Dhaka ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বর্ষা মৌসুমে জমে উঠেছে কাউখালীর চাই-দুয়ারি হাট, ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা সাতক্ষীরায় নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সুরক্ষায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প সাতক্ষীরা হবিগঞ্জে হামলার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় এনসিপির প্রতিবাদ সভা সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নে আর বিলম্ব নয়, সরকারের প্রতি আহ্বান কাউখালীতে সাড়ে তিন হাজার মিটার অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ কাউখালীতে একই এলাকায় পরপর তিন চুরি, আতঙ্কে এলাকাবাসী সাপাহারে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধনের অভিযোগ, ক্ষতি দেড় লাখের বেশি ফেসবুকের প্রেমে বাল্যবিয়ে, ৭ মাসের সন্তান ফিরে পেল ১৩ বছরের কিশোরী মা ডাকাতি-চুরি প্রতিরোধে নেছারাবাদে রাতের পাহারা, পুলিশ-জনতার যৌথ উদ্যোগ উপকূলের পরিবেশ পুনরুদ্ধারে শ্যামনগরে ১০ লাখ বীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

জামিনের পরও মুক্তি মিলল না সাবেক এমপি লায়লা পারভীন সেঁজুতির

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:০৩:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
  • ১৮ Time View

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

 

সাতক্ষীরা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে আরও একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) আদেশ দিয়েছেন আদালত। ফলে সর্বশেষ মামলায় জামিন পেলেও আপাতত মুক্তি পাচ্ছেন না তিনি।

 

সোমবার (১৩ জুলাই) সাতক্ষীরার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাস মণ্ডলের আদালত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনাথ মিত্রের আবেদনের ওপর শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

 

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি যশোরের পিকনিক কর্নার এলাকায় সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট আদালতে অভিযোগ দায়েরের পর আদালতের নির্দেশে একই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা সদর থানায় দণ্ডবিধির ৪৬৪, ৩০২, ২০১, ১৪৯ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত হয়। যার জিআর নম্বর ৪০৩/২৪।

 

এর আগে ২০২৫ সালের ২০ মে রাতে সাতক্ষীরা শহরের রাধানগর এলাকার নিজ বাসা থেকে লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রথমে বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে পর্যায়ক্রমে একাধিক হত্যা, নাশকতা ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় আদালতের মাধ্যমে তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।

 

লায়লা পারভীন সেঁজুতির আইনজীবী প্যানেলের সদস্য অ্যাডভোকেট আল মাহামুদ পলাশ জানান, গত ৩ জুন ২০২৬ হাইকোর্ট সর্বশেষ একটি মামলায় তার মক্কেলকে জামিন দেন। রাষ্ট্রপক্ষ ওই জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করলেও আদালত কোনো আদেশ দেননি। পরবর্তীতে ১০ জুন জামিননামা দাখিলের পর তাকে নতুন একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

 

তিনি আরও জানান, ২৫ জুন সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালত জিআর-৩৯৯/২৪ নম্বর মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। পরে ২৯ জুন আবার জিআর-৪০২/২৪ নম্বর হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলায়ও গত ৯ জুলাই জেলা ও দায়রা জজ আদালত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। সর্বশেষ সোমবার জিআর-৪০৩/২৪ নম্বর হত্যা মামলায় তাকে আবারও শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে।

 

মামলার এজাহার অনুযায়ী, বাদী মো. ইমদাদুল হক অভিযোগ করেন, তার ভাই শহিদুল ইসলামকে ২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে যশোরের পিকনিক কর্নার এলাকায় তার গুলিবিদ্ধ মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তৎকালীন পুলিশ সুপারসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়। বাদীর অভিযোগ, সে সময় থানায় হত্যা মামলা গ্রহণ না করে ঘটনাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে মামলা দায়ের করা সম্ভব হয়েছে।

 

তবে মামলার অভিযোগের বিষয়ে লায়লা পারভীন সেঁজুতি বা তার পক্ষ থেকে আদালতে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বর্ষা মৌসুমে জমে উঠেছে কাউখালীর চাই-দুয়ারি হাট, ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা

জামিনের পরও মুক্তি মিলল না সাবেক এমপি লায়লা পারভীন সেঁজুতির

Update Time : ০৬:০৩:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

 

সাতক্ষীরা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে আরও একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) আদেশ দিয়েছেন আদালত। ফলে সর্বশেষ মামলায় জামিন পেলেও আপাতত মুক্তি পাচ্ছেন না তিনি।

 

সোমবার (১৩ জুলাই) সাতক্ষীরার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাস মণ্ডলের আদালত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনাথ মিত্রের আবেদনের ওপর শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

 

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি যশোরের পিকনিক কর্নার এলাকায় সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট আদালতে অভিযোগ দায়েরের পর আদালতের নির্দেশে একই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা সদর থানায় দণ্ডবিধির ৪৬৪, ৩০২, ২০১, ১৪৯ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত হয়। যার জিআর নম্বর ৪০৩/২৪।

 

এর আগে ২০২৫ সালের ২০ মে রাতে সাতক্ষীরা শহরের রাধানগর এলাকার নিজ বাসা থেকে লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রথমে বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে পর্যায়ক্রমে একাধিক হত্যা, নাশকতা ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় আদালতের মাধ্যমে তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।

 

লায়লা পারভীন সেঁজুতির আইনজীবী প্যানেলের সদস্য অ্যাডভোকেট আল মাহামুদ পলাশ জানান, গত ৩ জুন ২০২৬ হাইকোর্ট সর্বশেষ একটি মামলায় তার মক্কেলকে জামিন দেন। রাষ্ট্রপক্ষ ওই জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করলেও আদালত কোনো আদেশ দেননি। পরবর্তীতে ১০ জুন জামিননামা দাখিলের পর তাকে নতুন একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

 

তিনি আরও জানান, ২৫ জুন সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালত জিআর-৩৯৯/২৪ নম্বর মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। পরে ২৯ জুন আবার জিআর-৪০২/২৪ নম্বর হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলায়ও গত ৯ জুলাই জেলা ও দায়রা জজ আদালত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। সর্বশেষ সোমবার জিআর-৪০৩/২৪ নম্বর হত্যা মামলায় তাকে আবারও শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে।

 

মামলার এজাহার অনুযায়ী, বাদী মো. ইমদাদুল হক অভিযোগ করেন, তার ভাই শহিদুল ইসলামকে ২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে যশোরের পিকনিক কর্নার এলাকায় তার গুলিবিদ্ধ মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তৎকালীন পুলিশ সুপারসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়। বাদীর অভিযোগ, সে সময় থানায় হত্যা মামলা গ্রহণ না করে ঘটনাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে মামলা দায়ের করা সম্ভব হয়েছে।

 

তবে মামলার অভিযোগের বিষয়ে লায়লা পারভীন সেঁজুতি বা তার পক্ষ থেকে আদালতে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে।

Spread the love