Dhaka ১০:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফরিদপুরে মিথ্যা মামলা করে নিজেই কারাগারে বাদী, দুই আসামি খালাস সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির নতুন সভাপতি ডা. আবুল কালাম বাবলা সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্তে সাড়ে ৭ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ নদীভাঙনে দেবে গেছে আমরাজুরি ফেরিঘাটের ডালা, বন্ধ যানবাহন পারাপার কাউখালীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্র গুরুতর আহত, বরিশালে রেফার চকরিয়ায় ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে মানববন্ধন, বৃহত্তর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি সাতক্ষীরায় কীটনাশক স্প্রে করতে গিয়ে নিখোঁজ, চার দিন পর ধানক্ষেতে মিলল মনোরঞ্জনের মরদেহ কাউখালীতে কঁচা নদীতে ৬৫ হাজার টাকার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ বাকেরগঞ্জে ইটভাঙা মালিক-শ্রমিক ঐক্য কল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি গঠন নেছারাবাদে শীতলা মন্দিরের ৪২ শতাংশ জমি জবরদখলের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত দাবি

সাতক্ষীরায় ১০ মাসে পানিতে ডুবে ২২ জনের মৃত্যু, ১৯ জনই শিশু

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৩৭:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৩ Time View

 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

 

সাতক্ষীরায় চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে পানিতে ডুবে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৯ জনই শিশু। পুকুর, নদী, খাল ও মাছের ঘেরে ডুবে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের সদস্যদের অসতর্কতা, শিশুদের সাঁতার না জানা এবং জলাশয়ের আশপাশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থার অভাবকে এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে জেলায় পানিতে ডুবে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরের প্রথম দিনেই কলারোয়া উপজেলার সিংহলাল গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই সহোদর শিশু জান্নাতুল (৩) ও সানজাদুলের (২) মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এ ছাড়া সেপ্টেম্বর মাসেও জেলার বিভিন্ন স্থানে পানিতে ডুবে একাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয়ভাবে ঘটে যাওয়া এসব দুর্ঘটনার বেশির ভাগই ঘটছে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে। বাড়ির আশপাশের পুকুর কিংবা জলাশয়ের কাছে খেলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত পানিতে পড়ে প্রাণ হারাচ্ছে শিশুরা। শিশুদের সার্বক্ষণিক নজরদারির অভাব এবং সাঁতার না জানা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

শুধু সাতক্ষীরায় নয়, সারা দেশেই পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক। ডিজাস্টার ফোরামের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে পানিতে ডুবে ৫৮২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ পরিসংখ্যান শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ভয়াবহতা তুলে ধরছে।

সাতক্ষীরা জেলা শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম জানান, শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে দেবহাটা ও শ্যামনগর উপজেলায় একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। তবে প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৫ সালে শেষ হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু প্রতিরোধে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়া জরুরি। পাশাপাশি পুকুর ও অন্যান্য জলাশয়ের পাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার, শিশুদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা এবং সাঁতার শেখানোর উদ্যোগ নিতে হবে। এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

একটু সচেতনতা ও কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা অনেক শিশুর প্রাণ রক্ষা করতে পারে। তাই পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু রোধে এখনই প্রয়োজন সমন্বিত ও টেকসই পদক্ষেপ।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদপুরে মিথ্যা মামলা করে নিজেই কারাগারে বাদী, দুই আসামি খালাস

সাতক্ষীরায় ১০ মাসে পানিতে ডুবে ২২ জনের মৃত্যু, ১৯ জনই শিশু

Update Time : ০২:৩৭:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

 

সাতক্ষীরায় চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে পানিতে ডুবে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৯ জনই শিশু। পুকুর, নদী, খাল ও মাছের ঘেরে ডুবে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের সদস্যদের অসতর্কতা, শিশুদের সাঁতার না জানা এবং জলাশয়ের আশপাশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থার অভাবকে এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে জেলায় পানিতে ডুবে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরের প্রথম দিনেই কলারোয়া উপজেলার সিংহলাল গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই সহোদর শিশু জান্নাতুল (৩) ও সানজাদুলের (২) মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এ ছাড়া সেপ্টেম্বর মাসেও জেলার বিভিন্ন স্থানে পানিতে ডুবে একাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয়ভাবে ঘটে যাওয়া এসব দুর্ঘটনার বেশির ভাগই ঘটছে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে। বাড়ির আশপাশের পুকুর কিংবা জলাশয়ের কাছে খেলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত পানিতে পড়ে প্রাণ হারাচ্ছে শিশুরা। শিশুদের সার্বক্ষণিক নজরদারির অভাব এবং সাঁতার না জানা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

শুধু সাতক্ষীরায় নয়, সারা দেশেই পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক। ডিজাস্টার ফোরামের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে পানিতে ডুবে ৫৮২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ পরিসংখ্যান শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ভয়াবহতা তুলে ধরছে।

সাতক্ষীরা জেলা শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম জানান, শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে দেবহাটা ও শ্যামনগর উপজেলায় একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। তবে প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৫ সালে শেষ হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু প্রতিরোধে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়া জরুরি। পাশাপাশি পুকুর ও অন্যান্য জলাশয়ের পাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার, শিশুদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা এবং সাঁতার শেখানোর উদ্যোগ নিতে হবে। এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

একটু সচেতনতা ও কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা অনেক শিশুর প্রাণ রক্ষা করতে পারে। তাই পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু রোধে এখনই প্রয়োজন সমন্বিত ও টেকসই পদক্ষেপ।

Spread the love