Dhaka ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেঙ্গু রোগীতে উপচে পড়ছে কাউখালী হাসপাতাল, বাড়ছে উদ্বেগ সাতক্ষীরায় ‘গরীবের মেহমানখানা’ কর্মসূচিতে অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ কালিগঞ্জে সেভেন আপের বোতলে রাখা ঘাসমারা ওষুধ পান করে ব্যবসায়ীর মৃত্যু সদর সার্কেল অফিসের বার্ষিক পরিদর্শন করলেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার কাউখালীতে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান, দুই প্রতিষ্ঠানকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা বানারীপাড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ, ফ্যাক্ট চেকিং ও গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা শীর্ষক মতবিনিময় সভা রামপালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি বানারীপাড়ায় ৯ বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ সাতক্ষীরায় প্রাক্তন নিবন্ধিত শিশু ও যুবদের নিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরার রসুলপুরে অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

বিয়ের নামে নির্মম প্রতারণা: ডিভোর্সের পরও অন্ধকারে রেখে তরুণীকে ভোগের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:২৬:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
  • ৪২০ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক, বানারীপাড়া:

​আগের স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় ন্যায়বিচারের আশায় ইউনিয়ন পরিষদে এসেছিলেন এক অসহায় তরুণী। কিন্তু সেখানে বিচার পাওয়া তো দূরের কথা, উল্টো এক নতুন প্রতারণার জালে ফেঁসে আজ তাঁর জীবন বিপন্ন। পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ দেওয়ার সূত্র ধরেই ওই তরুণীর পরিচয় হয় বানারীপাড়ার গাভা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাজিয়া খানমের ছেলে তানভির আহম্মেদ রানা ওরফে রাসেদের সাথে।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, আগের সংসার হারিয়ে দিশেহারা তরুণীটি রাসেদের সহানুভূতি ও ভালোবাসার ফাঁদে পা দেন। গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। একপর্যায়ে রাসেদ তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং পটুয়াখালীর কুয়াকাটার একটি হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে জাহিদুল ইসলাম নামের এক কাজীর মাধ্যমে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। জানা গেছে, ওই হোটেলটির মালিক বানারীপাড়ারই বাসিন্দা রাসেল নামের এক ব্যক্তি।

​সম্প্রতি ওই তরুণী ও রাসেদের বিয়ের কাবিননামা সামনে এলে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। কাবিননামায় রাসেদ নিজেকে ‘অবিবাহিত’ বলে উল্লেখ করলেও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, রাসেদের ঘরে আগে থেকেই স্ত্রী রয়েছে। অর্থাৎ, প্রথম থেকেই পুরো বিয়ের বিষয়টি সাজানো হয়েছিল চরম মিথ্যা ও জালিয়াতির ওপর ভিত্তি করে।

​বিয়ের পর নতুন স্ত্রীকে ঘরে তুলতে বাধা হয়ে দাঁড়ান রাসেদের মা, যিনি নিজে একজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। মায়ের দোহাই দিয়ে এবং চাকরি খোঁজার অজুহাতে রাসেদ কৌশলে ওই তরুণীকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়। সরল বিশ্বাসে সুখের আশায় তিনি ঢাকায় গিয়ে একটি ছোট চাকরি নেন। রাসেদ ঢাকায় একটি বাসা ভাড়া করে দিলেও, সেই বাসার ভাড়া মেয়েটি নিজেই পরিশোধ করতেন। রাসেদ মাঝে মাঝে ঢাকায় গিয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে তাঁর সাথে সময় কাটাত। এভাবে দীর্ঘ ৩টি বছর কেটে গেলেও রাসেদ তাকে নিজের বাড়িতে তুলে নেয়নি। ছুটির দিনে তরুণীটি এলাকায় আসলে তাঁরা বিভিন্ন হোটেল ও দর্শনীয় স্থানে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ঘুরে বেড়াতেন।

​সম্প্রতি ওই তরুণীর পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যায়, যখন তিনি আকস্মিক তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে একটি ডিভোর্স লেটার (তালাকনামা) পান। কোনো কারণ ছাড়াই এই ডিভোর্স দেওয়ায় তিনি হতবাক হয়ে যান। তবে সবচেয়ে নির্মম বিষয় হলো, ডিভোর্স লেটারে যে তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে, তার পরেও রাসেদ একাধিকবার বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ওই তরুণীর সাথে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে রাত কাটিয়েছেন এবং শারীরিক সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। তরুণীটি ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে তাঁকে গোপনে তালাক দেওয়া হয়েছে। আইনগতভাবে তালাক দেওয়ার পরেও একজন নারীকে অন্ধকারে রেখে তাঁর সাথে এমন আচরণ করা চরম অপরাধ ও প্রতারণা বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

​সন্তানের এমন কর্মকাণ্ডের পেছনে খোদ মায়ের পরোক্ষ সমর্থন রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত রাসেদের মা, যিনি নিজে একজন নারী এবং সমাজের আলো ছড়ানোর কারিগর (প্রধান শিক্ষিকা), তাঁর একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়— ‘ডিভোর্সের পর কাজীর কথা মতো তিন মাস ছেলে-মেয়েকে না বোঝানোর জন্য ছেলে মেয়ের সাথে এমনটা করেছে।’ একজন প্রধান শিক্ষিকার মুখে এমন নীতিবিগর্হিত মন্তব্য পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

​প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই তরুণী। নিজের অধিকার ও স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে তিনি বানারীপাড়ায় রাসেদের বাড়িতে যান। কিন্তু সেখানে তাঁকে চরম হেনস্থা ও অপমান করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সমাজের প্রভাবশালী ও মাতব্বরদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন, কিন্তু প্রধান শিক্ষিকার পরিবারের প্রভাবের কারণে কোথাও কোনো সুষ্ঠু বিচার পাচ্ছেন না।

