Dhaka ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফরিদপুরে মিথ্যা মামলা করে নিজেই কারাগারে বাদী, দুই আসামি খালাস সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির নতুন সভাপতি ডা. আবুল কালাম বাবলা সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্তে সাড়ে ৭ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ নদীভাঙনে দেবে গেছে আমরাজুরি ফেরিঘাটের ডালা, বন্ধ যানবাহন পারাপার কাউখালীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্র গুরুতর আহত, বরিশালে রেফার চকরিয়ায় ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে মানববন্ধন, বৃহত্তর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি সাতক্ষীরায় কীটনাশক স্প্রে করতে গিয়ে নিখোঁজ, চার দিন পর ধানক্ষেতে মিলল মনোরঞ্জনের মরদেহ কাউখালীতে কঁচা নদীতে ৬৫ হাজার টাকার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ বাকেরগঞ্জে ইটভাঙা মালিক-শ্রমিক ঐক্য কল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি গঠন নেছারাবাদে শীতলা মন্দিরের ৪২ শতাংশ জমি জবরদখলের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত দাবি

৬০ বছরের পূজার স্থান এখন ধানখেত, নেছারাবাদে মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৪৭:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২ Time View

 

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের নেছারাবাদে প্রায় ৬০ বছর ধরে পূজা-অর্চনা হয়ে আসা দক্ষিণপাড়া সার্বজনীন শীতলা মন্দিরের ৪২ শতক জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াত নেতা মো. শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জমিটি দখলে নিয়ে সেখানে ধান চাষ করা হচ্ছে। জমি উদ্ধার করে পুনরায় পূজা-অর্চনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন জমিদাতা পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।

অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম হাওলাদার উপজেলার ৮ নম্বর সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। তিনি মৃত আব্দুর রহমান হাওলাদারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সমুদয়কাঠী গ্রামের দক্ষিণপাড়া সার্বজনীন শীতলা মন্দিরের নামে ৪২ শতক জমি রয়েছে। জমিটির দাগ নম্বর ৯৫২ ও খতিয়ান নম্বর ১৩০।

ভুক্তভোগীদের দাবি, সর্বশেষ বিএস রেকর্ডে জমিটি আটজন শরিকের নামে রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, শরিকদের একজনের অংশের বিষয়ে একটি অনিবন্ধিত বায়নাচুক্তির ভিত্তিতে জমিটির ওপর দাবি প্রতিষ্ঠা করে দখলে নেন শফিকুল ইসলাম হাওলাদার। ওই শরিক বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।

ভুক্তভোগী জমির মালিক ননী লাল বিশ্বাসের ছেলে মনোজ বিশ্বাস বলেন, “জমিটি আটজন শরিকের নামে রেকর্ডভুক্ত। অনিবন্ধিত বায়নাচুক্তি দেখিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলা চলমান থাকা অবস্থায় জমিতে ধান চাষ করা হচ্ছে। আমাদের পূর্বপুরুষেরা দীর্ঘদিন ধরে এখানে শীতলা পূজা করে আসছেন। আমরা জমি উদ্ধার করে আগের মতো পূজা-অর্চনা চালু করতে চাই।


স্থানীয় ইউপি সদস্য সুমন আইচ বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি ওই জমিতে শীতলা পূজা হতে দেখেছেন। তাঁর অভিযোগ, জমির কাগজপত্র নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্ত তাতে সাড়া দেননি। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছেন বলে জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বক্তব্য জানতে সরাসরি যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। পরে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
সমুদয়কাঠী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মো. আবু হানিফ বলেন, শফিকুল ইসলাম হাওলাদার ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। তবে জমিসংক্রান্ত বিষয়টি তাঁর ব্যক্তিগত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থে বা ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ জমি দখল করলে তার দায় দল নেবে না। জামায়াতে ইসলামী অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের পিরোজপুর জেলা শাখার সদস্যসচিব প্রলয় মন্ডল বলেন, জমি দখল, ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুর ও সংখ্যালঘুদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ পেয়ে তাঁরা সরেজমিনে গিয়েছিলেন। সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্ত সাড়া দেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

প্রলয় মন্ডল ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পাশাপাশি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জমিসংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানান।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদপুরে মিথ্যা মামলা করে নিজেই কারাগারে বাদী, দুই আসামি খালাস

৬০ বছরের পূজার স্থান এখন ধানখেত, নেছারাবাদে মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগ

Update Time : ০৯:৪৭:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

 

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের নেছারাবাদে প্রায় ৬০ বছর ধরে পূজা-অর্চনা হয়ে আসা দক্ষিণপাড়া সার্বজনীন শীতলা মন্দিরের ৪২ শতক জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াত নেতা মো. শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জমিটি দখলে নিয়ে সেখানে ধান চাষ করা হচ্ছে। জমি উদ্ধার করে পুনরায় পূজা-অর্চনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন জমিদাতা পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।

অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম হাওলাদার উপজেলার ৮ নম্বর সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। তিনি মৃত আব্দুর রহমান হাওলাদারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সমুদয়কাঠী গ্রামের দক্ষিণপাড়া সার্বজনীন শীতলা মন্দিরের নামে ৪২ শতক জমি রয়েছে। জমিটির দাগ নম্বর ৯৫২ ও খতিয়ান নম্বর ১৩০।

ভুক্তভোগীদের দাবি, সর্বশেষ বিএস রেকর্ডে জমিটি আটজন শরিকের নামে রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, শরিকদের একজনের অংশের বিষয়ে একটি অনিবন্ধিত বায়নাচুক্তির ভিত্তিতে জমিটির ওপর দাবি প্রতিষ্ঠা করে দখলে নেন শফিকুল ইসলাম হাওলাদার। ওই শরিক বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।

ভুক্তভোগী জমির মালিক ননী লাল বিশ্বাসের ছেলে মনোজ বিশ্বাস বলেন, “জমিটি আটজন শরিকের নামে রেকর্ডভুক্ত। অনিবন্ধিত বায়নাচুক্তি দেখিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলা চলমান থাকা অবস্থায় জমিতে ধান চাষ করা হচ্ছে। আমাদের পূর্বপুরুষেরা দীর্ঘদিন ধরে এখানে শীতলা পূজা করে আসছেন। আমরা জমি উদ্ধার করে আগের মতো পূজা-অর্চনা চালু করতে চাই।


স্থানীয় ইউপি সদস্য সুমন আইচ বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি ওই জমিতে শীতলা পূজা হতে দেখেছেন। তাঁর অভিযোগ, জমির কাগজপত্র নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্ত তাতে সাড়া দেননি। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছেন বলে জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বক্তব্য জানতে সরাসরি যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। পরে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
সমুদয়কাঠী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মো. আবু হানিফ বলেন, শফিকুল ইসলাম হাওলাদার ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। তবে জমিসংক্রান্ত বিষয়টি তাঁর ব্যক্তিগত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থে বা ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ জমি দখল করলে তার দায় দল নেবে না। জামায়াতে ইসলামী অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের পিরোজপুর জেলা শাখার সদস্যসচিব প্রলয় মন্ডল বলেন, জমি দখল, ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুর ও সংখ্যালঘুদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ পেয়ে তাঁরা সরেজমিনে গিয়েছিলেন। সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্ত সাড়া দেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

প্রলয় মন্ডল ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পাশাপাশি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জমিসংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানান।

Spread the love