বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি:
বরিশালের বাকেরগঞ্জে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে এক বিএনপি নেতার বাসার কেয়ারটেকারকে চলন্ত ইজিবাইক থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তাঁকে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী হিসেবে আখ্যায়িত করে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী সোহাগ হোসেন (২৮) উপজেলার পশ্চিম কৃষ্ণনগর, চামটা বাজার এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম দেলোয়ার হোসেন। তিনি নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সোহেল ফরাজীর বাসার কেয়ারটেকার এবং সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের একজন বাসিন্দা।
থানায় দায়ের করা জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ অক্টোবর নিয়ামতি এলাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে সোহাগের ইজিবাইকের গতিরোধ করা হয়। পরে তাঁকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে জেলা ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান ইমরান, নিয়ামতি ইউনিয়ন যুবদল নেতা উজ্জ্বল খান, হানিফ শিকদার ও আল-আমিন খানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
সোহাগের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁকে সোহেল ফরাজীর কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মা-বাবাকে নিয়ে অংশ না নেওয়ার জন্য হুঁশিয়ারি দেন। ভবিষ্যতে এমন কর্মসূচিতে অংশ নিলে তাঁকে আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে উচ্ছেদ, মারধরসহ নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের অপবাদ দেওয়া হচ্ছে।
সোহাগ হোসেন বলেন, ‘আমি একজন অসহায় মানুষ। সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করি। সোহেল ফরাজীর বাসা দেখাশোনা করি বলে আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী হিসেবে অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে আমার ডোপ টেস্ট করার দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে, তাদেরও ডোপ টেস্ট করা হোক। তাহলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
ছেলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সোহাগের মা হেলেনা বেগম বলেন, ‘আমার একটাই ছেলে। এতদিন কেউ তাকে কোনো হুমকি দেয়নি। এখন সোহেল ফরাজীর বাসায় কাজ করে এবং তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেয় বলে ছেলেকে মারধরের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি কখনো তাকে মাদক সেবন করতে দেখিনি। আমার ছেলের কোনো ক্ষতি হলে এর দায় কে নেবে? আমি প্রশাসনের কাছে তার জীবনের নিরাপত্তা চাই।’
এ ঘটনায় সোহাগ হোসেন নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। জিডি নম্বর ১৬৮৬।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, জিডির বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
Reporter Name 




















