Dhaka ১২:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফরিদপুরে মিথ্যা মামলা করে নিজেই কারাগারে বাদী, দুই আসামি খালাস সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির নতুন সভাপতি ডা. আবুল কালাম বাবলা সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্তে সাড়ে ৭ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ নদীভাঙনে দেবে গেছে আমরাজুরি ফেরিঘাটের ডালা, বন্ধ যানবাহন পারাপার কাউখালীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্র গুরুতর আহত, বরিশালে রেফার চকরিয়ায় ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে মানববন্ধন, বৃহত্তর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি সাতক্ষীরায় কীটনাশক স্প্রে করতে গিয়ে নিখোঁজ, চার দিন পর ধানক্ষেতে মিলল মনোরঞ্জনের মরদেহ কাউখালীতে কঁচা নদীতে ৬৫ হাজার টাকার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ বাকেরগঞ্জে ইটভাঙা মালিক-শ্রমিক ঐক্য কল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি গঠন নেছারাবাদে শীতলা মন্দিরের ৪২ শতাংশ জমি জবরদখলের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত দাবি

নেছারাবাদে শীতলা মন্দিরের ৪২ শতাংশ জমি জবরদখলের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত দাবি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ৯ Time View

 

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি ;

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদে সমুদয়কাঠী দক্ষিণপাড়া সার্বজনীন শ্রীশ্রী শীতলা মায়ের মন্দিরের ব্যবহার্য ৪২ শতাংশ জমি জবরদখল ও আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ১নং ওয়ার্ড জামায়েত এর সভাপতি  মো. সফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জমির মালিকানা নিয়ে দেওয়ানি মামলা, খতিয়ানের তথ্য গোপন এবং ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহারের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে মন্দির কমিটি ও এলাকাবাসী। একই সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মন্দিরের জমির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১২টার সমুদয়কাঠি বাজারে করা সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মন্দির কমিটির সভাপতি মনোজ বিশ্বাস। তিনি বলেন, ১৯৬২ সালে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে ৪২ শতাংশ জমি মন্দিরের ব্যবহার ও ধর্মীয় উৎসবের জন্য দান করা হয়। দীর্ঘ ৬৪ বছর ধরে জমিটি মন্দিরের কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সরকারি জরিপে জমিটি বিএস ১৩০ নম্বর খতিয়ানে, জেএল নম্বর ৬৫ ও দাগ নম্বর ৯৫২-এ রেকর্ডভুক্ত রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, সফিকুল ইসলাম হাওলাদার ২০১৬ সালে নেছারাবাদ সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা (নম্বর ৮২/২০১৬) করেন। মামলায় সর্বশেষ বিএস খতিয়ানের তথ্য গোপন এবং প্রকৃত মালিকদের পরিচয় ও পারিবারিক সম্পর্ক বিকৃত করে একতরফা ডিক্রি নেওয়া হয়েছে বলে দাবি মন্দির কমিটির। এ ক্ষেত্রে তাঁর ভাই সিদ্দিকুর রহমানকে মামলার বিবাদী করা হলেও প্রকৃত মালিক ও মন্দির কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।

এ ছাড়া, ১৯৯৯ সালের ২৪ মার্চ সমীর রঞ্জন আইচ ও উত্তম কুমার আইচের কাছ থেকে তিনটি নিবন্ধিত দলিলে সফিকুল ইসলাম ও তাঁর ভাই সিদ্দিকুর রহমান জমি কেনেন বলে উল্লেখ করা হয়। তবে ওই দলিলগুলোর কোথাও মন্দিরের ৪২ শতাংশ জমির উল্লেখ নেই বলে দাবি কমিটির। জমির মালিকানা দাবি করতে সফিকুল ইসলাম একটি অনিবন্ধিত বায়নাপত্রের কথা বললেও তা দেখাতে পারেননি বলেও অভিযোগ করা হয়।

মন্দির কমিটির অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি জমিতে অনুপ্রবেশ করে পুরো ৪২ শতাংশ জমিতে ধান চাষ শুরু করেন। ২০২৫ সালেও দখল অব্যাহত থাকে। ২০২৬ সালে পুনরায় চাষাবাদের উদ্যোগ নিলে এলাকাবাসী বাধা দেন এবং জমিতে মন্দিরের ব্যবহার্য ভূমি উল্লেখ করে সাইনবোর্ড স্থাপন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মনোজ বিশ্বাস, সভাপতি সার্বজনীন শ্রী শ্রী দক্ষিণ পাড়া শীতলা মন্দির, শেখর ঘড়ৈ, সাধারণ সম্পাদক, রাধাকৃষ্ণ সেবাশ্রম সমুদয়কাঠি।
মুজিবুর রহমান, বিশিষ্ট সমাজ সেবক। জাকির খান, বিশিষ্ট সমাজ সেবক। মরিয়ম বেগম ,সফিকুলের আপন খালা।

