কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
চলতি আমন মৌসুমে কৃষকদের কাছে নির্ধারিত মূল্যে সার পৌঁছে দিতে এবং সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা কৃষি অফিস। মাঠপর্যায়ে সরকারি গোডাউন ও খুচরা বিক্রেতাদের দোকানে নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সারের মজুদ ও বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কাউখালীতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিক কাজ করছে। একই সঙ্গে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট, অতিরিক্ত মূল্য আদায় বা কৃষকদের হয়রানি রোধে বিসিআইসি ডিলারদের গোডাউন এবং খুচরা সারের দোকানগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে। পরিদর্শনের সময় সারের মজুদ পরিস্থিতি, বিক্রয় রেজিস্টার এবং মূল্যতালিকাও যাচাই করা হচ্ছে।
উপজেলার জয়কুল গ্রামের কৃষক মো. শাহিন বলেন, “আমি স্থানীয় ডিলারের কাছ থেকে সরকারি নির্ধারিত দামেই সার কিনতে পেরেছি। কোনো অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়নি। সময়মতো সার পাওয়ায় আমন চাষে স্বস্তি পাচ্ছি।”
স্থানীয় বিসিআইসি ডিলার মেসার্স এফ রহমান অ্যান্ড ব্রাদার্স এবং খুচরা বিক্রেতা মো. রফিক জানান, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত তাদের গোডাউন ও দোকান পরিদর্শন করছেন। বিক্রয় রেজিস্টার পর্যালোচনার পাশাপাশি সঠিকভাবে সার বিতরণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার হালদার বলেন, উপজেলার প্রায় সব আবাদযোগ্য জমিই চলতি মৌসুমে আমন চাষের আওতায় এসেছে। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে এবং বর্তমানে কোনো ধরনের সংকট নেই।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোমা রানী দাস বলেন, “সারের মজুদ ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমরা নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছি। কাউখালীতে সারের কোনো ঘাটতির আশঙ্কা নেই। ধারাবাহিক তদারকির অংশ হিসেবে রবিবার (২৩ আগস্ট) উপজেলার বিভিন্ন ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার দোকান পরিদর্শন করা হয়েছে।”
কৃষি বিভাগের এমন সক্রিয় তদারকি ও প্রশাসনিক উদ্যোগে চলতি আমন মৌসুমে সারের কৃত্রিম সংকট ও ভোগান্তি দূর হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। তাদের মতে, ন্যায্যমূল্যে ও সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত হলে আমন উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকরা লাভবান হবেন।
Reporter Name 
























