Dhaka ০৬:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাতক্ষীরার গুড়পুকুরের মেলায় কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ, রাজস্ব পায়নি পৌরসভা নেছারাবাদে চুরির অভিযোগে যুবক আটক, আদালতে সোপর্দ কাউখালীতে টেইলার্স ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার মায়ের কোলে শিশুর মতো সব ধর্মের মানুষ নিরাপদে আছে: প্রতিমন্ত্রী আহাম্মেদ সোহেল মঞ্জুর সাতক্ষীরা সদর এলাকায় বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার তালা ও পাটকেলঘাটায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার সাতক্ষীরায় আইনজীবী সমিতির নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের প্রস্তুতি সভা সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের প্রস্তুতি সভা সাতক্ষীরায় ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালে সেবার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভা কাউখালীতে সাড়ে ৬ হাজার মিটার অবৈধ সুতার জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস

সাতক্ষীরার গুড়পুকুরের মেলায় কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ, রাজস্ব পায়নি পৌরসভা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০৭:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ Time View


সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

 

প্রায় ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী সাতক্ষীরার গুড়পুকুরের মেলা এবার বড় বাণিজ্যিক আয়োজনে পরিণত হয়েছে। মেলায় দোকান বরাদ্দ, দৈনিক ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য খরচের নামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। মেলার সঙ্গে নড়াইলের আওয়ামী লীগ নেতা মানিক শিকদারের বড় ছেলে হাসান শিকদারের সম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে মেলার আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব এবং অর্থ আদায়ের সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

সাতক্ষীরা পৌরসভার মালিকানাধীন শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে মেলা অনুষ্ঠিত হলেও পৌরসভা এখন পর্যন্ত কোনো রাজস্ব পায়নি বলে জানিয়েছে। ফলে মেলার ইজারা, অর্থ আদায় এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

দোকানভেদে দৈনিক ভাড়া ১ থেকে ১২ হাজার টাকা

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, মেলায় দোকানের ধরন ও আকারভেদে প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এর বাইরে বিদ্যুৎ বিল বাবদ দৈনিক ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইটের জন্য ৪০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। দোকান স্থাপনের জন্য ১০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।

মেলায় স্টল নেওয়া জুঁই হানি ফার্মের স্বত্বাধিকারী নাহিদা আক্তার বলেন, তাঁবুর জন্য ৭ হাজার টাকা, ডেকোরেশনের জন্য ৯ হাজার টাকা এবং ইট বাবদ ৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে তাঁকে। এ ছাড়া প্রতিদিন ১ হাজার ৬০০ টাকা ভাড়া এবং তিনটি লাইটের জন্য ৩০০ টাকা দিতে হচ্ছে। শৌচাগার ব্যবহারের জন্য প্রতিবার ১০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন মেলার আচার-চাটনির দোকানি আব্দুস সামাদ। তিনি বলেন, তাঁবুর জন্য ২০ হাজার টাকা এবং ডেকোরেশনের জন্য ১০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। তাঁর দাবি, মোট ৩০ হাজার টাকা অফেরতযোগ্য জামানত হিসেবে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিদিন ৪ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে, যার মধ্যে পাঁচটি লাইটের জন্য দৈনিক ৫০০ টাকা দিতে হয়।

ব্যবসায়ীদের দেওয়া এসব তথ্য অনুযায়ী, মেলায় দোকান পরিচালনার ব্যয় উল্লেখযোগ্য। তাঁদের দাবি, দোকান থেকে আদায় করা অর্থের ভিত্তিতে মেলায় দৈনিক গড়ে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা আয় হচ্ছে। তবে এ হিসাবের স্বাধীন যাচাই কিংবা মেলার মোট আয়-ব্যয়ের কোনো পূর্ণাঙ্গ নথি পাওয়া যায়নি।

ইজারা নিয়ে কমিটির বক্তব্য

মেলার ইজারা ও হাসান শিকদারের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলু বলেন, “আমরা নড়াইলের আওয়ামী লীগ নেতা মানিক শিকদারের ছেলেকে গুড়পুকুরের মেলার ইজারা দিইনি। আমরা খুলনার একজনকে ইজারা দিয়েছি। মেলায় বিভিন্ন স্টল বসানোর জন্য যাঁরা এসেছেন, তাঁরা ওই ব্যক্তির সঙ্গে এসেছেন। তবে মানিক শিকদারের ছেলে মেলার সঙ্গে কীভাবে যুক্ত হয়েছেন, সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য বা নথিপত্র নেই।”

