
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সরকার প্রবর্তিত সর্বজনীন ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ‘বাংলা কিউআর’ (Bangla QR)-এর ব্যবহার সম্প্রসারণ ও নগদবিহীন লেনদেনকে সহজ করতে সাতক্ষীরায় নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জনতা ব্যাংক পিএলসি।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার জনতা ব্যাংক পিএলসির সাতক্ষীরা ক্যাম্পাস শাখার উদ্যোগে শহরের লিবার্টি গ্যালারিতে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের মাঝে ‘বাংলা কিউআর’ কোড হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনতা ব্যাংক পিএলসির সাতক্ষীরা এরিয়া প্রধান মো. রোকনুজ্জামান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা ক্যাম্পাস শাখার ব্যবস্থাপক শাহিনুর রহমান, সহকারী ব্যবস্থাপক প্রাণকৃষ্ণ মল্লিক এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে সাদিকুর রহমান, সত্যকি ঘোষ, রামকৃষ্ণ মণ্ডল ও নেপাল চন্দ্র সরকারসহ ব্যাংকের অন্যান্য কর্মকর্তা।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলা কিউআর কোড স্ক্যান করে বিকাশ, নগদ, রকেট কিংবা যেকোনো ব্যাংকের মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই অর্থ পরিশোধ করা যাবে। এ জন্য গ্রাহককে নতুন কোনো অ্যাপ বা ডিজিটাল ওয়ালেট ডাউনলোড করতে হবে না। বিদ্যমান ব্যাংকিং বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাপ ব্যবহার করেই নিরাপদে লেনদেন সম্পন্ন করা সম্ভব।
ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, এটি একটি ‘পুশ পেমেন্ট’ ব্যবস্থা হওয়ায় গ্রাহকের কার্ড বা ব্যাংক হিসাবের কোনো গোপন তথ্য ব্যবসায়ীর কাছে প্রকাশ পায় না। পাশাপাশি নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি, ছেঁড়া-ফাটা নোট কিংবা খুচরা টাকার সমস্যাও এ ব্যবস্থায় থাকে না।
মার্চেন্টদের জন্যও বাংলা কিউআর ব্যবস্থার নানা সুবিধার কথা তুলে ধরা হয়। আগে বিভিন্ন মোবাইল আর্থিক সেবা ও ব্যাংকের জন্য আলাদা আলাদা কিউআর কোড ব্যবহার করতে হলেও এখন একটি মাত্র বাংলা কিউআর স্ট্যান্ড বা স্টিকারের মাধ্যমেই সব ধরনের ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করা সম্ভব।
এছাড়া প্রচলিত ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের লেনদেনের জন্য ব্যয়বহুল পিওএস (POS) মেশিনের প্রয়োজন হলেও বাংলা কিউআর ব্যবস্থায় কেবল একটি কিউআর স্টিকারই যথেষ্ট। এতে অতিরিক্ত যন্ত্রপাতি বা রক্ষণাবেক্ষণের খরচও নেই।
ব্যাংক সূত্র জানায়, এ পদ্ধতিতে গ্রাহকের পরিশোধিত অর্থ সরাসরি ব্যবসায়ীর নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবেই জমা হয়। ফলে নগদ অর্থ বহন, ব্যাংকে জমা দেওয়া কিংবা চুরি-ছিনতাইয়ের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। একই সঙ্গে প্রতিটি লেনদেনের ডিজিটাল রেকর্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষিত থাকায় ব্যবসার আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখা সহজ হয় এবং ভবিষ্যতে ব্যাংক ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রেও তা সহায়ক ভূমিকা রাখে।
জনতা ব্যাংক পিএলসি জানায়, চায়ের দোকান, মুদি দোকান, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ফুটপাতের হকাররাও বিনা খরচে এই ক্যাশলেস নেটওয়ার্কের আওতায় যুক্ত হতে পারছেন। নগদবিহীন লেনদেন সম্প্রসারণ এবং স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে ‘বাংলা কিউআর’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও অনুষ্ঠানে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
Reporter Name 
















