Dhaka ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফরিদপুরে মিথ্যা মামলা করে নিজেই কারাগারে বাদী, দুই আসামি খালাস সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির নতুন সভাপতি ডা. আবুল কালাম বাবলা সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্তে সাড়ে ৭ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ নদীভাঙনে দেবে গেছে আমরাজুরি ফেরিঘাটের ডালা, বন্ধ যানবাহন পারাপার কাউখালীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্র গুরুতর আহত, বরিশালে রেফার চকরিয়ায় ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে মানববন্ধন, বৃহত্তর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি সাতক্ষীরায় কীটনাশক স্প্রে করতে গিয়ে নিখোঁজ, চার দিন পর ধানক্ষেতে মিলল মনোরঞ্জনের মরদেহ কাউখালীতে কঁচা নদীতে ৬৫ হাজার টাকার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ বাকেরগঞ্জে ইটভাঙা মালিক-শ্রমিক ঐক্য কল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি গঠন নেছারাবাদে শীতলা মন্দিরের ৪২ শতাংশ জমি জবরদখলের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত দাবি

ছুটিতে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর কাউখালীর ডলফিন চত্বর

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:০১:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ২২ Time View

 

কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

 

পিরোজপুরের কাউখালীতে কঁচা নদীর তীরে নবনির্মিত ‘ডলফিন চত্বর’ এখন বিনোদনপ্রেমীদের অন্যতম আকর্ষণ। টানা সরকারি ছুটি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাশে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে এখানে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে বেকুটিয়া সেতুসংলগ্ন এ এলাকা।

ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, শারদীয় দুর্গাপূজা কিংবা অন্য কোনো দীর্ঘ ছুটিতে কাউখালীসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা ও দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন এখানে। প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কঁচা নদীর বিস্তীর্ণ জলরাশি, নদীর বুক থেকে বয়ে আসা স্নিগ্ধ বাতাস আর ডলফিনের মুখ থেকে নির্গত পানির ফোয়ারা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। নদীর তীরঘেঁষা কাশবনের দোল খাওয়া, খোলামেলা পরিবেশ এবং শিশু-কিশোরদের প্রাণচঞ্চল উপস্থিতি পুরো এলাকায় তৈরি করেছে এক মনোরম আবহ।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এ বিনোদনকেন্দ্র সময়ের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ছুটির দিনে পরিবার নিয়ে কিছুটা সময় কাটাতে কিংবা নাগরিক ব্যস্ততা থেকে দূরে প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন ডলফিন চত্বরকে।

দর্শনার্থীদের আনাগোনা বাড়ায় নদীর পাড় ও চত্বরসংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি খাবারের হোটেল ও রেস্তোরাঁ। এসব প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের খাবার পাওয়া যাচ্ছে। ফলে নদীর সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি পছন্দের খাবারের স্বাদ নিতেও ভিড় করছেন অনেকে। কাউখালীর বাইরেও ভাণ্ডারিয়া, নেছারাবাদ, রাজাপুর, কাঁঠালিয়া ও পিরোজপুর সদর থেকে প্রতিদিন বহু মানুষ এখানে বেড়াতে আসছেন।

শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে ডলফিন চত্বরে ঘুরতে এসে মুগ্ধতার কথা জানান মাগুরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সুরভী। তিনি বলেন, “পূজার ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে এসে বেকুটিয়া সেতুর নিচে ডলফিন চত্বরে ঘুরতে এসে ভীষণ ভালো লেগেছে। শহরের যান্ত্রিক কোলাহল ও ব্যস্ততার বাইরে এখানকার খোলামেলা পরিবেশ, নির্মল বাতাস আর নদীর স্নিগ্ধ দৃশ্য মন জুড়িয়ে দেয়। বারবার এখানে আসতে ইচ্ছে করে।”

কাউখালীতে বিনোদনের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী রাফিদ ও কাউখালীর গৃহবধূ আইরিন বলেন, কাউখালীতে মানসম্মত বিনোদনকেন্দ্রের অভাব রয়েছে। বেকুটিয়া সেতুর নিচে ডলফিন চত্বর এলাকায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত একটি ইকোপার্ক গড়ে তোলা হলে স্থানটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। এতে কাউখালীসহ আশপাশের এলাকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষ পরিবার নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে ডলফিন চত্বরকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা সম্ভব। দর্শনার্থীদের জন্য বসার ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে স্থানটি দক্ষিণাঞ্চলের সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

