Dhaka ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কাউখালীতে মাঝরাতে কঁচা নদীতে ট্রলার বিকল, ৫০-৬০ ইজতেমাযাত্রীকে উদ্ধার করল নৌ পুলিশ বানারীপাড়ার ওসির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, দাবি পুলিশের   সাতক্ষীরায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, বিতর্কিত তালিকা বাতিলের দাবি সাতক্ষীরায় পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষার্থীদের খতিয়ান বই পর্যালোচনা ও প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত কাউখালীতে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান, ২ হাজার ৫০০ মিটার অবৈধ জাল জব্দ কাউখালীতে নারীদের স্বাবলম্বী করতে হাঁস-মুরগি পালনবিষয়ক প্রশিক্ষণ শুরু সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্স মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাবের উদ্বোধন কাউখালীতে নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত কাউখালীতে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উদযাপন কাউখালীতে পচা খাবার ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা

নেছারাবাদে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন অনুউপস্থিত থেকেও বেতন উত্তোলনের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:২৬:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • ১৪৩ Time View

0-0x0-1-0#

 

প্রতিনিধি,নেছারাবাদ (পিরোজপুর)

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সুটিয়াকাঠি ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকেও বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, শামীমা নাসরিন মাঝে মধ্যে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করলেও নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নেন না। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, তারা ওই শিক্ষিকাকে খুব কমই দেখেছেন। নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, “আপা মাঝে মধ্যে স্কুলে আসেন, তবে আমাদের ক্লাস নিতে দেখিনি।”

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকা অনিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান। তবে প্রধান শিক্ষক দাবি করেছেন, তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন এবং পাঠদান করেন।

 

গত ১৯ জুন বৃহস্পতিবার অভিযোগের ভিত্তিতে বিদ্যালয়ে গিয়ে ওই শিক্ষিকাকে পাওয়া যায়নি। হাজিরা খাতা পর্যালোচনায় গত এক সপ্তাহে তার কোনো স্বাক্ষরও পাওয়া যায়নি।

 

এ বিষয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক শাজাহান জানান, শামীমা নাসরিন অনিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ে আসেন। তিনি বলেন, “তার কিছু শারীরিক ও মানসিক সমস্যা রয়েছে। মাঝে মধ্যে এসে স্বাক্ষর দিয়ে চলে যান। ক্লাস নেন না বললেই চলে। প্রায় এক বছর ধরে এভাবেই চলছে। তার পরিবর্তে দুজন বদলি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে।”তবে ওই দুই বদলি শিক্ষক—পলাশ ও আশিক—কেও বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি তবে দুপুরের পর একজন শিক্ষক আসবেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত পারিশ্রমিক না পাওয়ায় তারাও অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক দাবি করেন, সপ্তাহে একদিন বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা দিয়ে চলে যান শামীমা নাসরিন। তার বেতন থেকেই দুই বদলি শিক্ষকের পারিশ্রমিক দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

 

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে শামীমা নাসরিন সাংবাদিকদের সামনে না এসে দরজার আড়াল থেকে বলেন, “আমি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। আপনারা স্কুলে গিয়ে কথা বলেন।”

 

এদিকে প্রধান শিক্ষক জানান, জরুরি কাজে তিনি বরিশালে অবস্থান করছেন। শিক্ষিকার অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বলেন, তিনি নিয়মিত ক্লাস নেন এবং ওই দিনও বিদ্যালয়ে এসেছিলেন। পরে জানান, তিনি চিকিৎসকের কাছে গিয়েছেন। পরবর্তীতে আবার বলেন, তিনি চার দিনের ছুটিতে রয়েছেন। আপনার রবিবার আসেন।

 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।”

 

নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দত্ত বলেন, “বিষয়টি শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে দেখা হবে। দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কাউখালীতে মাঝরাতে কঁচা নদীতে ট্রলার বিকল, ৫০-৬০ ইজতেমাযাত্রীকে উদ্ধার করল নৌ পুলিশ

নেছারাবাদে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন অনুউপস্থিত থেকেও বেতন উত্তোলনের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের

Update Time : ০৫:২৬:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

 

প্রতিনিধি,নেছারাবাদ (পিরোজপুর)

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সুটিয়াকাঠি ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকেও বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, শামীমা নাসরিন মাঝে মধ্যে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করলেও নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নেন না। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, তারা ওই শিক্ষিকাকে খুব কমই দেখেছেন। নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, “আপা মাঝে মধ্যে স্কুলে আসেন, তবে আমাদের ক্লাস নিতে দেখিনি।”

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকা অনিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান। তবে প্রধান শিক্ষক দাবি করেছেন, তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন এবং পাঠদান করেন।

 

গত ১৯ জুন বৃহস্পতিবার অভিযোগের ভিত্তিতে বিদ্যালয়ে গিয়ে ওই শিক্ষিকাকে পাওয়া যায়নি। হাজিরা খাতা পর্যালোচনায় গত এক সপ্তাহে তার কোনো স্বাক্ষরও পাওয়া যায়নি।

 

এ বিষয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক শাজাহান জানান, শামীমা নাসরিন অনিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ে আসেন। তিনি বলেন, “তার কিছু শারীরিক ও মানসিক সমস্যা রয়েছে। মাঝে মধ্যে এসে স্বাক্ষর দিয়ে চলে যান। ক্লাস নেন না বললেই চলে। প্রায় এক বছর ধরে এভাবেই চলছে। তার পরিবর্তে দুজন বদলি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে।”তবে ওই দুই বদলি শিক্ষক—পলাশ ও আশিক—কেও বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি তবে দুপুরের পর একজন শিক্ষক আসবেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত পারিশ্রমিক না পাওয়ায় তারাও অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক দাবি করেন, সপ্তাহে একদিন বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা দিয়ে চলে যান শামীমা নাসরিন। তার বেতন থেকেই দুই বদলি শিক্ষকের পারিশ্রমিক দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

 

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে শামীমা নাসরিন সাংবাদিকদের সামনে না এসে দরজার আড়াল থেকে বলেন, “আমি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। আপনারা স্কুলে গিয়ে কথা বলেন।”

 

এদিকে প্রধান শিক্ষক জানান, জরুরি কাজে তিনি বরিশালে অবস্থান করছেন। শিক্ষিকার অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বলেন, তিনি নিয়মিত ক্লাস নেন এবং ওই দিনও বিদ্যালয়ে এসেছিলেন। পরে জানান, তিনি চিকিৎসকের কাছে গিয়েছেন। পরবর্তীতে আবার বলেন, তিনি চার দিনের ছুটিতে রয়েছেন। আপনার রবিবার আসেন।

 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।”

 

নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দত্ত বলেন, “বিষয়টি শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে দেখা হবে। দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Spread the love