​বিয়ের নামে এই নির্মম জালিয়াতি, প্রতারণা এবং ডিভোর্সের পর এক নারীকে অন্ধকূপে রেখে ভোগ করার এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গু রোগীতে উপচে পড়ছে কাউখালী হাসপাতাল, বাড়ছে উদ্বেগ

বিয়ের নামে নির্মম প্রতারণা: ডিভোর্সের পরও অন্ধকারে রেখে তরুণীকে ভোগের অভিযোগ

Update Time : ০৬:২৬:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, বানারীপাড়া:

​আগের স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় ন্যায়বিচারের আশায় ইউনিয়ন পরিষদে এসেছিলেন এক অসহায় তরুণী। কিন্তু সেখানে বিচার পাওয়া তো দূরের কথা, উল্টো এক নতুন প্রতারণার জালে ফেঁসে আজ তাঁর জীবন বিপন্ন। পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ দেওয়ার সূত্র ধরেই ওই তরুণীর পরিচয় হয় বানারীপাড়ার গাভা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাজিয়া খানমের ছেলে তানভির আহম্মেদ রানা ওরফে রাসেদের সাথে।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, আগের সংসার হারিয়ে দিশেহারা তরুণীটি রাসেদের সহানুভূতি ও ভালোবাসার ফাঁদে পা দেন। গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। একপর্যায়ে রাসেদ তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং পটুয়াখালীর কুয়াকাটার একটি হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে জাহিদুল ইসলাম নামের এক কাজীর মাধ্যমে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। জানা গেছে, ওই হোটেলটির মালিক বানারীপাড়ারই বাসিন্দা রাসেল নামের এক ব্যক্তি।

​সম্প্রতি ওই তরুণী ও রাসেদের বিয়ের কাবিননামা সামনে এলে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। কাবিননামায় রাসেদ নিজেকে ‘অবিবাহিত’ বলে উল্লেখ করলেও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, রাসেদের ঘরে আগে থেকেই স্ত্রী রয়েছে। অর্থাৎ, প্রথম থেকেই পুরো বিয়ের বিষয়টি সাজানো হয়েছিল চরম মিথ্যা ও জালিয়াতির ওপর ভিত্তি করে।

​বিয়ের পর নতুন স্ত্রীকে ঘরে তুলতে বাধা হয়ে দাঁড়ান রাসেদের মা, যিনি নিজে একজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। মায়ের দোহাই দিয়ে এবং চাকরি খোঁজার অজুহাতে রাসেদ কৌশলে ওই তরুণীকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়। সরল বিশ্বাসে সুখের আশায় তিনি ঢাকায় গিয়ে একটি ছোট চাকরি নেন। রাসেদ ঢাকায় একটি বাসা ভাড়া করে দিলেও, সেই বাসার ভাড়া মেয়েটি নিজেই পরিশোধ করতেন। রাসেদ মাঝে মাঝে ঢাকায় গিয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে তাঁর সাথে সময় কাটাত। এভাবে দীর্ঘ ৩টি বছর কেটে গেলেও রাসেদ তাকে নিজের বাড়িতে তুলে নেয়নি। ছুটির দিনে তরুণীটি এলাকায় আসলে তাঁরা বিভিন্ন হোটেল ও দর্শনীয় স্থানে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ঘুরে বেড়াতেন।

​সম্প্রতি ওই তরুণীর পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যায়, যখন তিনি আকস্মিক তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে একটি ডিভোর্স লেটার (তালাকনামা) পান। কোনো কারণ ছাড়াই এই ডিভোর্স দেওয়ায় তিনি হতবাক হয়ে যান। তবে সবচেয়ে নির্মম বিষয় হলো, ডিভোর্স লেটারে যে তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে, তার পরেও রাসেদ একাধিকবার বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ওই তরুণীর সাথে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে রাত কাটিয়েছেন এবং শারীরিক সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। তরুণীটি ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে তাঁকে গোপনে তালাক দেওয়া হয়েছে। আইনগতভাবে তালাক দেওয়ার পরেও একজন নারীকে অন্ধকারে রেখে তাঁর সাথে এমন আচরণ করা চরম অপরাধ ও প্রতারণা বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

​সন্তানের এমন কর্মকাণ্ডের পেছনে খোদ মায়ের পরোক্ষ সমর্থন রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত রাসেদের মা, যিনি নিজে একজন নারী এবং সমাজের আলো ছড়ানোর কারিগর (প্রধান শিক্ষিকা), তাঁর একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়— ‘ডিভোর্সের পর কাজীর কথা মতো তিন মাস ছেলে-মেয়েকে না বোঝানোর জন্য ছেলে মেয়ের সাথে এমনটা করেছে।’ একজন প্রধান শিক্ষিকার মুখে এমন নীতিবিগর্হিত মন্তব্য পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

​প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই তরুণী। নিজের অধিকার ও স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে তিনি বানারীপাড়ায় রাসেদের বাড়িতে যান। কিন্তু সেখানে তাঁকে চরম হেনস্থা ও অপমান করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সমাজের প্রভাবশালী ও মাতব্বরদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন, কিন্তু প্রধান শিক্ষিকার পরিবারের প্রভাবের কারণে কোথাও কোনো সুষ্ঠু বিচার পাচ্ছেন না।

​বিয়ের নামে এই নির্মম জালিয়াতি, প্রতারণা এবং ডিভোর্সের পর এক নারীকে অন্ধকূপে রেখে ভোগ করার এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

Spread the love