মেলার ইজারার মোট ডাক কত টাকা ছিল, জানতে চাইলে আবু জাহিদ ডাবলু বলেন, গুড়পুকুরের মেলা দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য অনুসারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে ইজারার মোট অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে তিনি নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।

অন্যদিকে, মেলার পরিচালনা ও অর্থ আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসান শিকদার বলেন, “ওটা আমি জানি না ভাই, খরচখরচা বাদ দিয়ে যা থাকবে, তাই।”

মেলার সময়সীমা, ব্যয় এবং প্রশাসনকে অর্থ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাধারণত মেলা এক মাস চলে। তবে এবার দেশের পরিস্থিতির কারণে ২০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, খরচ ওঠানোই কঠিন হচ্ছে এবং সবাই মিলে ঝুঁকি নিয়ে মেলার আয়োজন করছেন। এটি কোনো একজনের নয়, সবার আয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে হাসান শিকদার বলেন, তাঁর কোনো দলীয় পদ নেই এবং তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন।

পৌরসভার রাজস্ব আদায় হয়নি

ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিভিন্ন খাতে অর্থ আদায়ের অভিযোগ থাকলেও মেলা থেকে পৌরসভা কোনো রাজস্ব পায়নি বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)।

তিনি বলেন, শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক পৌরসভার মালিকানাধীন জায়গা। বৃক্ষমেলা, স্থানীয় মেলাসহ বিভিন্ন আয়োজনের জন্য জায়গাটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। বর্তমানে গুড়পুকুরের মেলাও সেখানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে এ মেলা থেকে এখন পর্যন্ত পৌরসভা কোনো ধরনের রাজস্ব আদায় করেনি বা পায়নি।

এ অবস্থায় পৌরসভার মালিকানাধীন জায়গায় মেলা আয়োজনের অনুমতি কী শর্তে দেওয়া হয়েছে, ইজারার অর্থ কোথায় জমা হয়েছে এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থের হিসাব কী—এসব প্রশ্নের জবাব জানতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

শেষ হচ্ছে মেলা, স্থাপনা সরাতে সময়

২০ দিনব্যাপী আয়োজন শেষে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হচ্ছে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুরের মেলা। তবে দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা খুলে সরিয়ে নিতে আয়োজকদের কিছুটা সময় দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ।

তিনি বলেন, মেলার সময় আনুষ্ঠানিকভাবে বাড়ানো হচ্ছে না। স্থাপনা খুলে সরিয়ে নেওয়ার জন্য আয়োজকেরা সময় চেয়েছেন। তাই তাঁদের ধীরে ধীরে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, মেলা থেকে জেলা প্রশাসন কত টাকা ইজারা পেয়েছে কিংবা কোনো অর্থ পেয়েছে কি না, তা জানতে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মেলার ইজারা, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথিপত্র ও বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতক্ষীরার গুড়পুকুরের মেলায় কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ, রাজস্ব পায়নি পৌরসভা

সাতক্ষীরার গুড়পুকুরের মেলায় কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ, রাজস্ব পায়নি পৌরসভা

Update Time : ০৩:০৭:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

 

প্রায় ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী সাতক্ষীরার গুড়পুকুরের মেলা এবার বড় বাণিজ্যিক আয়োজনে পরিণত হয়েছে। মেলায় দোকান বরাদ্দ, দৈনিক ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য খরচের নামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। মেলার সঙ্গে নড়াইলের আওয়ামী লীগ নেতা মানিক শিকদারের বড় ছেলে হাসান শিকদারের সম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে মেলার আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব এবং অর্থ আদায়ের সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

সাতক্ষীরা পৌরসভার মালিকানাধীন শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে মেলা অনুষ্ঠিত হলেও পৌরসভা এখন পর্যন্ত কোনো রাজস্ব পায়নি বলে জানিয়েছে। ফলে মেলার ইজারা, অর্থ আদায় এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

দোকানভেদে দৈনিক ভাড়া ১ থেকে ১২ হাজার টাকা

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, মেলায় দোকানের ধরন ও আকারভেদে প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এর বাইরে বিদ্যুৎ বিল বাবদ দৈনিক ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইটের জন্য ৪০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। দোকান স্থাপনের জন্য ১০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।

