয়াকাঠি ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকেও বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, শামীমা নাসরিন মাঝে মধ্যে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করলেও নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নেন না। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, তারা ওই শিক্ষিকাকে খুব কমই দেখেছেন। নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, “আপা মাঝে মধ্যে স্কুলে আসেন, তবে আমাদের ক্লাস নিতে দেখিনি।”

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকা অনিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান। তবে প্রধান শিক্ষক দাবি করেছেন, তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন এবং পাঠদান করেন।

 

গত ১৯ জুন বৃহস্পতিবার অভিযোগের ভিত্তিতে বিদ্যালয়ে গিয়ে ওই শিক্ষিকাকে পাওয়া যায়নি। হাজিরা খাতা পর্যালোচনায় গত এক সপ্তাহে তার কোনো স্বাক্ষরও পাওয়া যায়নি।

 

এ বিষয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক শাজাহান জানান, শামীমা নাসরিন অনিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ে আসেন। তিনি বলেন, “তার কিছু শারীরিক ও মানসিক সমস্যা রয়েছে। মাঝে মধ্যে এসে স্বাক্ষর দিয়ে চলে যান। ক্লাস নেন না বললেই চলে। প্রায় এক বছর ধরে এভাবেই চলছে। তার পরিবর্তে দুজন বদলি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে।”তবে ওই দুই বদলি শিক্ষক—পলাশ ও আশিক—কেও বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি তবে দুপুরের পর একজন শিক্ষক আসবেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত পারিশ্রমিক না পাওয়ায় তারাও অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক দাবি করেন, সপ্তাহে একদিন বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা দিয়ে চলে যান শামীমা নাসরিন। তার বেতন থেকেই দুই বদলি শিক্ষকের পারিশ্রমিক দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

 

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে শামীমা নাসরিন সাংবাদিকদের সামনে না এসে দরজার আড়াল থেকে বলেন, “আমি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। আপনারা স্কুলে গিয়ে কথা বলেন।”

 

এদিকে প্রধান শিক্ষক জানান, জরুরি কাজে তিনি বরিশালে অবস্থান করছেন। শিক্ষিকার অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বলেন, তিনি নিয়মিত ক্লাস নেন এবং ওই দিনও বিদ্যালয়ে এসেছিলেন। পরে জানান, তিনি চিকিৎসকের কাছে গিয়েছেন। পরবর্তীতে আবার বলেন, তিনি চার দিনের ছুটিতে রয়েছেন। আপনার রবিবার আসেন।

 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।”

 

নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দত্ত বলেন, “বিষয়টি শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে দেখা হবে। দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

উন্নয়ন ও মানবিক উদ্যোগে বলদিয়াবাসীর আস্থার নাম সাইফুল ইসলাম, চেয়ারম্যান পদে নতুন সমীকরণ 

নেছারাবাদে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন অনুউপস্থিত থেকেও বেতন উত্তোলনের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের

Update Time : ০৫:২৬:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

 

প্রতিনিধি,নেছারাবাদ (পিরোজপুর)

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সুটিয়াকাঠি ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকেও বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, শামীমা নাসরিন মাঝে মধ্যে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করলেও নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নেন না। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, তারা ওই শিক্ষিকাকে খুব কমই দেখেছেন। নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, “আপা মাঝে মধ্যে স্কুলে আসেন, তবে আমাদের ক্লাস নিতে দেখিনি।”

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকা অনিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান। তবে প্রধান শিক্ষক দাবি করেছেন, তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন এবং পাঠদান করেন।

 

গত ১৯ জুন বৃহস্পতিবার অভিযোগের ভিত্তিতে বিদ্যালয়ে গিয়ে ওই শিক্ষিকাকে পাওয়া যায়নি। হাজিরা খাতা পর্যালোচনায় গত এক সপ্তাহে তার কোনো স্বাক্ষরও পাওয়া যায়নি।

 

এ বিষয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক শাজাহান জানান, শামীমা নাসরিন অনিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ে আসেন। তিনি বলেন, “তার কিছু শারীরিক ও মানসিক সমস্যা রয়েছে। মাঝে মধ্যে এসে স্বাক্ষর দিয়ে চলে যান। ক্লাস নেন না বললেই চলে। প্রায় এক বছর ধরে এভাবেই চলছে। তার পরিবর্তে দুজন বদলি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে।”তবে ওই দুই বদলি শিক্ষক—পলাশ ও আশিক—কেও বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি তবে দুপুরের পর একজন শিক্ষক আসবেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত পারিশ্রমিক না পাওয়ায় তারাও অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক দাবি করেন, সপ্তাহে একদিন বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা দিয়ে চলে যান শামীমা নাসরিন। তার বেতন থেকেই দুই বদলি শিক্ষকের পারিশ্রমিক দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

 

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে শামীমা নাসরিন সাংবাদিকদের সামনে না এসে দরজার আড়াল থেকে বলেন, “আমি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। আপনারা স্কুলে গিয়ে কথা বলেন।”

 

এদিকে প্রধান শিক্ষক জানান, জরুরি কাজে তিনি বরিশালে অবস্থান করছেন। শিক্ষিকার অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বলেন, তিনি নিয়মিত ক্লাস নেন এবং ওই দিনও বিদ্যালয়ে এসেছিলেন। পরে জানান, তিনি চিকিৎসকের কাছে গিয়েছেন। পরবর্তীতে আবার বলেন, তিনি চার দিনের ছুটিতে রয়েছেন। আপনার রবিবার আসেন।

 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।”

 

নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দত্ত বলেন, “বিষয়টি শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে দেখা হবে। দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Spread the love