সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের নারিকেলি গ্রাম থেকে সখিপুর সরকারি খানবাহাদুর আহছান উল্লাহ (কেবিএ) কলেজগামী গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কার কাজ দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ থাকায় সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। ফলে ওই এলাকার মানুষের চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে এবং চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় নারিকেলি থেকে কেবিএ কলেজ পর্যন্ত সড়কটি কার্পেটিংয়ের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সরকারি বিধি অনুযায়ী কাজটির দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএস এন্টারপ্রাইজ। তবে প্রতিষ্ঠানটি কাজটি সাব-ঠিকাদার হিসেবে দেবহাটা কলেজের প্রভাষক আলমগীর হোসেনের কাছে হস্তান্তর করে।
অভিযোগ রয়েছে, কাজ শুরু করে পুরো সড়ক একসঙ্গে খুঁড়ে ফেলে রাখা হলেও দীর্ঘ সময়েও সেখানে বালু ভরাট বা প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হয়নি। ফলে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে কাদায় পরিণত হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, এটি ওই এলাকার মানুষের চলাচলের একমাত্র সড়ক। সড়কটি খুঁড়ে ফেলে রাখার কারণে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করে জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানান তারা।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর স্থানীয় বাসিন্দারা সাব-ঠিকাদার আলমগীর হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দ্রুত কাজ শুরুর দাবি জানান। পরে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী সড়কে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে সাব-ঠিকাদার ও দেবহাটা কলেজের প্রভাষক আলমগীর হোসেন বলেন, বালু ভরাটের জন্য প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যাচ্ছে না। পানি পাওয়া গেলে এক-দুই দিনের মধ্যেই কাজ শুরু করা হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী দ্যুতি মণ্ডল বলেন, অফিসকে অবহিত না করেই আলমগীর হোসেন পুরো সড়কের বেড একসঙ্গে কেটে ফেলেছেন। বিষয়টি জানার পর জনগণের ভোগান্তি কমাতে তাকে একাধিকবার নির্দেশনা দেওয়া হলেও তিনি তা আমলে নেননি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক প্রতিবেদনও পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চুক্তি অনুযায়ী চলতি জুন মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে। জনগণের ভোগান্তির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আহসানউল্লাহ মামুন 



