তাঁদের মতে, ডলফিন চত্বরের উন্নয়ন শুধু মানুষের বিনোদনের সুযোগই বাড়াবে না, বরং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। যথাযথ পরিকল্পনা ও উদ্যোগের মাধ্যমে কঁচা নদীর তীরের এই মনোরম স্থান হয়ে উঠতে পারে কাউখালীর অন্যতম পরিচিত পর্যটন আকর্ষণ।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদপুরে মিথ্যা মামলা করে নিজেই কারাগারে বাদী, দুই আসামি খালাস

ছুটিতে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর কাউখালীর ডলফিন চত্বর

Update Time : ১০:০১:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

 

কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

 

পিরোজপুরের কাউখালীতে কঁচা নদীর তীরে নবনির্মিত ‘ডলফিন চত্বর’ এখন বিনোদনপ্রেমীদের অন্যতম আকর্ষণ। টানা সরকারি ছুটি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাশে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে এখানে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে বেকুটিয়া সেতুসংলগ্ন এ এলাকা।

ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, শারদীয় দুর্গাপূজা কিংবা অন্য কোনো দীর্ঘ ছুটিতে কাউখালীসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা ও দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন এখানে। প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কঁচা নদীর বিস্তীর্ণ জলরাশি, নদীর বুক থেকে বয়ে আসা স্নিগ্ধ বাতাস আর ডলফিনের মুখ থেকে নির্গত পানির ফোয়ারা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। নদীর তীরঘেঁষা কাশবনের দোল খাওয়া, খোলামেলা পরিবেশ এবং শিশু-কিশোরদের প্রাণচঞ্চল উপস্থিতি পুরো এলাকায় তৈরি করেছে এক মনোরম আবহ।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এ বিনোদনকেন্দ্র সময়ের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ছুটির দিনে পরিবার নিয়ে কিছুটা সময় কাটাতে কিংবা নাগরিক ব্যস্ততা থেকে দূরে প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন ডলফিন চত্বরকে।

দর্শনার্থীদের আনাগোনা বাড়ায় নদীর পাড় ও চত্বরসংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি খাবারের হোটেল ও রেস্তোরাঁ। এসব প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের খাবার পাওয়া যাচ্ছে। ফলে নদীর সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি পছন্দের খাবারের স্বাদ নিতেও ভিড় করছেন অনেকে। কাউখালীর বাইরেও ভাণ্ডারিয়া, নেছারাবাদ, রাজাপুর, কাঁঠালিয়া ও পিরোজপুর সদর থেকে প্রতিদিন বহু মানুষ এখানে বেড়াতে আসছেন।

শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে ডলফিন চত্বরে ঘুরতে এসে মুগ্ধতার কথা জানান মাগুরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সুরভী। তিনি বলেন, “পূজার ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে এসে বেকুটিয়া সেতুর নিচে ডলফিন চত্বরে ঘুরতে এসে ভীষণ ভালো লেগেছে। শহরের যান্ত্রিক কোলাহল ও ব্যস্ততার বাইরে এখানকার খোলামেলা পরিবেশ, নির্মল বাতাস আর নদীর স্নিগ্ধ দৃশ্য মন জুড়িয়ে দেয়। বারবার এখানে আসতে ইচ্ছে করে।”

কাউখালীতে বিনোদনের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী রাফিদ ও কাউখালীর গৃহবধূ আইরিন বলেন, কাউখালীতে মানসম্মত বিনোদনকেন্দ্রের অভাব রয়েছে। বেকুটিয়া সেতুর নিচে ডলফিন চত্বর এলাকায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত একটি ইকোপার্ক গড়ে তোলা হলে স্থানটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। এতে কাউখালীসহ আশপাশের এলাকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষ পরিবার নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে ডলফিন চত্বরকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা সম্ভব। দর্শনার্থীদের জন্য বসার ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে স্থানটি দক্ষিণাঞ্চলের সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

তাঁদের মতে, ডলফিন চত্বরের উন্নয়ন শুধু মানুষের বিনোদনের সুযোগই বাড়াবে না, বরং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। যথাযথ পরিকল্পনা ও উদ্যোগের মাধ্যমে কঁচা নদীর তীরের এই মনোরম স্থান হয়ে উঠতে পারে কাউখালীর অন্যতম পরিচিত পর্যটন আকর্ষণ।

Spread the love