
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে সাতক্ষীরার জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, ঠিক সেই সময় ঝুম বৃষ্টির মধ্যেই জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো প্রকল্পের আওতায় একটি আরসিসি ড্রেনের ঢালাই কাজ চলতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় নির্মাণকাজের গুণগত মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের সরকারি কলেজ-ঝুটিতলা সড়কের ফজিলা কন্ট্রাক্টরের বাড়ির সামনে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই ড্রেনের ঢালাই কাজ চলতে দেখা যায়। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে এভাবে নির্মাণকাজ পরিচালনা করায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় ৩১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতেও সাতক্ষীরা পৌরসভার অধীন জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ড্রেন নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক (কেএফডব্লিউ) ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার মেইনস্ট্রিমিং প্রজেক্ট (সিআরআইএমপি)-এর আওতায় এ উন্নয়নকাজ পরিচালিত হচ্ছে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এক কোটি ৮১ হাজার ৫৫৯ টাকা ৬১ পয়সা ব্যয়ে ৪২৪ মিটার দীর্ঘ আরসিসি ড্রেনটি কাটিয়া লস্করপাড়া এলাকায় সাজেদুল করিমের বাড়ি থেকে লস্করপাড়া ঈদগাহ মোড় পর্যন্ত নির্মাণ করা হচ্ছে। কাজটি বাস্তবায়ন করছে মনির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। প্রকল্পের কাজ ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল শুরু হয়ে ২০২৭ সালের ১ অক্টোবরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও স্থানীয়দের দাবি, নির্ধারিত সময়ের পরে কাজ শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রবল বৃষ্টির মধ্যে ঢালাই করায় সিমেন্ট ও বালুর মিশ্রণ ধুয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা ড্রেনের স্থায়িত্ব ও গুণগত মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সরকারি অর্থে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করতে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারির দাবি জানান।
এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পরিবেশ ও জলবায়ু কর্মীরাও। ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম (ক্যাফ)-এর সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট এস. এম. বিপ্লব হোসেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় নেওয়া একটি ‘জলবায়ু সহনশীল’ প্রকল্পের নির্মাণকাজ যদি চরম বৃষ্টির মধ্যেই প্রকৌশলগত মানদণ্ড অনুসরণ না করে করা হয়, তবে প্রকল্পের উদ্দেশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তার ভাষ্য, বৃষ্টির কারণে কংক্রিটের অনুপাত ও দৃঢ়তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই জলবায়ু তহবিলের অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং নির্মাণের শতভাগ গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এম. এম. নূর আহম্মদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “আমার জানা মতে, ড্রেনের দুই পাশে স্টিলের শিট বসিয়ে সুরক্ষা নিশ্চিত করে এরপর ঢালাইয়ের কাজ করা হচ্ছে। তারপরও বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রকল্পের নির্মাণকাজে প্রকৌশলগত মান ও নির্ধারিত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
Reporter Name 















