
বানারীপাড়া প্রতিনিধি ;
বরিশালের বানারীপাড়া পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবার বন্ধ না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের টিএনটি মোড়সংলগ্ন বেপারিবাড়ি এলাকায় ‘গাঁজা মিন্টু’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁর বাড়িকে কেন্দ্র করে এলাকায় মাদক কেনাবেচা চলছে। দিন-রাত বিভিন্ন বয়সী মানুষের যাতায়াত ঘিরে এলাকাটি অনেকটা মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, মিন্টুর একাধিক সহযোগী রয়েছেন, যাঁরা তাঁর কাছ থেকে গাঁজা নিয়ে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করেন। গাঁজার পাশাপাশি ইয়াবা কেনাবেচার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তাঁদের অভিযোগ, কাছেই বানারীপাড়া থানা থাকলেও মাদক কারবার বন্ধ হচ্ছে না। এ নিয়ে স্থানীয়দের কেউ কেউ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, প্রশাসনের কোনো অসাধু ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সম্প্রতি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মৃধা মিন্টুকে হাতেনাতে ধরেছিলেন। ওই সময় মিন্টু তাঁর কাছে ক্ষমা চেয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়া এবং মাদক কারবার বন্ধ করে স্বাভাবিক পেশায় যুক্ত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে জানান রিয়াজ। কিন্তু দুই মাস না যেতেই মিন্টু আবারও এলাকায় ফিরে প্রকাশ্যে মাদক কারবার শুরু করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
এ ব্যাপারে উপজেলা বানারীপাড়া বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মৃধা বলেন, “আমি মিন্টুকে হাতেনাতে ধরেছিলাম এবং এলাকা ছেড়ে যাওয়ার জন্য বলেছিলাম। পরে সে অন্য উপজেলায় গিয়ে লোকজনের মাধ্যমে গোপনে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল বলে জানতে পারি। এখন আবার বানারীপাড়ায় ফিরে ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে বলেছি। মাদক এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছে এবং যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
প্রতিবেশীদের অভিযোগ, মিন্টু প্রকাশ্যে দম্ভ করে মাদক কারবার চালিয়ে যাওয়ার কথা বলে থাকেন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বানারীপাড়া পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক কেনাবেচা ও সেবনের প্রবণতা বেড়েছে। পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড ছাড়াও মহিষাপোতা, খেজুরবাড়ি, ধারালিয়া, বেতাল ও আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকায় শাকিল ও ‘লেংটা সোহেল’ নামে পরিচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, তাঁদের নেতৃত্বে এসব এলাকায় মাদকের বাণিজ্য চলছে এবং এ-সংক্রান্ত নেটওয়ার্ক বানারীপাড়ার বাইরে উজিরপুর, নেছারাবাদ ও ঝালকাঠির বিভিন্ন এলাকাতেও বিস্তৃত। এ ছাড়া উপজেলার প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে শাকিল ও ‘লেংটা সোহেল’-এর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি; অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাইও প্রয়োজন।
মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে প্রশ্ন
বানারীপাড়া উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযান চলমান থাকার কথা বলা হলেও মাদক কারবার পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, মাঝেমধ্যে অভিযানে মাদকসেবী ও খুচরা পর্যায়ের ব্যক্তিরা আটক হলেও মাদক সরবরাহের মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।
এলাকার সুশীল সমাজের কয়েকজন সদস্য মাদকবিরোধী অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, মাদক কারবারিদের সঙ্গে কারও যোগসাজশ থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করে আনা প্রয়োজন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রশাসনের কোনো সদস্যের সঙ্গে মাদক কারবারিদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের সঠিক নয় আমরা মাদকের বিষয়ে কাউকে ছাড় দেইনা।
এলাকাবাসীর স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে মাদকের বিস্তার যুবসমাজের জন্য আরও বড় হুমকি হয়ে উঠবে।
গাঁজা মিন্টু’, শাকিল ও ‘লেংটা সোহেল এদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, মাদক সরবরাহের উৎস শনাক্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকরি ব্যবস্থা এবং অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সহযোগী ও আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন,মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স গাঁজা মিন্টু’, শাকিল ও ‘লেংটা সোহেল এদের নামে থানায় মামলা রয়েছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
নাঈম মোঘল বানারীপাড়া 



















