
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৪ জন আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, অস্বচ্ছতা, স্বজনপ্রীতি ও বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে নির্দিষ্ট একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের আত্মীয়স্বজনকে চাকরি দেওয়ার চেষ্টা করছে।
হাসপাতালের একাধিক সূত্রের দাবি, প্রধান হিসাব সহকারী মোস্তাজুল ইসলাম, ইপিআই ইনচার্জ (মেডিকেল টেকনোলজিস্ট) ফারুক হোসেন এবং পরিচালকের গাড়িচালক বসির উদ্দীনকে কেন্দ্র করে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তাদের প্রভাবেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের আউটসোর্সিং কার্যক্রম পরিচালনা করে আসা বরিশালভিত্তিক ‘প্রমা গ্রুপ’-এর পরিবর্তে চলতি বছরের জুন মাসে খুলনার ‘টি ফোর এস’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পায়। অভিযোগ রয়েছে, ৫৪ জন কর্মী নিয়োগের দরপত্রে একাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিলেও বিধি অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়নি। বরং একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে সুপারিশ পাঠানো হয়। এ প্রক্রিয়ায় বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলেও হাসপাতালের একাধিক সূত্র দাবি করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের কয়েকজন আউটসোর্সিং কর্মী জানান, গত সাত-আট বছর ধরে কর্মরত অনেক অভিজ্ঞ কর্মী এবার নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, আগামী ৩০ জুন ৫৪ জন কর্মী নিয়োগের কথা থাকলেও নিয়োগ প্রক্রিয়া কার্যত আগেই চূড়ান্ত করে ফেলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা করে নেওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের স্বেচ্ছাসেবকদের বাদ দিয়ে নিজেদের আত্মীয়স্বজনকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
অভিযোগকারীরা আরও বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে প্রায় দেড় শতাধিক আউটসোর্সিং কর্মী কর্মরত থাকলেও একটি চক্র প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের লোকজনকে সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি অতীতেও জাল সনদের মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তিকে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
তাদের দাবি, মোস্তাজুল ইসলামের আটজন, ফারুক হোসেনের সাতজন এবং বসির উদ্দীনের চারজন নিকটাত্মীয় বর্তমানে হাসপাতালের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ১৯ জনের স্থায়ী নিয়োগের জন্য পরিচালকের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি অবশিষ্ট ৩৫টি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এক থেকে দেড় কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যেরও অভিযোগ তুলেছেন তারা। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘টি ফোর এস’-এর পরিচালক মো. আব্দুর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে হাসপাতালের প্রধান হিসাব সহকারী মোস্তাজুল ইসলাম বলেন, “ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানই লোক নিয়োগ দেবে। এখানে আমাদের কোনো ভূমিকা নেই। যারা এসব অভিযোগ করছে, তারা ভুল তথ্য দিচ্ছে।”
ইপিআই ইনচার্জ (মেডিকেল টেকনোলজিস্ট) ফারুক হোসেন বলেন, “আমার কোনো আত্মীয়স্বজন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চাকরি করেন না। আমরা ১৭৫ জনের বায়োডাটা পাঠিয়েছি। সেখান থেকে খুব কম সংখ্যক লোকই সুযোগ পাচ্ছেন। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
পরিচালকের গাড়িচালক বসির উদ্দীন বলেন, “আমি হজ থেকে গতকাল দেশে ফিরেছি। এখনও ছুটিতে আছি। সিন্ডিকেটের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কুদরত-ই-খুদার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এছাড়া হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
Reporter Name 











