কাউখালী প্রতিনিধি
শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে বাজারে বাড়ছে শীতকালীন সবজির চাহিদা। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে আগাম লাউ চাষে সাফল্য পেয়েছেন পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার পূর্ব কেউন্দিয়া গ্রামের কৃষক মামুন খান। ৫২ শতাংশ জমিতে উচ্চফলনশীল জাতের লাউ চাষ করে ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় তাঁর মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতা, সঠিক পরামর্শ ও নিজের কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত এ সাফল্য এখন এলাকার অন্য কৃষকদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব কেউন্দিয়া গ্রামের নুর আলী খানের ছেলে মামুন খান কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় নিজের ৫২ শতাংশ জমিতে ‘পল্লবী’ ও ‘ডায়না’ জাতের লাউয়ের প্রদর্শনী প্লট গড়ে তোলেন। বৈরী আবহাওয়া মোকাবিলা করে নিয়মিত পরিচর্যা এবং কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুসরণ করায় তাঁর জমিতে এবার আশানুরূপ ফলন হয়েছে।
কৃষক মামুন খান জানান, চলতি মৌসুমে সপ্তাহে দুই দিন জমি থেকে ১৫০ থেকে ২০০টি লাউ সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজারে পাইকারি দরে বিক্রি করছেন তিনি। বর্তমানে প্রতিটি লাউ ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখ টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মৌসুমের বাকি সময়ে আরও তিন থেকে চার লাখ টাকার লাউ বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।
মামুন খানের কৃষিকাজে সফলতার গল্প অবশ্য শুধু আগাম লাউ চাষেই সীমাবদ্ধ নয়। সারা বছরই তিনি বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেন। তাঁর খামারে চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, পেঁপে, কলা, কাঁকরোল ও বেগুনসহ নানা ধরনের সবজি উৎপাদিত হয়। এসব ফসল বিক্রি করে সংসারের ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি একমাত্র ছেলের মাদ্রাসার পড়াশোনার খরচও বহন করছেন তিনি।
নিজের কাজের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করে মামুন খান বলেন, “নিজের কাজ নিজে করার মধ্যেই আসল আনন্দ। এতে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হতে হয় না, কাজেরও পূর্ণ স্বাধীনতা থাকে। উপজেলা কৃষি অফিস শুরু থেকেই আমাকে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে আসছে। তাদের সহযোগিতা আমার কাজকে আরও সহজ করেছে।”
কাউখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোমা রানী দাস বলেন, আগাম সবজি চাষ কৃষকদের জন্য লাভজনক হওয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। মামুন খান একজন পরিশ্রমী ও উদ্যোগী কৃষক। কৃষি অফিসের উদ্যোগে তাঁর জমিতে ‘পল্লবী’ ও ‘ডায়না’ জাতের লাউয়ের প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। তাঁকে মানসম্মত বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাইনুল হুদা নিয়মিত তাঁর খামার পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, সরকারি বরাদ্দ ও কৃষি প্রণোদনা প্রকৃত ও পরিশ্রমী কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। মামুন খানের সফলতা দেখে এলাকার অন্য কৃষকেরাও আগাম সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। এ ধরনের উদ্যোগ কৃষকদের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে সবজির উৎপাদন বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে।
Reporter Name 



















