সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার তালায় উপজেলা প্রশাসনের পৃথক অভিযানে দুটি বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিয়ের আয়োজন করায় তার বাবাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অন্য ঘটনায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে ২০ বছর বয়সী এক যুবকের বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে তাঁদের অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার জানান, সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের মাছিয়াড়া গ্রামে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিয়ের আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে সেখানে ভোজেরও আয়োজন চলছিল। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আটুলিয়া গ্রামের জামির গাজীর ছেলে এনামুল গাজীর সঙ্গে ওই কিশোরীর বিয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।
বিষয়টি জানতে পেরে রিইবের হোপ প্রকল্পের সিএসও সদস্যরা উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন।
এ সময় খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রণব ঘোষ বাবলু, মহিলা বিষয়ক ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মী, পুলিশ এবং সিএসও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কিশোরীর বাবাকে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে বর ও কনে উভয় পক্ষের অভিভাবকদের কাছ থেকে ভবিষ্যতে বাল্যবিবাহে জড়িত না হওয়া এবং এলাকায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সহযোগিতা করার মুচলেকা নেওয়া হয়।
এদিকে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে অপ্রাপ্তবয়স্ক এক ছেলের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে আরেকটি বাল্যবিবাহ বন্ধ করে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় ২০ বছর বয়সী এক যুবকের সঙ্গে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিয়ের আয়োজন করা হচ্ছিল। পরে প্রশাসন বিয়েতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তাঁদের নিজ নিজ অভিভাবকের জিম্মায় দেয়।
জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার জানান, প্রথম অভিযানের সার্বিক সমন্বয় করেন তিনি। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁদের মতে, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনিক তৎপরতার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতা জরুরি।
Reporter Name 


