মেলায় স্টল নেওয়া জুঁই হানি ফার্মের স্বত্বাধিকারী নাহিদা আক্তার বলেন, তাঁবুর জন্য ৭ হাজার টাকা, ডেকোরেশনের জন্য ৯ হাজার টাকা এবং ইট বাবদ ৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে তাঁকে। এ ছাড়া প্রতিদিন ১ হাজার ৬০০ টাকা ভাড়া এবং তিনটি লাইটের জন্য ৩০০ টাকা দিতে হচ্ছে। শৌচাগার ব্যবহারের জন্য প্রতিবার ১০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন মেলার আচার-চাটনির দোকানি আব্দুস সামাদ। তিনি বলেন, তাঁবুর জন্য ২০ হাজার টাকা এবং ডেকোরেশনের জন্য ১০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। তাঁর দাবি, মোট ৩০ হাজার টাকা অফেরতযোগ্য জামানত হিসেবে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিদিন ৪ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে, যার মধ্যে পাঁচটি লাইটের জন্য দৈনিক ৫০০ টাকা দিতে হয়।

ব্যবসায়ীদের দেওয়া এসব তথ্য অনুযায়ী, মেলায় দোকান পরিচালনার ব্যয় উল্লেখযোগ্য। তাঁদের দাবি, দোকান থেকে আদায় করা অর্থের ভিত্তিতে মেলায় দৈনিক গড়ে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা আয় হচ্ছে। তবে এ হিসাবের স্বাধীন যাচাই কিংবা মেলার মোট আয়-ব্যয়ের কোনো পূর্ণাঙ্গ নথি পাওয়া যায়নি।

ইজারা নিয়ে কমিটির বক্তব্য

মেলার ইজারা ও হাসান শিকদারের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলু বলেন, “আমরা নড়াইলের আওয়ামী লীগ নেতা মানিক শিকদারের ছেলেকে গুড়পুকুরের মেলার ইজারা দিইনি। আমরা খুলনার একজনকে ইজারা দিয়েছি। মেলায় বিভিন্ন স্টল বসানোর জন্য যাঁরা এসেছেন, তাঁরা ওই ব্যক্তির সঙ্গে এসেছেন। তবে মানিক শিকদারের ছেলে মেলার সঙ্গে কীভাবে যুক্ত হয়েছেন, সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য বা নথিপত্র নেই।”

মেলার ইজারার মোট ডাক কত টাকা ছিল, জানতে চাইলে আবু জাহিদ ডাবলু বলেন, গুড়পুকুরের মেলা দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য অনুসারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে ইজারার মোট অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে তিনি নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।

অন্যদিকে, মেলার পরিচালনা ও অর্থ আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসান শিকদার বলেন, “ওটা আমি জানি না ভাই, খরচখরচা বাদ দিয়ে যা থাকবে, তাই।”

মেলার সময়সীমা, ব্যয় এবং প্রশাসনকে অর্থ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাধারণত মেলা এক মাস চলে। তবে এবার দেশের পরিস্থিতির কারণে ২০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, খরচ ওঠানোই কঠিন হচ্ছে এবং সবাই মিলে ঝুঁকি নিয়ে মেলার আয়োজন করছেন। এটি কোনো একজনের নয়, সবার আয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে হাসান শিকদার বলেন, তাঁর কোনো দলীয় পদ নেই এবং তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন।

পৌরসভার রাজস্ব আদায় হয়নি

ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিভিন্ন খাতে অর্থ আদায়ের অভিযোগ থাকলেও মেলা থেকে পৌরসভা কোনো রাজস্ব পায়নি বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)।

তিনি বলেন, শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক পৌরসভার মালিকানাধীন জায়গা। বৃক্ষমেলা, স্থানীয় মেলাসহ বিভিন্ন আয়োজনের জন্য জায়গাটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। বর্তমানে গুড়পুকুরের মেলাও সেখানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে এ মেলা থেকে এখন পর্যন্ত পৌরসভা কোনো ধরনের রাজস্ব আদায় করেনি বা পায়নি।

এ অবস্থায় পৌরসভার মালিকানাধীন জায়গায় মেলা আয়োজনের অনুমতি কী শর্তে দেওয়া হয়েছে, ইজারার অর্থ কোথায় জমা হয়েছে এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থের হিসাব কী—এসব প্রশ্নের জবাব জানতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

শেষ হচ্ছে মেলা, স্থাপনা সরাতে সময়

২০ দিনব্যাপী আয়োজন শেষে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হচ্ছে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুরের মেলা। তবে দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা খুলে সরিয়ে নিতে আয়োজকদের কিছুটা সময় দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ।

তিনি বলেন, মেলার সময় আনুষ্ঠানিকভাবে বাড়ানো হচ্ছে না। স্থাপনা খুলে সরিয়ে নেওয়ার জন্য আয়োজকেরা সময় চেয়েছেন। তাই তাঁদের ধীরে ধীরে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, মেলা থেকে জেলা প্রশাসন কত টাকা ইজারা পেয়েছে কিংবা কোনো অর্থ পেয়েছে কি না, তা জানতে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মেলার ইজারা, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথিপত্র ও বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Spread the love