সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে বছরজুড়েই অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান পরিচালিত হলেও শহরের প্রাণকেন্দ্র বড় বাজারের চিত্র যেন ভিন্ন। বাজারের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ সড়ক ও ফুটপাতের বড় অংশ দখল করে রেখেছে মহেন্দ্র, ইজিবাইক, ইঞ্জিনচালিত ভ্যান এবং ব্যবসায়ীদের পণ্যসামগ্রী। যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং, পণ্য ওঠানো-নামানো ও সড়ক দখলের কারণে প্রতিদিন তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতা, পথচারী ও ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ডে-নাইট কলেজ এলাকা থেকে বড় বাজারের কাঁচাবাজারে প্রবেশের মুখেই সড়কের ওপর কয়েকটি ভ্যান ও ইঞ্জিনচালিত ভ্যানে মালামাল ওঠানো-নামানোর কাজ চলছে। বাজারের ভেতরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার চিত্র। অনেক ব্যবসায়ীর নিজস্ব দোকান থাকলেও দোকানের সামনের সড়ক ও ফুটপাতজুড়ে পণ্যসামগ্রী সাজিয়ে রাখায় পথচারীদের চলাচলের জায়গা ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
বাজারের আরও ভেতরে মুদিদোকান এলাকায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় ভ্যান, ইজিবাইক ও ইঞ্জিনচালিত যানবাহন। এতে ক্রেতাদের পাশাপাশি সাধারণ পথচারীদেরও চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। মাছবাজার এলাকায় সড়কের ওপর একাধিক ইঞ্জিনচালিত ভ্যান দাঁড় করিয়ে মাছ বিক্রি করতে দেখা যায়। ফলে বাজারের ভেতরে স্বাভাবিক চলাচলের পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বড় বাজারের প্রবেশপথে রাস্তার প্রায় অর্ধেক দখল করে সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মহেন্দ্র ও ইজিবাইক দাঁড়িয়ে থাকে। বেসিক ব্যাংকের সামনের অংশ থেকে বাজারের প্রবেশমুখ পর্যন্ত এসব যানবাহন অবস্থান করায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক সময় প্রবেশপথেই ভ্যান ও ইজিবাইক থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো হয়। এতে যানজট আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, প্রতিদিন বাইরে থেকে অনেক অপরিচিত ভ্যান, ইজিবাইক ও ইঞ্জিনচালিত যানবাহন বাজারে প্রবেশ করে। বাজারের অভ্যন্তরীণ চলাচলের নিয়ম সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় চালকেরা যেখানে-সেখানে যানবাহন দাঁড় করান। এতে যানজটের পাশাপাশি ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা মনে করেন, বড় বাজারের অভ্যন্তরে যানবাহন চলাচল ও পার্কিং নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত তদারকি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে ক্রেতা, পথচারী ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
Reporter Name 















