প্রতিনিধি,পিরোজপুর ;
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার জলাবাড়ি ইউনিয়নের গণপতিকাঠি গ্রামের বাসিন্দা দীপঙ্কর হালদারের মেয়ে দীপা হালদারকে ঘিরে পরকীয়ার অভিযোগ তুলেছেন তার স্বামী, বর্তমানে দুবাইপ্রবাসী শেখর মজুমদার। এ ঘটনায় দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চরমে পৌঁছেছে। তবে অভিযোগ স্বীকার করে দীপা হালদার দাবি করেছেন, স্বামীর অবহেলা ও অন্য নারীর সঙ্গে যোগাযোগের কারণেই তিনি পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন।

জানা গেছে, আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়নের আন্দাকুল গ্রামের বাসিন্দা শেখর মজুমদারের সঙ্গে ভালোবেসে বিয়ে হয় দীপা হালদারের। দীর্ঘ ৮বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। অভাব-অনটনের মধ্যেও তাদের সংসার ভালোভাবেই চলছিল। পরে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় স্ত্রী ও সন্তানকে রেখে দুবাইয়ে পাড়ি জমান শেখর। সেখানে ছয় মাস প্রশিক্ষণ শেষে তিনি ট্যাক্সিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং দেশে ফিরে সংসার গোছানোর স্বপ্ন দেখছিলেন।

শেখরের অভিযোগ, তার বিদেশ যাওয়ার কিছুদিন পর দীপা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। শুরুতে স্বামী ও মেয়েকে নিয়ে ছবি, ভিডিও পোস্ট করলেও ধীরে ধীরে নতুন বন্ধুদের সঙ্গে পরিচয় বাড়তে থাকে দীপার। একপর্যায়ে জয় হাওলাদার নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে পরকীয়ার সম্পর্কে রূপ নেয়। এর ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়ে সংসারে অশান্তি শুরু হয়।
শেখরের আরও অভিযোগ, শ্বশুর দীপঙ্কর হালদার ও শাশুড়ির প্রশ্রয়ে দীপা বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। মেয়ের চলাফেরা নিয়ে প্রথমদিকে আপত্তি থাকলেও পরে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে মেনে নেন শশুর শাশুড়ী। শেখরের দাবি, তাকে ডিভোর্স না দিয়েই জয় হাওলাদারের সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছেন দীপা এবং বেশ কয়েকদিন মেয়েকে বাড়িতে রেখে জয়ের বাড়িতেও অন্তরঙ্গ সময় কাটিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, বিষয়টি জানতে পেরে জয় হাওলাদারকে নিষেধ করলেও কোনো ফল হয়নি। শেখরের ভাষ্য অনুযায়ী, জয় তাকে বলেছেন, “তোমার স্ত্রী যদি আমাকে ছাড়া না বাঁচতে চায়, তাহলে আমি কী করতে পারি?” এ নিয়ে তাদের মধ্যে কয়েকদিন ধরে বিরোধ চলতে থাকে। শেখরের দাবি, এলাকায় দীপা ও জয়ের সম্পর্ক সম্পর্কে প্রায় সবাই অবগত।

এদিকে বিদেশে যাওয়ার সময় শ্বশুরের দেওয়া অর্থ নিয়েও বিরোধ তৈরি হয়েছে। শেখরের অভিযোগ, তার শ্বশুর দাবি করছেন, শেখরের কাছে তাদের ৩০ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। স্ত্রী দীপাও তাকে বলেছেন, টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তিনি ডিভোর্স দেবেন না। একই সঙ্গে শ্বশুর তার বিরুদ্ধে ৩০ লাখ টাকার মিথ্যা মামলা দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছেন বলেও অভিযোগ করেন শেখর মজুমদার।

এ বিষয়ে দীপঙ্কর হালদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “খয়রাতি রাস্তায় উঠিয়ে বড়লোক বানিয়ে দিয়েছি, এখন কত কথা বলবে। আগে ওর নামে একটা মামলা দিই, তারপর ওকে দেখছি।”
অন্যদিকে, দীপা হালদার পরকীয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, স্বামীর অবহেলা ও অন্য মেয়েদের সঙ্গে যোগাযোগের কারণেই তিনি ওই সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। তার দাবি, এসবের প্রমাণ তার কাছে রয়েছে। তবে শেখর জয় হাওলাদারের সঙ্গে খারাপ আচরণ করায় বর্তমানে সেই সম্পর্ক আর নেই।

দীপার জবাবে শেখর মজুমদার বলেন, “এসব কথা ঠিক না। আমি তাকে পর্যাপ্ত সময় দিতাম। আমি অন্য কোনো মেয়ের সঙ্গে কথা বলিনি। আমি আর তার সঙ্গে সংসার করতে চাই না। সে মিথ্যা বলছে, এখনও ওই ছেলের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। তার বাবার কাছ থেকে আমি কোনো টাকা নিইনি। তার ছোট মেয়েকে বিয়ে দিয়ে সেখান থেকেও এখন টাকা দাবি করছে।

পরিশেষে দীপা জানিয়ে দিয়েছেন, তার বাবা যে টাকা দিয়েছে, সেই টাকা না পাওয়া পর্যন্ত আমি ডিভোর্স দেব না। তবে সে যদি সবকিছু ভুলে আবার আগের মতো আমাকে সময় দেয়, তাহলে আমি সব কিছু ভুলে তার সংসার করতে চাই।”