মন্দির কমিটি ও এলাকাবাসী ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং মন্দিরের জমি ও সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদপুরে মিথ্যা মামলা করে নিজেই কারাগারে বাদী, দুই আসামি খালাস

নেছারাবাদে শীতলা মন্দিরের ৪২ শতাংশ জমি জবরদখলের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত দাবি

Update Time : ০৭:০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

 

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি ;

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদে সমুদয়কাঠী দক্ষিণপাড়া সার্বজনীন শ্রীশ্রী শীতলা মায়ের মন্দিরের ব্যবহার্য ৪২ শতাংশ জমি জবরদখল ও আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ১নং ওয়ার্ড জামায়েত এর সভাপতি  মো. সফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জমির মালিকানা নিয়ে দেওয়ানি মামলা, খতিয়ানের তথ্য গোপন এবং ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহারের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে মন্দির কমিটি ও এলাকাবাসী। একই সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মন্দিরের জমির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১২টার সমুদয়কাঠি বাজারে করা সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মন্দির কমিটির সভাপতি মনোজ বিশ্বাস। তিনি বলেন, ১৯৬২ সালে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে ৪২ শতাংশ জমি মন্দিরের ব্যবহার ও ধর্মীয় উৎসবের জন্য দান করা হয়। দীর্ঘ ৬৪ বছর ধরে জমিটি মন্দিরের কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সরকারি জরিপে জমিটি বিএস ১৩০ নম্বর খতিয়ানে, জেএল নম্বর ৬৫ ও দাগ নম্বর ৯৫২-এ রেকর্ডভুক্ত রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, সফিকুল ইসলাম হাওলাদার ২০১৬ সালে নেছারাবাদ সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা (নম্বর ৮২/২০১৬) করেন। মামলায় সর্বশেষ বিএস খতিয়ানের তথ্য গোপন এবং প্রকৃত মালিকদের পরিচয় ও পারিবারিক সম্পর্ক বিকৃত করে একতরফা ডিক্রি নেওয়া হয়েছে বলে দাবি মন্দির কমিটির। এ ক্ষেত্রে তাঁর ভাই সিদ্দিকুর রহমানকে মামলার বিবাদী করা হলেও প্রকৃত মালিক ও মন্দির কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।

এ ছাড়া, ১৯৯৯ সালের ২৪ মার্চ সমীর রঞ্জন আইচ ও উত্তম কুমার আইচের কাছ থেকে তিনটি নিবন্ধিত দলিলে সফিকুল ইসলাম ও তাঁর ভাই সিদ্দিকুর রহমান জমি কেনেন বলে উল্লেখ করা হয়। তবে ওই দলিলগুলোর কোথাও মন্দিরের ৪২ শতাংশ জমির উল্লেখ নেই বলে দাবি কমিটির। জমির মালিকানা দাবি করতে সফিকুল ইসলাম একটি অনিবন্ধিত বায়নাপত্রের কথা বললেও তা দেখাতে পারেননি বলেও অভিযোগ করা হয়।

মন্দির কমিটির অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি জমিতে অনুপ্রবেশ করে পুরো ৪২ শতাংশ জমিতে ধান চাষ শুরু করেন। ২০২৫ সালেও দখল অব্যাহত থাকে। ২০২৬ সালে পুনরায় চাষাবাদের উদ্যোগ নিলে এলাকাবাসী বাধা দেন এবং জমিতে মন্দিরের ব্যবহার্য ভূমি উল্লেখ করে সাইনবোর্ড স্থাপন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মনোজ বিশ্বাস, সভাপতি সার্বজনীন শ্রী শ্রী দক্ষিণ পাড়া শীতলা মন্দির, শেখর ঘড়ৈ, সাধারণ সম্পাদক, রাধাকৃষ্ণ সেবাশ্রম সমুদয়কাঠি।
মুজিবুর রহমান, বিশিষ্ট সমাজ সেবক। জাকির খান, বিশিষ্ট সমাজ সেবক। মরিয়ম বেগম ,সফিকুলের আপন খালা।

মন্দির কমিটি ও এলাকাবাসী ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং মন্দিরের জমি ও সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Spread the love