Dhaka ০৮:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেঙ্গু রোগীতে উপচে পড়ছে কাউখালী হাসপাতাল, বাড়ছে উদ্বেগ সাতক্ষীরায় ‘গরীবের মেহমানখানা’ কর্মসূচিতে অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ কালিগঞ্জে সেভেন আপের বোতলে রাখা ঘাসমারা ওষুধ পান করে ব্যবসায়ীর মৃত্যু সদর সার্কেল অফিসের বার্ষিক পরিদর্শন করলেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার কাউখালীতে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান, দুই প্রতিষ্ঠানকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা বানারীপাড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ, ফ্যাক্ট চেকিং ও গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা শীর্ষক মতবিনিময় সভা রামপালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি বানারীপাড়ায় ৯ বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ সাতক্ষীরায় প্রাক্তন নিবন্ধিত শিশু ও যুবদের নিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরার রসুলপুরে অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

কাউখালীতে অবাধে ‘চাই’ দিয়ে মাছ শিকার: হুমকির মুখে দেশীয় মৎস্য সম্পদ

 

কাউখালী প্রতিনিধি;

 

পিরোজপুরের কাউখালীতে বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাশয়ে অবাধে চাই (বাঁশ ও বেত দিয়ে তৈরি মাছ ধরার ফাঁদ) ব্যবহার করে মাছ শিকারের কারণে দেশীয় মৎস্য সম্পদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ছোট ছোট পোনা মাছ নির্বিচারে ধরা পড়ায় মাছের স্বাভাবিক বংশবিস্তার ব্যাহত হচ্ছে। ফলে দিন দিন কমে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছের সংখ্যা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, মৌসুম শুরুর আগেই শত শত চাই তৈরি ও বিক্রি হচ্ছে। এসব চাই ব্যবহার করে খাল-বিল থেকে বড় মাছের পাশাপাশি অসংখ্য পোনা মাছও ধরা হচ্ছে। এতে করে জলাশয়ে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

উপজেলার কাউখালী বন্দরের বাসিন্দা মাহফুজুর রহমান বলেন, আগে আমাদের খাল-বিলে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। এখন চাই দিয়ে ছোট মাছ পর্যন্ত ধরে ফেলায় মাছের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছ খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে।

এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার রক্ষার জন্য ছোট মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি। চাই ব্যবহারের ফলে যদি পোনা মাছ ব্যাপক হারে ধরা পড়ে, তাহলে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন কমে যাবে।
আমরা নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছি এবং প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই সংকটের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশীয় মৎস্য সম্পদ আমাদের এক অমূল্য সম্পদ। প্রাকৃতিক জলাশয়ে চাই বা কারেন্ট জালের মতো নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকারক ফাঁদ পেতে যারা পোনা ও রেণু মাছ ধ্বংস করছে, তারা মূলত আমাদের ভবিষ্যৎ মৎস্য উৎপাদনকে হুমকির মুখে ফেলছে। আমরা কোনোভাবেই এই আইনবহির্ভূত কাজকে প্রশ্রয় দেব না। মৎস্য সম্পদ রক্ষায় উপজেলার বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়, খাল-বিল ও বাজারে মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা করা হবে।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গু রোগীতে উপচে পড়ছে কাউখালী হাসপাতাল, বাড়ছে উদ্বেগ

কাউখালীতে অবাধে ‘চাই’ দিয়ে মাছ শিকার: হুমকির মুখে দেশীয় মৎস্য সম্পদ

Update Time : ১২:৪৬:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

 

কাউখালী প্রতিনিধি;

 

পিরোজপুরের কাউখালীতে বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাশয়ে অবাধে চাই (বাঁশ ও বেত দিয়ে তৈরি মাছ ধরার ফাঁদ) ব্যবহার করে মাছ শিকারের কারণে দেশীয় মৎস্য সম্পদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ছোট ছোট পোনা মাছ নির্বিচারে ধরা পড়ায় মাছের স্বাভাবিক বংশবিস্তার ব্যাহত হচ্ছে। ফলে দিন দিন কমে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছের সংখ্যা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, মৌসুম শুরুর আগেই শত শত চাই তৈরি ও বিক্রি হচ্ছে। এসব চাই ব্যবহার করে খাল-বিল থেকে বড় মাছের পাশাপাশি অসংখ্য পোনা মাছও ধরা হচ্ছে। এতে করে জলাশয়ে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

উপজেলার কাউখালী বন্দরের বাসিন্দা মাহফুজুর রহমান বলেন, আগে আমাদের খাল-বিলে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। এখন চাই দিয়ে ছোট মাছ পর্যন্ত ধরে ফেলায় মাছের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছ খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে।

এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার রক্ষার জন্য ছোট মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি। চাই ব্যবহারের ফলে যদি পোনা মাছ ব্যাপক হারে ধরা পড়ে, তাহলে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন কমে যাবে।
আমরা নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছি এবং প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই সংকটের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশীয় মৎস্য সম্পদ আমাদের এক অমূল্য সম্পদ। প্রাকৃতিক জলাশয়ে চাই বা কারেন্ট জালের মতো নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকারক ফাঁদ পেতে যারা পোনা ও রেণু মাছ ধ্বংস করছে, তারা মূলত আমাদের ভবিষ্যৎ মৎস্য উৎপাদনকে হুমকির মুখে ফেলছে। আমরা কোনোভাবেই এই আইনবহির্ভূত কাজকে প্রশ্রয় দেব না। মৎস্য সম্পদ রক্ষায় উপজেলার বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়, খাল-বিল ও বাজারে মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা করা হবে।

Spread the love