Dhaka ০১:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উন্নয়ন ও মানবিক উদ্যোগে বলদিয়াবাসীর আস্থার নাম সাইফুল ইসলাম, চেয়ারম্যান পদে নতুন সমীকরণ  নেছারাবাদে দুই সেতুর মালামাল চুরির অভিযোগ; অভিযুক্ত যুবকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি এলাকাবাসীর প্রবাসে স্বামী, দেশে স্ত্রীকে ঘিরে পরকীয়ার অভিযোগ; পাল্টাপাল্টি দোষারোপে উত্তপ্ত দুই পরিবার পাটকেলঘাটা থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ৪ বোতল উইনকোরেক্স সহ ০২ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে সাড়ে ১৫ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ “সেবার ব্রতে চাকরি” বাংলাদেশ পুলিশের ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ, ২য় দিনের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত: কাউখালীতে ব্র্যাকের উদ্যোগে স্বপ্ন সারথির দলের কিশোরীদের সমাপনী অনুষ্ঠান কাউখালীতে দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়ক চলাচলের অযোগ্য, ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো ব্যবহার করছে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ আট বছর পর শিশু রিফাত হত্যা মামলার রায়: বগুড়ায় পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড সাতক্ষীরার গ্রাহকরা ১ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হলে বাঁচবে ৩০৪ কোটি টাকা

বেতন-ভাতা বন্ধের পরও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর, বানারীপাড়ার এক শিক্ষিকাকে ঘিরে নতুন বিতর্কঅভিযোগ, থানায় জিডি

 

প্রতিনিধি, বানারীপাড়া (বরিশাল)

বরিশালের বানারীপাড়ার দক্ষিণ নাজিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক নাছরীন আক্তারকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জাল ও ভুয়া সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে তার বেতন-ভাতা বন্ধ থাকার মধ্যেই বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজিদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় নাছরীন আক্তারের নিয়োগসংক্রান্ত সনদের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তার বেতন-ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেননি।

তবে সম্প্রতি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসে, গত ১৫ জুন নাছরীন আক্তার বিদ্যালয়ে এসে পূর্ববর্তী কয়েক সপ্তাহের হাজিরা একসঙ্গে পূরণ করেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে প্রধান শিক্ষক মো. জামাল হোসেন হাজিরা খাতায় লাল কালিতে দাগ টেনে বিষয়টি চিহ্নিত করেন। অভিযোগ রয়েছে, এরপরও ওই দাগের মধ্যেই ১৬ ও ১৭ জুন তিনি স্বাক্ষর করেন। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী কিশোর কুমার বড়াল ১৬ জুন বানারীপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

প্রধান শিক্ষক মো. জামাল হোসেন বলেন, “বেতন-ভাতা বন্ধ হওয়ার পর উপজেলা প্রশাসনের সভায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে বিদ্যালয়ে না আসার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমি দাপ্তরিক কাজে বাইরে থাকার সুযোগে তিনি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন। এমনকি পরবর্তীতে দেওয়া লাল কালির দাগ উপেক্ষা করেও স্বাক্ষর করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”

তবে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন সহকারী শিক্ষক নাছরীন আক্তার। তিনি বলেন, “আমার সনদ জাল বা ভুয়া নয়। একই ধরনের কম্পিউটার সনদ দিয়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন অনেকে। আমি নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাই এবং স্বাভাবিকভাবেই হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করি। আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজিদুর রহমান বলেন, তদন্তে সনদ জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রণালয় থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে জাল সনদের অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো শিক্ষক বেতন-ভাতা বন্ধ থাকার পরও কীভাবে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকছেন, সে প্রশ্নও উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

উন্নয়ন ও মানবিক উদ্যোগে বলদিয়াবাসীর আস্থার নাম সাইফুল ইসলাম, চেয়ারম্যান পদে নতুন সমীকরণ 

বেতন-ভাতা বন্ধের পরও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর, বানারীপাড়ার এক শিক্ষিকাকে ঘিরে নতুন বিতর্কঅভিযোগ, থানায় জিডি

Update Time : ০৫:০৮:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

 

প্রতিনিধি, বানারীপাড়া (বরিশাল)

বরিশালের বানারীপাড়ার দক্ষিণ নাজিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক নাছরীন আক্তারকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জাল ও ভুয়া সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে তার বেতন-ভাতা বন্ধ থাকার মধ্যেই বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজিদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় নাছরীন আক্তারের নিয়োগসংক্রান্ত সনদের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তার বেতন-ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেননি।

তবে সম্প্রতি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসে, গত ১৫ জুন নাছরীন আক্তার বিদ্যালয়ে এসে পূর্ববর্তী কয়েক সপ্তাহের হাজিরা একসঙ্গে পূরণ করেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে প্রধান শিক্ষক মো. জামাল হোসেন হাজিরা খাতায় লাল কালিতে দাগ টেনে বিষয়টি চিহ্নিত করেন। অভিযোগ রয়েছে, এরপরও ওই দাগের মধ্যেই ১৬ ও ১৭ জুন তিনি স্বাক্ষর করেন। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী কিশোর কুমার বড়াল ১৬ জুন বানারীপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

প্রধান শিক্ষক মো. জামাল হোসেন বলেন, “বেতন-ভাতা বন্ধ হওয়ার পর উপজেলা প্রশাসনের সভায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে বিদ্যালয়ে না আসার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমি দাপ্তরিক কাজে বাইরে থাকার সুযোগে তিনি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন। এমনকি পরবর্তীতে দেওয়া লাল কালির দাগ উপেক্ষা করেও স্বাক্ষর করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”

তবে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন সহকারী শিক্ষক নাছরীন আক্তার। তিনি বলেন, “আমার সনদ জাল বা ভুয়া নয়। একই ধরনের কম্পিউটার সনদ দিয়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন অনেকে। আমি নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাই এবং স্বাভাবিকভাবেই হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করি। আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজিদুর রহমান বলেন, তদন্তে সনদ জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রণালয় থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে জাল সনদের অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো শিক্ষক বেতন-ভাতা বন্ধ থাকার পরও কীভাবে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকছেন, সে প্রশ্নও উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।

Spread the love