
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ;
সাতক্ষীরা সিটি কলেজ এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে ভূগোল প্রথম পত্র পরীক্ষায় ভুলবশত দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনায় কেন্দ্র সচিবকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পরীক্ষা শুরুর ২০ থেকে ২৫ মিনিট পর ভুল ধরা পড়লে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্র ফিরিয়ে নিয়ে সঠিক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। পরে পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময়ও দেওয়া হয়।
পরীক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর তারা প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট দ্বিতীয় পত্রের বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) প্রশ্নে উত্তর লেখা শুরু করেন। পরে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রশ্নপত্রগুলো ফিরিয়ে নেয়। প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র আনতে কিছুটা সময় লাগায় শিক্ষার্থীদের আগে সৃজনশীল অংশের প্রশ্ন দেওয়া হয়। তবে সেটিও ২০২৫ সালের প্রশ্ন হওয়ায় কয়েক মিনিটের মধ্যে তা পরিবর্তন করে চলতি বছরের সঠিক প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। এরপর নির্ধারিত সময়ের বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ২০ মিনিট সময় দিয়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (শিক্ষা) রিপন বিশ্বাস জানান, প্রশ্নপত্র সোর্টিংয়ের সময় কলেজ কর্তৃপক্ষের ভুলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কেন্দ্র সচিবকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আগামী ১৮ জুলাই অনুষ্ঠেয় ভূগোল দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র বহাল থাকবে কি না, সে সিদ্ধান্ত শিক্ষা বোর্ড নেবে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আজিজ বলেন, ঘটনার বিস্তারিত শিক্ষা বোর্ডকে জানানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে কেন্দ্র সচিবকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুখে আযম মো. আব্দুস ছালাম বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বোর্ড থেকেও তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আগামী ১৮ জুলাই নির্ধারিত দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে।
জানা গেছে, সাতক্ষীরা সিটি কলেজ কেন্দ্রটিতে সাতক্ষীরা সিটি কলেজ, সাতক্ষীরা ডে-নাইট কলেজ, ঝাউডাঙ্গা কলেজ ও শহীদ স্মৃতি কলেজের শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। প্রশ্নপত্র বিতরণে এ ভুলে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সাময়িক উদ্বেগ ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হলেও পরে সঠিক প্রশ্নপত্রে শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।
আহসানউল্লাহ মামুন 



















