সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ কাঁচামরিচ আমদানির ফলে স্থানীয় বাজারে পণ্যটির দাম ব্যাপক কমেছে। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি কাঁচামরিচের দাম ৩০০-৪০০ টাকা থেকে নেমে বর্তমানে ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে।
ভোমরা কাস্টম হাউসের রাজস্ব শাখার তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ আগস্ট থেকে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৩২০টি ট্রাকে মোট ৪ হাজার ৯২ মেট্রিক টন কাঁচামরিচ আমদানি করা হয়েছে।
বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যাপ্ত পরিমাণ কাঁচামরিচ আমদানি হওয়ায় স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতে সরবরাহ বেড়েছে। ফলে গ্রাম ও শহরের বাজারে কাঁচামরিচের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ প্রায় দুই সপ্তাহ আগেও একই কাঁচামরিচ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় কাঁচামরিচের দাম কমেছে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে আগামী দিনগুলোতেও বাজারমূল্য স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা কম দামে প্রয়োজনীয় কাঁচামরিচ কিনতে পারছেন।
তবে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির পরিমাণও কমে এসেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, গত দুই-তিন দিন ধরে ভোমরা বন্দর দিয়ে কাঁচামরিচ আমদানি প্রায় বন্ধ রয়েছে। হঠাৎ দাম কমে যাওয়ায় আমদানিকারকদের অনেকেই লাভের পরিবর্তে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
আমদানিকারক ফারহাদ হোসেন বলেন, বিপুল পরিমাণ কাঁচামরিচ বাজারে সরবরাহ থাকায় আগস্ট মাসজুড়ে দাম নিয়ন্ত্রণে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেপ্টেম্বর থেকে কাঁচামরিচের চাহিদা আবার বাড়তে পারে। সে কারণে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে এলসি (ঋণপত্র) খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে আমদানি অনুমতি (আইপি) নিয়ে কাঁচামরিচ আমদানি আবার পুরোদমে শুরু করা হবে। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ভারতীয় কাঁচামরিচ আমদানি বাড়তে পারে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার আমদানি অনুমতি বহাল রাখায় আমদানিকারকদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকছে।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থানীয় বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভর করেই কাঁচামরিচের দাম ওঠানামা করবে। বর্তমানে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় দাম কমে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাজার কিছুটা স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে।
Reporter Name 




















