Dhaka ০৮:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে তোলা ছবি প্রোফাইলে ব্যবহার না করার অনুরোধ, নেতাকর্মীদের প্রতি বিশেষ বার্তা ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পিরোজপুরকে মাদকমুক্ত করতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান, নেছারাবাদ ও কাউখালীতে মতবিনিময় সভা  তালায় দুই বাল্যবিবাহ বন্ধ, কনের বাবাকে জরিমানা সাতক্ষীরা ‘ল’ কলেজে প্রবেশপত্রের জন্য অতিরিক্ত টাকা দাবির অভিযোগ, রসিদ ছাড়াই আদায়ের দাবি রামপালে ‘নিরাপদ অনলাইন, সুরক্ষিত শৈশব’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত বাকেরগঞ্জে বিএনপি নেতার কেয়ারটেকারকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, থানায় জিডি কাউখালীতে বাল্যবিবাহ ও মাদক প্রতিরোধে সমাবেশ, চার কিশোরী পেলেন লক্ষাধিক টাকার চেক কাউখালীতে নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরায় মলদ্বারে স্বর্ণের পেস্ট, ভারতীয় নাগরিক আটক

কাউখালীতে সন্ধ্যা নদীর ভয়াবহ ভাঙন, বিলীন বসতভিটা; ঝুঁকিতে পাঁচ মন্দির

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:১০:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৬ Time View

 

 

কাউখালী প্রতিনিধি:

 

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার আমড়াজুড়ি ইউনিয়নের মধ্য সোনাকুর গ্রামের পালপাড়ায় সন্ধ্যা নদীর তীব্র ভাঙনে বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আকস্মিক এ ভাঙনে বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে পুরো এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে কয়েকটি মন্দির ও একাধিক বসতবাড়ি, ফলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম তীরে হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়। স্থানীয়রা জানান, মুহূর্তের মধ্যে নদীগর্ভে তলিয়ে যায় মনা মালোর বসতঘর। ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘরবাড়িতে থাকা মানুষজন দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাঙনের কারণে লোকনাথ মন্দির, কালী মন্দির, দুর্গা মন্দির, শীতলা মন্দির ও গঙ্গা মন্দির এখন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যেকোনো সময় এসব ধর্মীয় স্থাপনাও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

এদিকে অমল পাল, পরিমল পাল, তৃপ্তি পাল, রবি মালো, বিপুল মালো, সুজন মালো, সঞ্জীব মালো ও রমেন পালসহ অন্তত ১০ থেকে ১২টি পরিবারের বসতবাড়ি চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কায় অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও একই এলাকায় সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে ২০ থেকে ২২টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত অমল পাল ও রবি মালো বলেন, “সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি ঘরের চারপাশে ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে দ্রুত ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হয়েছে।”

অপর ক্ষতিগ্রস্ত বিপুল মালো বলেন, “গ্রামের পাঁচটি মন্দিরই এখন ভাঙনের মুখে। সামনে দুর্গাপূজা। এমন পরিস্থিতিতে পূজার আয়োজন নিয়ে আমরা চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছি।”

সকাল থেকে গৃহহারা পরিবারগুলোর অনেকেই খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শেষ সম্বলটুকু হারানোর আশঙ্কায় তাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।

ভাঙনের খবর পেয়ে আমড়াজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আক্তার জেলা পর্যায়ের একটি সভায় ব্যস্ত থাকায় তিনি সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছেন।

এলাকাবাসী দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে তোলা ছবি প্রোফাইলে ব্যবহার না করার অনুরোধ, নেতাকর্মীদের প্রতি বিশেষ বার্তা

কাউখালীতে সন্ধ্যা নদীর ভয়াবহ ভাঙন, বিলীন বসতভিটা; ঝুঁকিতে পাঁচ মন্দির

Update Time : ০৩:১০:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

কাউখালী প্রতিনিধি:

 

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার আমড়াজুড়ি ইউনিয়নের মধ্য সোনাকুর গ্রামের পালপাড়ায় সন্ধ্যা নদীর তীব্র ভাঙনে বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আকস্মিক এ ভাঙনে বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে পুরো এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে কয়েকটি মন্দির ও একাধিক বসতবাড়ি, ফলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম তীরে হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়। স্থানীয়রা জানান, মুহূর্তের মধ্যে নদীগর্ভে তলিয়ে যায় মনা মালোর বসতঘর। ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘরবাড়িতে থাকা মানুষজন দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাঙনের কারণে লোকনাথ মন্দির, কালী মন্দির, দুর্গা মন্দির, শীতলা মন্দির ও গঙ্গা মন্দির এখন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যেকোনো সময় এসব ধর্মীয় স্থাপনাও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

এদিকে অমল পাল, পরিমল পাল, তৃপ্তি পাল, রবি মালো, বিপুল মালো, সুজন মালো, সঞ্জীব মালো ও রমেন পালসহ অন্তত ১০ থেকে ১২টি পরিবারের বসতবাড়ি চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কায় অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও একই এলাকায় সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে ২০ থেকে ২২টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত অমল পাল ও রবি মালো বলেন, “সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি ঘরের চারপাশে ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে দ্রুত ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হয়েছে।”

অপর ক্ষতিগ্রস্ত বিপুল মালো বলেন, “গ্রামের পাঁচটি মন্দিরই এখন ভাঙনের মুখে। সামনে দুর্গাপূজা। এমন পরিস্থিতিতে পূজার আয়োজন নিয়ে আমরা চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছি।”

সকাল থেকে গৃহহারা পরিবারগুলোর অনেকেই খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শেষ সম্বলটুকু হারানোর আশঙ্কায় তাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।

ভাঙনের খবর পেয়ে আমড়াজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আক্তার জেলা পর্যায়ের একটি সভায় ব্যস্ত থাকায় তিনি সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছেন।

এলাকাবাসী দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Spread the love