সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা ‘ল’ কলেজে এলএলবি পরীক্ষার প্রবেশপত্র (অ্যাডমিট কার্ড) দেওয়া, কেন্দ্র ফি এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার নামে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত ফি ছাড়াও পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে। এ অর্থ আদায়ের বিপরীতে কোনো রসিদ দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কলেজটির একাধিক পরীক্ষার্থী।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর সাতক্ষীরা ‘ল’ কলেজের এলএলবি ফাইনাল পরীক্ষা-২০২৪ এবং এলএলবি (প্রিলিমিনারি) পরীক্ষা-২০২৫-এর মোট ২১৮ জন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে কেন্দ্র ফি বাবদ জনপ্রতি অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। এ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে প্রবেশপত্র না দেওয়া, পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি এবং মৌখিক পরীক্ষায় কম নম্বর দেওয়া বা অকৃতকার্য করানোর ভয় দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন পরীক্ষার্থীরা।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কলেজের অধ্যক্ষ ড. রবিউল ইসলাম খান পরীক্ষার্থীদের জানিয়েছেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তা, স্থানীয় জেলা প্রশাসন এবং পরীক্ষাকেন্দ্র সাতক্ষীরা সিটি কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিবকে সন্তুষ্ট করার জন্য এ অর্থের প্রয়োজন।
এ ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত ফরম পূরণের ফি ১২ হাজার টাকা হলেও আগের এলএলবি ফাইনাল পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২৩ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরীক্ষার্থীদের দাবি, তাঁদের অধিকাংশই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। হঠাৎ করে অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকা জোগাড় করা অনেকের পক্ষেই কঠিন। এ পরিস্থিতিতে প্রবেশপত্র আটকে রাখার আশঙ্কায় তাঁরা চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
তবে অতিরিক্ত টাকা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ ড. রবিউল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘এসব অভিযোগ মিথ্যা। কলেজের কিছু আওয়ামী লীগের ছেলেমেয়ে আছে। তারা ভাইভায় বাদ পড়ে এখন কুৎসা রটাচ্ছে।’
অন্যদিকে কলেজের প্রশাসনিক কর্মকর্তা লাভলু বলেন, ‘সাতক্ষীরায় পরীক্ষাকেন্দ্র আনতে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। অধ্যক্ষ স্যার প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা করে নিতে বলেছেন। আমরা সেটাই নিচ্ছি।’
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরীক্ষার্থী জানিয়েছেন, জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা না দিলে তাঁদের প্রবেশপত্র দেওয়া হচ্ছে না। যাঁরা টাকা দিচ্ছেন, কেবল তাঁদেরই প্রবেশপত্র দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি আমি ইতিমধ্যে জেনেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ এবং পরীক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীরা।
Reporter Name 


















