Dhaka ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাটকেলঘাটা থানা ভবনের নির্মাণকাজ পরিদর্শনে সংসদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ বাকেরগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন কমিটি, সভাপতি রিমন সম্পাদক মোর্শেদ কালিগঞ্জে ৪ কেজি গাঁজাসহ নারী আটক, পালালেন এক ব্যক্তি চোখ পরীক্ষা, ডায়াবেটিস পরীক্ষা, বিনামূল্যে চশমা ও ওষুধ বিতরণ সাতক্ষীরায় আইনজীবীদের লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে তলবি সভা সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি কাউখালীতে আগাম লাউ চাষে বাম্পার ফলন, হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে চকরিয়ায় প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বৃত্তি আয়োজনের অভিযোগ, ১৪৫ বিদ্যালয়ে জরুরি চিঠি কলারোয়ায় ইটভাটার মালিকানা নিয়ে বিরোধ, বিএনপি নেতা আক্তারুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ সাতক্ষীরায় নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন

নববধূকে ধর্ষণের সংবাদ প্রকাশের পর মামলা, ওসির ভূমিকা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:১৯:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • ৮ Time View

বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি:

বরিশালের বাকেরগঞ্জে ১৭ বছর বয়সী এক নববধূকে গণধর্ষণের অভিযোগ এবং বিচার চাইতে থানায় গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার সংবাদ প্রকাশের পর মামলা গ্রহণ করেছে পুলিশ। গত ২৯ অক্টোবর সংবাদ প্রকাশের পর সন্ধ্যায় ওসি আদিল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ভুক্তভোগীকে বাড়ি থেকে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাঁর অভিযোগে মামলা গ্রহণ করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য শুক্রবার তাঁকে বরিশালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিয়ের মাত্র ১৬-১৭ দিনের মাথায় গত ১৯ অক্টোবর রাতে নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার কথা বলে উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের আড়াইবেকী এলাকার সৎ ভাসুর ইমরান প্যাদা (৩৮) তাঁকে বাজারে নিয়ে যান। বাড়ি ফেরার পথে সৎ ভাসুর ও প্রতিবেশী চাচা শ্বশুর রাকিব প্যাদা (২৬) তাঁকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন।

এ ঘটনায় গত ২৩ অক্টোবর বরিশাল জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে সঙ্গে করে বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা করতে যান।

তবে ভুক্তভোগীর অভিযোগ, থানায় ওসি আদিল হোসেন তাঁর অভিযোগ গ্রহণ না করে ধর্ষণের প্রমাণ নেই এবং গোসল করায় আলামত নষ্ট হয়েছে বলে জানান। অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে তাঁকে সাত বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে বলেও ভয় দেখানো হয়। এমনকি তাঁর প্রতি কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগও করেন নববধূ।

অন্যদিকে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি আদিল হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে থানায় এসেছিলেন। তাঁদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলেও তাঁরা পরে জানাবেন বলে চলে যান।

এদিকে ধর্ষণের সংবাদ প্রকাশের পর নিজের অবস্থান রক্ষায় কয়েকজন সাংবাদিককে দিয়ে পক্ষে প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য ওসি দেনদরবার করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে কোনো সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় মামলা না নেওয়ার সুযোগ নেই। ওসি অভিযোগ গ্রহণ না করে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে থাকলে তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং থানায় অভিযোগ গ্রহণ না করা ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। মামলার তদন্ত কতটা নিরপেক্ষভাবে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পাটকেলঘাটা থানা ভবনের নির্মাণকাজ পরিদর্শনে সংসদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ

নববধূকে ধর্ষণের সংবাদ প্রকাশের পর মামলা, ওসির ভূমিকা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

Update Time : ০৫:১৯:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি:

বরিশালের বাকেরগঞ্জে ১৭ বছর বয়সী এক নববধূকে গণধর্ষণের অভিযোগ এবং বিচার চাইতে থানায় গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার সংবাদ প্রকাশের পর মামলা গ্রহণ করেছে পুলিশ। গত ২৯ অক্টোবর সংবাদ প্রকাশের পর সন্ধ্যায় ওসি আদিল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ভুক্তভোগীকে বাড়ি থেকে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাঁর অভিযোগে মামলা গ্রহণ করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য শুক্রবার তাঁকে বরিশালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিয়ের মাত্র ১৬-১৭ দিনের মাথায় গত ১৯ অক্টোবর রাতে নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার কথা বলে উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের আড়াইবেকী এলাকার সৎ ভাসুর ইমরান প্যাদা (৩৮) তাঁকে বাজারে নিয়ে যান। বাড়ি ফেরার পথে সৎ ভাসুর ও প্রতিবেশী চাচা শ্বশুর রাকিব প্যাদা (২৬) তাঁকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন।

এ ঘটনায় গত ২৩ অক্টোবর বরিশাল জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে সঙ্গে করে বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা করতে যান।

তবে ভুক্তভোগীর অভিযোগ, থানায় ওসি আদিল হোসেন তাঁর অভিযোগ গ্রহণ না করে ধর্ষণের প্রমাণ নেই এবং গোসল করায় আলামত নষ্ট হয়েছে বলে জানান। অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে তাঁকে সাত বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে বলেও ভয় দেখানো হয়। এমনকি তাঁর প্রতি কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগও করেন নববধূ।

অন্যদিকে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি আদিল হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে থানায় এসেছিলেন। তাঁদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলেও তাঁরা পরে জানাবেন বলে চলে যান।

এদিকে ধর্ষণের সংবাদ প্রকাশের পর নিজের অবস্থান রক্ষায় কয়েকজন সাংবাদিককে দিয়ে পক্ষে প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য ওসি দেনদরবার করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে কোনো সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় মামলা না নেওয়ার সুযোগ নেই। ওসি অভিযোগ গ্রহণ না করে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে থাকলে তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং থানায় অভিযোগ গ্রহণ না করা ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। মামলার তদন্ত কতটা নিরপেক্ষভাবে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।

Spread the love