Dhaka ০৯:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রামপালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি বানারীপাড়ায় ৯ বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ সাতক্ষীরায় প্রাক্তন নিবন্ধিত শিশু ও যুবদের নিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরার রসুলপুরে অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ সাতক্ষীরায় একই হাসপাতালে ৪২ দিনের ব্যবধানে ফের অগ্নিকাণ্ড, আতঙ্কে রোগী-স্বজন গাজী নজরুল ইসলাম এখন কোন দলের এমপি—প্রশ্ন সাতক্ষীরায় সাতক্ষীরার তালায় লিগ্যাল এইড পরিসেবা বিষয়ক গণশুনানি অনুষ্ঠিত কাউখালীতে নতুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেহেনা আক্তারের যোগদান কাউখালীতে কেন্দ্রীয় আশ্রমের তহবিল তসরুপের অভিযোগে বহিষ্কৃত সাবেক কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন কাউখালীতে ৪০ বছর পর সওজের জমি থেকে পাঁচ অবৈধ দোকান উচ্ছেদ সেতু নির্মাণে বাধা দূর, যানজট নিরসনের প্রত্যাশা

ভুয়া মাদ্রাসার আড়ালে চাল আত্মসাত: মনিরামপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৪৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ২২৬ Time View

 

প্রতিনিধি,যশোর ;

যশোরের মনিরামপুরে সরকারি ত্রাণের চাল আত্মসাতকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর এক জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, দুটি অস্তিত্বহীন মাদ্রাসার নাম ব্যবহার করে দুই টন জিআর (জেনারেল রিলিফ) চাল বরাদ্দ নিয়ে তা আত্মসাৎ করেছেন স্থানীয় এক বিএনপি নেতা।
জানা গেছে, উপজেলার দেবিদাসপুর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি পরিচয়দানকারী মোদাচ্ছের গাজী এই পুরো প্রক্রিয়ার মূল পরিকল্পনাকারী। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্রাট হোসেনের সুপারিশে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় ‘বাকোশপোল বালক বালিকা এতিমখানা’ ও ‘বাকোশপোল হাফিজিখানা’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে চাল বরাদ্দ দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই নামে এলাকায় কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বই নেই।
বাস্তবে, এলাকার দুটি প্রতিষ্ঠানের নাম আংশিক পরিবর্তন করে এই জালিয়াতি করা হয়েছে—‘বাকোশপোল বাগে জান্নাত মহিলা কওমী মাদ্রাসা’ এবং ‘বাকোশপোল এমদাদুল উলুম কওমী মাদ্রাসা’। সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলোর কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে আবেদন করা হয়েছে।
বাগে জান্নাত মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল্লাহ জানান, তাকে কৌশলে অফিসে নিয়ে কিছু কাগজে সই করানো হয়। পরে চাল বরাদ্দের কথা জানালে তাকে চাল না দিয়ে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
অন্যদিকে, এমদাদুল উলুম কওমী মাদ্রাসার প্রধান মফিজুর রহমান বলেন, মোদাচ্ছের গাজী তাদের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নন। অথচ তাকে সভাপতি দেখিয়ে চাল উত্তোলন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোদাচ্ছের গাজী চাল উত্তোলনের কথা স্বীকার করে জানান, পরিচিত একজনের মাধ্যমে আবেদন করে তিনি দুই টন চাল পেয়েছেন এবং তা বিক্রি করে প্রায় ৭০ হাজার টাকা অর্জন করেছেন। তবে তার দাবি, সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলোর কর্তৃপক্ষকে তাদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সেলিম খান বলেন, ২০২৬ সালে মনিরামপুরের সাতটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে সাত টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে তিনি অসুস্থ থাকায় এ সংক্রান্ত বিষয়ে অবগত নন এবং তার অগোচরেই তালিকা জেলায় পাঠানো হয়েছে বলে জানান।
অফিস সহকারী বোরহান উদ্দিন জানান, ইউএনও দপ্তরে জমা পড়া আবেদন যাচাইয়ের সময় স্বল্পতার কারণে তা সঠিকভাবে পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। পরে ইউএনওর সুপারিশ অনুযায়ী তালিকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
এদিকে, ইউএনও সম্রাট হোসেন ছুটিতে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার সরকারি নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের বলেন, ইউএনওর সুপারিশের ভিত্তিতেই জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। তিনি জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে তাদের নজরে এসেছে এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মনিরামপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তার সাংগঠনিক অবস্থান যাচাই করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি

