
একাধিক চুরির অভিযোগ স্থানীয়দের, তদন্তের দাবি
মো. রুহুল আমিন, নেছারাবাদ (পিরোজপুর) সংবাদদাতা:
পিরোজপুরের নেছারাবাদে বসতঘরে ঢুকে মোবাইল ফোন চুরি করে পালানোর সময় রাসেল খান (৩২) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে পুলিশ তাঁকে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (২০ অক্টোবর) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে স্বরূপকাঠি পৌরসভার জগন্নাথকাঠি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক রাসেল খান স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জগন্নাথকাঠি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্বরূপকাঠি রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামালের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে জগন্নাথকাঠি এলাকার বাসিন্দা মো. ফয়জুল হকের বসতঘরের পেছনের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন রাসেল। এ সময় একটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করেন গৃহকর্তা। তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে ধাওয়া করে রাসেলকে আটক করেন। পরে তাঁরা থানায় খবর দেন।
খবর পেয়ে নেছারাবাদ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনোয়ার পারভেজ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে রাসেলকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে থানায় যান।
ভুক্তভোগী মো. ফয়জুল হক বলেন, “ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে আমার ঘরের পেছনের দরজা খুলে রাসেল ভেতরে প্রবেশ করে। আমার মোবাইল ফোন নিয়ে পালানোর সময় বিষয়টি বুঝতে পেরে চিৎকার শুরু করি। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তাঁকে ধরে ফেলি। থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে তাঁকে নিয়ে যায়।”
রাসেল আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার আরও কয়েকজন বাসিন্দা তাঁদের বাড়িতে চুরির ঘটনার কথা তুলে ধরেন।
স্বরূপকাঠি পৌরসভার জগৎপট্টি গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় মিস্ত্রি জাকারিয়া অভিযোগ করেন, প্রায় এক মাস আগে তাঁর ঘর থেকে একটি আইফোন ও নগদ ১০ হাজার টাকা চুরি হয়। ঘটনার কয়েক দিন পর রাসেল তাঁর মায়ের কাছে চুরি হওয়া মোবাইল ফোনটি দিয়ে যান বলে তিনি দাবি করেন।
একই গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জীব সাহা জানান, গত ২ অক্টোবর তাঁর ঘরের পেছনের দরজা খুলে দুর্বৃত্তরা ভেতরে প্রবেশ করে সাত ভরি রুপা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। তবে এখনো চুরি হওয়া মালামালের কোনো সন্ধান পাননি তিনি।
তবে সঞ্জীব সাহার বাড়িতে সংঘটিত চুরির ঘটনার সঙ্গে রাসেলের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কেও বিস্তারিত জানা যায়নি।
এদিকে এলাকায় চুরি প্রতিরোধে পুলিশের নিয়মিত টহল বৃদ্ধি এবং সংঘটিত চুরির ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান জানান, স্থানীয় লোকজন রাসেলকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
Reporter Name 





















