
বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি:
বরিশালের বাকেরগঞ্জে ১৭ বছর বয়সী এক নববধূকে গণধর্ষণের অভিযোগ এবং বিচার চাইতে থানায় গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার সংবাদ প্রকাশের পর মামলা গ্রহণ করেছে পুলিশ। গত ২৯ অক্টোবর সংবাদ প্রকাশের পর সন্ধ্যায় ওসি আদিল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ভুক্তভোগীকে বাড়ি থেকে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাঁর অভিযোগে মামলা গ্রহণ করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য শুক্রবার তাঁকে বরিশালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিয়ের মাত্র ১৬-১৭ দিনের মাথায় গত ১৯ অক্টোবর রাতে নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার কথা বলে উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের আড়াইবেকী এলাকার সৎ ভাসুর ইমরান প্যাদা (৩৮) তাঁকে বাজারে নিয়ে যান। বাড়ি ফেরার পথে সৎ ভাসুর ও প্রতিবেশী চাচা শ্বশুর রাকিব প্যাদা (২৬) তাঁকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন।
এ ঘটনায় গত ২৩ অক্টোবর বরিশাল জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে সঙ্গে করে বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা করতে যান।
তবে ভুক্তভোগীর অভিযোগ, থানায় ওসি আদিল হোসেন তাঁর অভিযোগ গ্রহণ না করে ধর্ষণের প্রমাণ নেই এবং গোসল করায় আলামত নষ্ট হয়েছে বলে জানান। অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে তাঁকে সাত বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে বলেও ভয় দেখানো হয়। এমনকি তাঁর প্রতি কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগও করেন নববধূ।
অন্যদিকে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি আদিল হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে থানায় এসেছিলেন। তাঁদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলেও তাঁরা পরে জানাবেন বলে চলে যান।
এদিকে ধর্ষণের সংবাদ প্রকাশের পর নিজের অবস্থান রক্ষায় কয়েকজন সাংবাদিককে দিয়ে পক্ষে প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য ওসি দেনদরবার করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে কোনো সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় মামলা না নেওয়ার সুযোগ নেই। ওসি অভিযোগ গ্রহণ না করে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে থাকলে তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং থানায় অভিযোগ গ্রহণ না করা ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। মামলার তদন্ত কতটা নিরপেক্ষভাবে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।
Reporter Name 




