ভুয়া মাদ্রাসার আড়ালে চাল আত্মসাত: মনিরামপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

Update Time : ০৯:৪৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

 

প্রতিনিধি,যশোর ;

যশোরের মনিরামপুরে সরকারি ত্রাণের চাল আত্মসাতকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর এক জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, দুটি অস্তিত্বহীন মাদ্রাসার নাম ব্যবহার করে দুই টন জিআর (জেনারেল রিলিফ) চাল বরাদ্দ নিয়ে তা আত্মসাৎ করেছেন স্থানীয় এক বিএনপি নেতা।
জানা গেছে, উপজেলার দেবিদাসপুর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি পরিচয়দানকারী মোদাচ্ছের গাজী এই পুরো প্রক্রিয়ার মূল পরিকল্পনাকারী। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্রাট হোসেনের সুপারিশে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় ‘বাকোশপোল বালক বালিকা এতিমখানা’ ও ‘বাকোশপোল হাফিজিখানা’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে চাল বরাদ্দ দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই নামে এলাকায় কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বই নেই।
বাস্তবে, এলাকার দুটি প্রতিষ্ঠানের নাম আংশিক পরিবর্তন করে এই জালিয়াতি করা হয়েছে—‘বাকোশপোল বাগে জান্নাত মহিলা কওমী মাদ্রাসা’ এবং ‘বাকোশপোল এমদাদুল উলুম কওমী মাদ্রাসা’। সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলোর কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে আবেদন করা হয়েছে।
বাগে জান্নাত মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল্লাহ জানান, তাকে কৌশলে অফিসে নিয়ে কিছু কাগজে সই করানো হয়। পরে চাল বরাদ্দের কথা জানালে তাকে চাল না দিয়ে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
অন্যদিকে, এমদাদুল উলুম কওমী মাদ্রাসার প্রধান মফিজুর রহমান বলেন, মোদাচ্ছের গাজী তাদের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নন। অথচ তাকে সভাপতি দেখিয়ে চাল উত্তোলন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোদাচ্ছের গাজী চাল উত্তোলনের কথা স্বীকার করে জানান, পরিচিত একজনের মাধ্যমে আবেদন করে তিনি দুই টন চাল পেয়েছেন এবং তা বিক্রি করে প্রায় ৭০ হাজার টাকা অর্জন করেছেন। তবে তার দাবি, সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলোর কর্তৃপক্ষকে তাদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সেলিম খান বলেন, ২০২৬ সালে মনিরামপুরের সাতটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে সাত টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে তিনি অসুস্থ থাকায় এ সংক্রান্ত বিষয়ে অবগত নন এবং তার অগোচরেই তালিকা জেলায় পাঠানো হয়েছে বলে জানান।
অফিস সহকারী বোরহান উদ্দিন জানান, ইউএনও দপ্তরে জমা পড়া আবেদন যাচাইয়ের সময় স্বল্পতার কারণে তা সঠিকভাবে পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। পরে ইউএনওর সুপারিশ অনুযায়ী তালিকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
এদিকে, ইউএনও সম্রাট হোসেন ছুটিতে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার সরকারি নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের বলেন, ইউএনওর সুপারিশের ভিত্তিতেই জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। তিনি জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে তাদের নজরে এসেছে এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মনিরামপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তার সাংগঠনিক অবস্থান যাচাই করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Spread the love