সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্তে দুই দিনব্যাপী বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিন চোরাকারবারিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় ভারতীয় মোবাইল ফোন, ওষুধ, চিংড়ির রেণু পোনা, মাদকসহ প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত একটি বাংলাদেশি কাভার্ড ভ্যানও জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ও শুক্রবার (২৬ জুন) সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)-এর আওতাধীন ভোমরা, হিজলদী, মাদরা, চান্দুরিয়া, বৈকারী ও কাকডাঙ্গা বিওপির সদস্যরা পৃথক অভিযানে এসব মালামাল উদ্ধার করেন। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, জব্দকৃত পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৯৪ লাখ ২৭ হাজার ৫৫০ টাকা।
বিজিবি জানায়, ২৫ জুন ভোমরা আইসিপির বিজিবি চেকপোস্টে একটি কাভার্ড ভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে আনা ভারতীয় চিংড়ির রেণু পোনা ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় যশোরের শার্শা উপজেলার রাসেল আহমেদ (২৫) এবং সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আব্দুল গফুরকে (৪০) আটক করা হয়। এ সময় জব্দ করা কাভার্ড ভ্যান ও মালামালের সম্মিলিত মূল্য প্রায় ৭৭ লাখ ৬৫ হাজার ২৫০ টাকা।
একই দিনে ভোমরা সীমান্ত এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযানে ১৩ পিস ইয়াবাসহ মো. লাভলু হোসেন (২৮) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। এছাড়া ভোমরার ফলমোড় এলাকা থেকে প্রায় ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের ২০টি ভারতীয় মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মোবাইলগুলোর মধ্যে ভিভো, ওয়ানপ্লাস, রিয়েলমি ও স্যামসাং ব্র্যান্ডের ফোন রয়েছে।
বিজিবির বিওপি-ভিত্তিক অভিযানে কলারোয়ার বড়ালী ও শ্মশানঘাট এলাকা থেকে যথাক্রমে ৬০ হাজার ৬০০ টাকা মূল্যের মোবাইল যন্ত্রাংশ এবং ১ লাখ ৫ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ওষুধ জব্দ করা হয়। এছাড়া কাঁদপুর ও চান্দুরিয়া এলাকায় পৃথক অভিযানে ৩০ বোতল উইনসিরাক্স সিরাপ ও মোবাইল যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ ৯২ হাজার টাকা।
অন্যদিকে সাতক্ষীরা সদরের চৌধুরীপাড়া এবং কলারোয়ার কেরাগাছি এলাকা থেকে যথাক্রমে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৮০০ টাকা এবং ২ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ওষুধ ও মোবাইল যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের (৩৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান (ওএসপি, পিএসসি) বলেন, “শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব ভারতীয় পণ্য অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হচ্ছিল। এর ফলে একদিকে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। দেশের অর্থনীতি ও রাজস্ব সুরক্ষায় সীমান্তে বিজিবির কঠোর নজরদারি এবং চোরাচালানবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদক ও অবৈধ পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
Reporter Name 











