Dhaka ০৩:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাটকেলঘাটা থানা ভবনের নির্মাণকাজ পরিদর্শনে সংসদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ বাকেরগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন কমিটি, সভাপতি রিমন সম্পাদক মোর্শেদ কালিগঞ্জে ৪ কেজি গাঁজাসহ নারী আটক, পালালেন এক ব্যক্তি চোখ পরীক্ষা, ডায়াবেটিস পরীক্ষা, বিনামূল্যে চশমা ও ওষুধ বিতরণ সাতক্ষীরায় আইনজীবীদের লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে তলবি সভা সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি কাউখালীতে আগাম লাউ চাষে বাম্পার ফলন, হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে চকরিয়ায় প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বৃত্তি আয়োজনের অভিযোগ, ১৪৫ বিদ্যালয়ে জরুরি চিঠি কলারোয়ায় ইটভাটার মালিকানা নিয়ে বিরোধ, বিএনপি নেতা আক্তারুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ সাতক্ষীরায় নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন

চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যয়ে দিশেহারা কাউখালীর মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৩৩:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৯ Time View

কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

 

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ বেড়ে যাওয়ায় চরম চাপে পড়েছেন পিরোজপুরের কাউখালীর মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মানুষ। সীমিত আয়ের বিপরীতে জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারকে এখন চিকিৎসা ব্যয় ও দৈনন্দিন সংসার খরচের মধ্যে কঠিন সমন্বয় করতে হচ্ছে।

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংস ও সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে চিকিৎসকের ফি, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ওষুধের খরচও। ফলে পরিবারের কোনো সদস্য অসুস্থ হলে মাসিক আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ চিকিৎসার পেছনে ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। এতে সংসারের অন্যান্য জরুরি চাহিদা পূরণে হিমশিম খেতে হচ্ছে অনেককে।

 

কাউখালী সদর এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, “পরিবারে কয়েকজন সদস্যের নিয়মিত ওষুধ লাগে। মাসের শুরুতেই ওষুধ কিনতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা খরচ হয়ে যায়। এরপর বাজার-সদাই, সন্তানদের পড়াশোনা, বিদ্যুৎ বিলসহ অন্যান্য খরচ মেটাতে গিয়ে মাসের শেষ দিকে আর হাতে টাকা থাকে না। আগে যে আয়ে মোটামুটি স্বচ্ছন্দে চলা যেত, এখন তা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।”

 

নিম্নআয়ের শ্রমজীবী আবুল বাশার বলেন, “দিনে কাজ করলে সংসার চলে, কাজ না থাকলে বিপদ। এর মধ্যে পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে ওষুধ কিনতে অনেক সময় ধার-দেনা করতে হয়। চিকিৎসা করাব, নাকি পরিবারের খাবার কিনব—এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। মাছ-মাংস তো দূরের কথা, অনেক সময় তিন বেলা খাবার জোগাড় করাও কষ্টকর হয়ে যায়।”

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিকাংশ মানুষ সীমিত ও নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল হলেও জীবনযাত্রার ব্যয় প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত কোনো সদস্য থাকলে চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যয় পরিবারের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরও নড়বড়ে করে দিচ্ছে।

 

অভিভাবকদের অনেকে জানান, চিকিৎসা খাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে সন্তানদের পুষ্টিকর খাবার, শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণেও সংকট দেখা দিচ্ছে। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবারের অভাবে নিম্নআয়ের পরিবারের শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।

 

সচেতন নাগরিকদের মতে, বাজারদর নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ওষুধের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে ওষুধের মূল্যতালিকা বাস্তবায়ন, অতিরিক্ত দাম আদায় বন্ধ এবং অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিরুৎসাহিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

 

কাউখালীর মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের প্রত্যাশা, সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যয় কমাতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এতে সীমিত আয়ের মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণের পাশাপাশি পরিবারের খাদ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে কিছুটা স্বস্তি ফিরে পাবে।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পাটকেলঘাটা থানা ভবনের নির্মাণকাজ পরিদর্শনে সংসদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ

চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যয়ে দিশেহারা কাউখালীর মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবার

Update Time : ০২:৩৩:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

 

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ বেড়ে যাওয়ায় চরম চাপে পড়েছেন পিরোজপুরের কাউখালীর মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মানুষ। সীমিত আয়ের বিপরীতে জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারকে এখন চিকিৎসা ব্যয় ও দৈনন্দিন সংসার খরচের মধ্যে কঠিন সমন্বয় করতে হচ্ছে।

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংস ও সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে চিকিৎসকের ফি, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ওষুধের খরচও। ফলে পরিবারের কোনো সদস্য অসুস্থ হলে মাসিক আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ চিকিৎসার পেছনে ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। এতে সংসারের অন্যান্য জরুরি চাহিদা পূরণে হিমশিম খেতে হচ্ছে অনেককে।

 

কাউখালী সদর এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, “পরিবারে কয়েকজন সদস্যের নিয়মিত ওষুধ লাগে। মাসের শুরুতেই ওষুধ কিনতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা খরচ হয়ে যায়। এরপর বাজার-সদাই, সন্তানদের পড়াশোনা, বিদ্যুৎ বিলসহ অন্যান্য খরচ মেটাতে গিয়ে মাসের শেষ দিকে আর হাতে টাকা থাকে না। আগে যে আয়ে মোটামুটি স্বচ্ছন্দে চলা যেত, এখন তা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।”

 

নিম্নআয়ের শ্রমজীবী আবুল বাশার বলেন, “দিনে কাজ করলে সংসার চলে, কাজ না থাকলে বিপদ। এর মধ্যে পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে ওষুধ কিনতে অনেক সময় ধার-দেনা করতে হয়। চিকিৎসা করাব, নাকি পরিবারের খাবার কিনব—এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। মাছ-মাংস তো দূরের কথা, অনেক সময় তিন বেলা খাবার জোগাড় করাও কষ্টকর হয়ে যায়।”

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিকাংশ মানুষ সীমিত ও নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল হলেও জীবনযাত্রার ব্যয় প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত কোনো সদস্য থাকলে চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যয় পরিবারের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরও নড়বড়ে করে দিচ্ছে।

 

অভিভাবকদের অনেকে জানান, চিকিৎসা খাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে সন্তানদের পুষ্টিকর খাবার, শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণেও সংকট দেখা দিচ্ছে। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবারের অভাবে নিম্নআয়ের পরিবারের শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।

 

সচেতন নাগরিকদের মতে, বাজারদর নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ওষুধের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে ওষুধের মূল্যতালিকা বাস্তবায়ন, অতিরিক্ত দাম আদায় বন্ধ এবং অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিরুৎসাহিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

 

কাউখালীর মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের প্রত্যাশা, সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যয় কমাতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এতে সীমিত আয়ের মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণের পাশাপাশি পরিবারের খাদ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে কিছুটা স্বস্তি ফিরে পাবে।

Spread the love