সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা সদর ও তালা উপজেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে দুটি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করেছে প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। এর মধ্যে একটি ঘটনায় বাল্যবিবাহের আয়োজন করায় বরের বাবাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
সাতক্ষীরা সদরের বাঁকাল এলাকায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিয়ের আয়োজনের খবর পেয়ে অভিযান চালায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহারের নির্দেশনায় কিশোর-কিশোরী ক্লাবের ফিল্ড সুপারভাইজার আজিবর রহমান, করবী সুলতানা ও প্রশিক্ষক তাসরিনা খাতুন ঘটনাস্থলে যান। তাঁদের সঙ্গে সদর থানা পুলিশের একটি দলও ছিল।
পুলিশ ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে বর পালিয়ে যান। পরে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের নির্দেশনায় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় মেয়ের চাচার বাড়িতে খাওয়াদাওয়ারত অবস্থায় বরের বাবা ও উভয় পক্ষের আত্মীয়স্বজনকে পাওয়া যায়।
বাল্যবিবাহের আয়োজন করার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত কালীগঞ্জ উপজেলার নলতা গ্রামের বরের বাবাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার টাকা পরিশোধের পর মুচলেকা দিয়ে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ সময় কিশোরীর বাবা ও চাচার কাছ থেকেও মুচলেকা নেওয়া হয়। মেয়েটি প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দেওয়ার নির্দেশনা জারি করা হয়।
অন্যদিকে, একই দিন তালা উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়নে আরেকটি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা হয়। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের তালা উপজেলার কিশোর-কিশোরী ক্লাবের জেন্ডার প্রমোটার প্রসেনজিৎ ঘোষ ও প্রশিক্ষক রাজিবুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানের খবর পেয়ে বরের গাড়ি মাঝপথ থেকেই ফিরে যায়। পরে কিশোরীর বাবার কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয় এবং মেয়েটি প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের এমন উদ্যোগের ফলে দুটি বাল্যবিবাহ বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে।
Reporter Name 



















