
কক্সবাজার প্রতিনিধি:
একসময় চিকিৎসক সংকট, রোগীদের দীর্ঘ অপেক্ষা এবং সেবার মান নিয়ে নানা অভিযোগে আলোচিত ছিল কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) হিসেবে ডা. জয়নুল আবেদীনের দায়িত্ব গ্রহণের পর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতা, স্থানীয় বাসিন্দা ও হাসপাতাল-সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, প্রতিদিনই বহির্বিভাগে বিভিন্ন এলাকা থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে রোগীদের ভিড় বাড়ছে। জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ এবং ভর্তি রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলো আগের তুলনায় পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ, রোগীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সেবার পরিবেশ উন্নয়নে প্রশাসনের তৎপরতাও চোখে পড়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডা. জয়নুল আবেদীন প্রায় প্রতিদিনই বহির্বিভাগে রোগী দেখেন। প্রয়োজন হলে নিজ কার্যালয়েও রোগীদের চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সরকারি হাসপাতালের একজন প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে নিয়মিত রোগী দেখার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা একাধিক রোগী জানান, প্রশাসনিক ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি ধৈর্যসহকারে রোগীদের কথা শোনেন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার পরামর্শ দেন। এতে রোগীদের অপেক্ষার সময় কমেছে এবং সরকারি হাসপাতালের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও বেড়েছে।
হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখা, রোগীবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করা, ওষুধ বিতরণে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। এসব উদ্যোগের ফলেই হাসপাতালের সেবার মানে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়েছে।
সম্প্রতি চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরবচ্ছিন্ন জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেন। ইউনিয়নভিত্তিক মেডিকেল টিম পরিচালনা, আশ্রয়কেন্দ্রে চিকিৎসাসেবা, সাপের কামড় ও পানিবাহিত রোগের চিকিৎসা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সক্রিয় ভূমিকা স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নুল আবেদীন বলেন, “প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব। সরকারি হাসপাতাল মানুষের আস্থার জায়গা। তাই সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সেবার মান আরও উন্নত করতে কাজ করছি। রোগীরা যেন দ্রুত, সহজে এবং মানবিক পরিবেশে চিকিৎসাসেবা পান, সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
তবে স্বাস্থ্যখাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি সরকারি হাসপাতালের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শুধু একজন কর্মকর্তার আন্তরিকতা যথেষ্ট নয়। চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল সংকট নিরসন, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ, পর্যাপ্ত ওষুধের প্রাপ্যতা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নও সমানভাবে জরুরি। এসব বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম আস্থার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
Reporter Name 



















