কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারের মাঝে সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়েছে। তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এ সহায়তা অপ্রতুল বলে দাবি করে বরাদ্দ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন জেলেরা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে আমড়াজুড়ি ইউনিয়নের ৩১০টি নিবন্ধিত জেলে পরিবারের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়। এ সময় প্রতিটি পরিবারকে ২৫ কেজি করে মোট ৭ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন চাল প্রদান করা হয়।
চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আমড়াজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান, ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশুতোষ বড়াল এবং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইকবাল হোসেন।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কাউখালীর পাঁচটি ইউনিয়নের মোট ১ হাজার ৬৫০টি নিবন্ধিত জেলে পরিবারের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এ জন্য মোট ৪১ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
চাল গ্রহণ করতে এসে জেলেরা সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর দাবি জানান। জেলে লিটন সেখ ও সুকুমার বড়াল বলেন, “দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে ২২ দিনের অবরোধে মাত্র ২৫ কেজি চাল দিয়ে একটি পরিবারের সংসার চালানো কঠিন। চালের পাশাপাশি অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও কিনতে হয়। তাই সরকারি সহায়তা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকার নির্ধারিত সময়ে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জেলেদের দুর্ভোগ লাঘবে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হচ্ছে এবং সুনির্দিষ্ট তালিকা অনুযায়ী স্বচ্ছতার সঙ্গে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সহায়তার পরিমাণ বৃদ্ধির দাবির বিষয়টিও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।”
মৎস্য বিভাগ জানায়, ইলিশের টেকসই উৎপাদন ও প্রজনন নিশ্চিত করতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর নিয়মিত তদারকি ও অভিযান পরিচালনা করছে।
Reporter Name 

















