Dhaka ১২:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেঙ্গু রোগীতে উপচে পড়ছে কাউখালী হাসপাতাল, বাড়ছে উদ্বেগ সাতক্ষীরায় ‘গরীবের মেহমানখানা’ কর্মসূচিতে অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ কালিগঞ্জে সেভেন আপের বোতলে রাখা ঘাসমারা ওষুধ পান করে ব্যবসায়ীর মৃত্যু সদর সার্কেল অফিসের বার্ষিক পরিদর্শন করলেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার কাউখালীতে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান, দুই প্রতিষ্ঠানকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা বানারীপাড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ, ফ্যাক্ট চেকিং ও গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা শীর্ষক মতবিনিময় সভা রামপালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি বানারীপাড়ায় ৯ বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ সাতক্ষীরায় প্রাক্তন নিবন্ধিত শিশু ও যুবদের নিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরার রসুলপুরে অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

তিনটি সনদই জাল: প্রধান শিক্ষক চাকরিচ্যুত, পদে ফেরার চেষ্টা ও অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৫৯:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৮০ Time View

 

প্রতিনিধি,বানারীপাড়া ;

বানারীপাড়া উপজেলার ধারালিয়া সৈয়দ বজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসাইনের বিরুদ্ধে জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি চাকরি হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি পুনরায় পদে ফেরার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন এবং এ নিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি তারিকুল ইসলাম খানসহ একাধিক সদস্য জানান, ২০১০ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই জাহাঙ্গীর হোসাইনের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ নিয়ে তাদের সন্দেহ তৈরি হয়। বিষয়টি নিশ্চিত হতে তারা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছে সনদ যাচাইয়ের উদ্যোগ নেন।

গত ১৮ আগস্ট রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা এবং দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে সনদ যাচাইয়ের আবেদন করা হয়। এর প্রেক্ষিতে রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহামুদা বেগম ১৫ সেপ্টেম্বর জানান, ২০০৭ সালের এমএ (ইংরেজি) পরীক্ষায় সিজিপিএ ৩.৪২-এর যে সনদ জাহাঙ্গীর হোসাইন দাখিল করেছেন, তা সম্পূর্ণ জাল। এছাড়া ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য বিষয়ে এমএ কোর্সই নেই বলেও নিশ্চিত করা হয়।

অন্যদিকে, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও জানানো হয়, জাহাঙ্গীর হোসাইন সেখানে কোনো পরীক্ষায় অংশগ্রহণই করেননি। তবুও তিনি ২০০৭ সালের এমএ, ২০০৮ সালের বিএড এবং ২০০৯ সালের এমএড পাসের সনদ জমা দেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তৎকালীন চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মান্নান জানান, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৬ সালের আগে ভর্তি হয়ে উত্তীর্ণদের সনদ বৈধ হিসেবে বিবেচিত হলেও পরবর্তী সময়ের সনদ অবৈধ। সেই হিসেবে জাহাঙ্গীর হোসাইনের দাখিল করা সব সনদই অবৈধ।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানানো হয়েছে।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গু রোগীতে উপচে পড়ছে কাউখালী হাসপাতাল, বাড়ছে উদ্বেগ

তিনটি সনদই জাল: প্রধান শিক্ষক চাকরিচ্যুত, পদে ফেরার চেষ্টা ও অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ

Update Time : ০২:৫৯:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

 

প্রতিনিধি,বানারীপাড়া ;

বানারীপাড়া উপজেলার ধারালিয়া সৈয়দ বজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসাইনের বিরুদ্ধে জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি চাকরি হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি পুনরায় পদে ফেরার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন এবং এ নিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি তারিকুল ইসলাম খানসহ একাধিক সদস্য জানান, ২০১০ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই জাহাঙ্গীর হোসাইনের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ নিয়ে তাদের সন্দেহ তৈরি হয়। বিষয়টি নিশ্চিত হতে তারা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছে সনদ যাচাইয়ের উদ্যোগ নেন।

গত ১৮ আগস্ট রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা এবং দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে সনদ যাচাইয়ের আবেদন করা হয়। এর প্রেক্ষিতে রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহামুদা বেগম ১৫ সেপ্টেম্বর জানান, ২০০৭ সালের এমএ (ইংরেজি) পরীক্ষায় সিজিপিএ ৩.৪২-এর যে সনদ জাহাঙ্গীর হোসাইন দাখিল করেছেন, তা সম্পূর্ণ জাল। এছাড়া ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য বিষয়ে এমএ কোর্সই নেই বলেও নিশ্চিত করা হয়।

অন্যদিকে, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও জানানো হয়, জাহাঙ্গীর হোসাইন সেখানে কোনো পরীক্ষায় অংশগ্রহণই করেননি। তবুও তিনি ২০০৭ সালের এমএ, ২০০৮ সালের বিএড এবং ২০০৯ সালের এমএড পাসের সনদ জমা দেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তৎকালীন চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মান্নান জানান, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৬ সালের আগে ভর্তি হয়ে উত্তীর্ণদের সনদ বৈধ হিসেবে বিবেচিত হলেও পরবর্তী সময়ের সনদ অবৈধ। সেই হিসেবে জাহাঙ্গীর হোসাইনের দাখিল করা সব সনদই অবৈধ।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানানো হয়েছে।

Spread the love