Dhaka ১২:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের: গৃহায়ন ও গনপূর্ত প্রতিমন্ত্রী সোহেল মনজুর কাউখালীতে শহীদ জিয়া স্মৃতি মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরা-কলারোয়া সীমান্তে প্রায় ৭ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ তালায় খাঁচায় আটকে গুরুতর আহত বনবিড়ালের বাচ্চা উদ্ধার সাতক্ষীরায় সুপারির বাণিজ্যিক চাষ, বছরে বিক্রি ২২ কোটি টাকার সাতক্ষীরার ছয়ঘরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল নারীর কাউখালীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২’ এর উদ্বোধন সাতক্ষীরায় বায়তুল হামদ্ জামে মসজিদের ছাদ ঢালাইয়ের উদ্বোধন সাতক্ষীরায় ‘দৈনিক সাতক্ষীরা খবর’-এর যাত্রা শুরু সাতক্ষীরার মানুষের খাদেম হয়ে কাজ করতে চাই: এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক

তিনটি সনদই জাল: প্রধান শিক্ষক চাকরিচ্যুত, পদে ফেরার চেষ্টা ও অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৫৯:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৯৮ Time View

 

প্রতিনিধি,বানারীপাড়া ;

বানারীপাড়া উপজেলার ধারালিয়া সৈয়দ বজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসাইনের বিরুদ্ধে জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি চাকরি হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি পুনরায় পদে ফেরার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন এবং এ নিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি তারিকুল ইসলাম খানসহ একাধিক সদস্য জানান, ২০১০ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই জাহাঙ্গীর হোসাইনের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ নিয়ে তাদের সন্দেহ তৈরি হয়। বিষয়টি নিশ্চিত হতে তারা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছে সনদ যাচাইয়ের উদ্যোগ নেন।

গত ১৮ আগস্ট রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা এবং দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে সনদ যাচাইয়ের আবেদন করা হয়। এর প্রেক্ষিতে রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহামুদা বেগম ১৫ সেপ্টেম্বর জানান, ২০০৭ সালের এমএ (ইংরেজি) পরীক্ষায় সিজিপিএ ৩.৪২-এর যে সনদ জাহাঙ্গীর হোসাইন দাখিল করেছেন, তা সম্পূর্ণ জাল। এছাড়া ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য বিষয়ে এমএ কোর্সই নেই বলেও নিশ্চিত করা হয়।

অন্যদিকে, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও জানানো হয়, জাহাঙ্গীর হোসাইন সেখানে কোনো পরীক্ষায় অংশগ্রহণই করেননি। তবুও তিনি ২০০৭ সালের এমএ, ২০০৮ সালের বিএড এবং ২০০৯ সালের এমএড পাসের সনদ জমা দেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তৎকালীন চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মান্নান জানান, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৬ সালের আগে ভর্তি হয়ে উত্তীর্ণদের সনদ বৈধ হিসেবে বিবেচিত হলেও পরবর্তী সময়ের সনদ অবৈধ। সেই হিসেবে জাহাঙ্গীর হোসাইনের দাখিল করা সব সনদই অবৈধ।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানানো হয়েছে।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের: গৃহায়ন ও গনপূর্ত প্রতিমন্ত্রী সোহেল মনজুর

তিনটি সনদই জাল: প্রধান শিক্ষক চাকরিচ্যুত, পদে ফেরার চেষ্টা ও অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ

Update Time : ০২:৫৯:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

 

প্রতিনিধি,বানারীপাড়া ;

বানারীপাড়া উপজেলার ধারালিয়া সৈয়দ বজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসাইনের বিরুদ্ধে জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি চাকরি হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি পুনরায় পদে ফেরার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন এবং এ নিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি তারিকুল ইসলাম খানসহ একাধিক সদস্য জানান, ২০১০ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই জাহাঙ্গীর হোসাইনের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ নিয়ে তাদের সন্দেহ তৈরি হয়। বিষয়টি নিশ্চিত হতে তারা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছে সনদ যাচাইয়ের উদ্যোগ নেন।

গত ১৮ আগস্ট রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা এবং দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে সনদ যাচাইয়ের আবেদন করা হয়। এর প্রেক্ষিতে রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহামুদা বেগম ১৫ সেপ্টেম্বর জানান, ২০০৭ সালের এমএ (ইংরেজি) পরীক্ষায় সিজিপিএ ৩.৪২-এর যে সনদ জাহাঙ্গীর হোসাইন দাখিল করেছেন, তা সম্পূর্ণ জাল। এছাড়া ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য বিষয়ে এমএ কোর্সই নেই বলেও নিশ্চিত করা হয়।

অন্যদিকে, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও জানানো হয়, জাহাঙ্গীর হোসাইন সেখানে কোনো পরীক্ষায় অংশগ্রহণই করেননি। তবুও তিনি ২০০৭ সালের এমএ, ২০০৮ সালের বিএড এবং ২০০৯ সালের এমএড পাসের সনদ জমা দেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তৎকালীন চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মান্নান জানান, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৬ সালের আগে ভর্তি হয়ে উত্তীর্ণদের সনদ বৈধ হিসেবে বিবেচিত হলেও পরবর্তী সময়ের সনদ অবৈধ। সেই হিসেবে জাহাঙ্গীর হোসাইনের দাখিল করা সব সনদই অবৈধ।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানানো হয়েছে।

Spread the love