Dhaka ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের: গৃহায়ন ও গনপূর্ত প্রতিমন্ত্রী সোহেল মনজুর কাউখালীতে শহীদ জিয়া স্মৃতি মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরা-কলারোয়া সীমান্তে প্রায় ৭ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ তালায় খাঁচায় আটকে গুরুতর আহত বনবিড়ালের বাচ্চা উদ্ধার সাতক্ষীরায় সুপারির বাণিজ্যিক চাষ, বছরে বিক্রি ২২ কোটি টাকার সাতক্ষীরার ছয়ঘরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল নারীর কাউখালীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২’ এর উদ্বোধন সাতক্ষীরায় বায়তুল হামদ্ জামে মসজিদের ছাদ ঢালাইয়ের উদ্বোধন সাতক্ষীরায় ‘দৈনিক সাতক্ষীরা খবর’-এর যাত্রা শুরু সাতক্ষীরার মানুষের খাদেম হয়ে কাজ করতে চাই: এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক

কাঁচা কলা বিতরণে তোলপাড়: শাস্তি শিক্ষকের, দায় কার?

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০৩:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ১০৬ Time View

 

ফরিদপুর প্রতিনিধি ;

ফরিদপুর সদর উপজেলার ৯৩ নম্বর শহীদ সালাহ উদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির টিফিনে শিক্ষার্থীদের জন্য বনরুটির সঙ্গে কাঁচা কলা বিতরণকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিলেও, সেই ব্যবস্থাকে ঘিরেই উঠেছে প্রশ্ন—প্রকৃত দায় কার?

ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার (২৬ এপ্রিল)। সরকারি পুষ্টি কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে টিফিন বিতরণ করা হলে দেখা যায়, দেওয়া কলাগুলো সম্পূর্ণ কাঁচা এবং খাওয়ার অযোগ্য। শিক্ষার্থীরা তা খেতে না পারায় বিষয়টি অভিভাবকদের নজরে আসে এবং দ্রুতই জনমনে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।


এর জেরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সহকারী শিক্ষক গোলাপী বেগমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দীনের স্বাক্ষরিত আদেশে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও শিক্ষার মান রক্ষায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক গোলাপী বেগম দাবি করেছেন, তিনি পরিস্থিতির শিকার। প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যেভাবে খাদ্য সরবরাহ করেছে, কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকায় তিনি সেটিই বিতরণ করেছেন। তার ভাষ্য, “সাগরকলা অনেক সময় বাইরে কাঁচা দেখালেও ভেতরে পাকা থাকতে পারে। কিন্তু এ বিষয়ে আমাদের কোনো প্রশিক্ষণ বা দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি।”


বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশলেনা খাতুনও একই সুরে বলেন, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিয়মিত নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ করে আসছে। “তাদের দেওয়া কলা পাঁচ দিনেও পাকেনি। অথচ দায় চাপানো হলো শিক্ষকের ওপর,”—যোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে, খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা’র পরিচালক মো. জাকির হোসেন জানান, কলাগুলো দুই দিন আগেই সরবরাহ করা হয়েছিল যেন সেগুলো পেকে যায়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই বিতরণ করায় এই সমস্যা হয়েছে বলে দাবি তার।

এদিকে, ফরিদপুর শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান হোসেন এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “সরবরাহকারী কাঁচা কলা দিলে শিক্ষক কী করবেন? নীতিমালা নিয়েও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। প্রকৃত দোষীদের আড়াল করে শিক্ষককে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে।”

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় শিক্ষক সমাজে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। অবিলম্বে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে, অন্যথায় আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।

তবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের: গৃহায়ন ও গনপূর্ত প্রতিমন্ত্রী সোহেল মনজুর

কাঁচা কলা বিতরণে তোলপাড়: শাস্তি শিক্ষকের, দায় কার?

Update Time : ০৩:০৩:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

 

ফরিদপুর প্রতিনিধি ;

ফরিদপুর সদর উপজেলার ৯৩ নম্বর শহীদ সালাহ উদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির টিফিনে শিক্ষার্থীদের জন্য বনরুটির সঙ্গে কাঁচা কলা বিতরণকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিলেও, সেই ব্যবস্থাকে ঘিরেই উঠেছে প্রশ্ন—প্রকৃত দায় কার?

ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার (২৬ এপ্রিল)। সরকারি পুষ্টি কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে টিফিন বিতরণ করা হলে দেখা যায়, দেওয়া কলাগুলো সম্পূর্ণ কাঁচা এবং খাওয়ার অযোগ্য। শিক্ষার্থীরা তা খেতে না পারায় বিষয়টি অভিভাবকদের নজরে আসে এবং দ্রুতই জনমনে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।


এর জেরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সহকারী শিক্ষক গোলাপী বেগমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দীনের স্বাক্ষরিত আদেশে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও শিক্ষার মান রক্ষায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক গোলাপী বেগম দাবি করেছেন, তিনি পরিস্থিতির শিকার। প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যেভাবে খাদ্য সরবরাহ করেছে, কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকায় তিনি সেটিই বিতরণ করেছেন। তার ভাষ্য, “সাগরকলা অনেক সময় বাইরে কাঁচা দেখালেও ভেতরে পাকা থাকতে পারে। কিন্তু এ বিষয়ে আমাদের কোনো প্রশিক্ষণ বা দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি।”


বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশলেনা খাতুনও একই সুরে বলেন, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিয়মিত নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ করে আসছে। “তাদের দেওয়া কলা পাঁচ দিনেও পাকেনি। অথচ দায় চাপানো হলো শিক্ষকের ওপর,”—যোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে, খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা’র পরিচালক মো. জাকির হোসেন জানান, কলাগুলো দুই দিন আগেই সরবরাহ করা হয়েছিল যেন সেগুলো পেকে যায়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই বিতরণ করায় এই সমস্যা হয়েছে বলে দাবি তার।

এদিকে, ফরিদপুর শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান হোসেন এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “সরবরাহকারী কাঁচা কলা দিলে শিক্ষক কী করবেন? নীতিমালা নিয়েও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। প্রকৃত দোষীদের আড়াল করে শিক্ষককে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে।”

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় শিক্ষক সমাজে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। অবিলম্বে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে, অন্যথায় আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।

তবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

Spread the love