Dhaka ১০:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাটকেলঘাটা থানা ভবনের নির্মাণকাজ পরিদর্শনে সংসদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ বাকেরগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন কমিটি, সভাপতি রিমন সম্পাদক মোর্শেদ কালিগঞ্জে ৪ কেজি গাঁজাসহ নারী আটক, পালালেন এক ব্যক্তি চোখ পরীক্ষা, ডায়াবেটিস পরীক্ষা, বিনামূল্যে চশমা ও ওষুধ বিতরণ সাতক্ষীরায় আইনজীবীদের লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে তলবি সভা সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি কাউখালীতে আগাম লাউ চাষে বাম্পার ফলন, হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে চকরিয়ায় প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বৃত্তি আয়োজনের অভিযোগ, ১৪৫ বিদ্যালয়ে জরুরি চিঠি কলারোয়ায় ইটভাটার মালিকানা নিয়ে বিরোধ, বিএনপি নেতা আক্তারুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ সাতক্ষীরায় নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন

কাউখালীর দুই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট, শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন;

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:০৬:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • ১২৯ Time View

 

কাউখালী  প্রতিনিধি:

 

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার দুটি ঐতিহ্যবাহী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা তীব্র শিক্ষক সংকট এখন চরম আকার ধারণ করেছে। প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয় দুটির স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এরই মধ্যে শিক্ষক সংকটের মাঝেই একমাত্র গণিত শিক্ষককে বদলি করায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বদলি আদেশ প্রত্যাহার এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় শিক্ষক পদায়নের দাবিতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাউখালী সরকারি গাণ্ডতা (কেজি) ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৭টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ কর্মরত রয়েছেন মাত্র পাঁচজন শিক্ষক। এর মধ্যে একজন বি.এড. প্রশিক্ষণে থাকায় কার্যত প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন মাত্র চারজন শিক্ষক। ফলে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান কোনো রকমে জোড়াতালি দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।

 

অন্যদিকে, কাউখালী এসবি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী থাকলেও শিক্ষক রয়েছেন মাত্র সাতজন। দীর্ঘদিন ধরে দুটি বিদ্যালয়েই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

এ অবস্থার মধ্যেই গত ১৭ জুন কাউখালী কেজি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গণিত) মো. আমিনুর রহমানকে ঢাকার নারিন্দা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। শিক্ষক সংকটে থাকা বিদ্যালয় থেকে একমাত্র গণিত শিক্ষককে বদলি করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা বদলি আদেশ বাতিল এবং দ্রুত নতুন শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।

 

একাধিক অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়ে আগে থেকেই শিক্ষক সংকট ছিল। তার ওপর শিক্ষার্থীদের প্রিয় গণিত শিক্ষককে বদলি করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। গণিত ও ইংরেজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষক না থাকায় সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগে রয়েছেন। তারা অবিলম্বে বদলি আদেশ বাতিল এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষক পদায়নের দাবি জানান।

 

এসবি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক বলেন, প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র সাতজন শিক্ষক দিয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। শিক্ষকরা অতিরিক্ত চাপের কারণে নিয়মিত পাঠদান করতে পারছেন না। আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে অনেক শিক্ষার্থী প্রাইভেট বা কোচিংও করতে পারে না। ফলে শিক্ষার মান নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ বাড়ছে।

 

কাউখালী কেজি ইউনিয়ন সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিজন হালদার শিক্ষক সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সীমিত জনবল দিয়ে এত শিক্ষার্থী সামলানো প্রায় অসম্ভব। এর মধ্যে গণিত শিক্ষকের বদলি আমাদের সংকট আরও বাড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।”

 

এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, উপজেলার সরকারি দুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। গণিত শিক্ষকের বদলির ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগের বিষয়টিও প্রশাসনের নজরে রয়েছে। ইতোমধ্যে শিক্ষক সংকটের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় শিক্ষক পদায়নের সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

 

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, বরিশাল অঞ্চলের উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, কাউখালীর দুটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকটের বিষয়টি অধিদপ্তরের জানা রয়েছে। শূন্য পদের হালনাগাদ তথ্য ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত শিক্ষক পদায়ন ও প্রয়োজনীয় বদলির মাধ্যমে সংকট নিরসনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পাটকেলঘাটা থানা ভবনের নির্মাণকাজ পরিদর্শনে সংসদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ

কাউখালীর দুই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট, শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন;

Update Time : ০৪:০৬:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

 

কাউখালী  প্রতিনিধি:

 

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার দুটি ঐতিহ্যবাহী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা তীব্র শিক্ষক সংকট এখন চরম আকার ধারণ করেছে। প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয় দুটির স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এরই মধ্যে শিক্ষক সংকটের মাঝেই একমাত্র গণিত শিক্ষককে বদলি করায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বদলি আদেশ প্রত্যাহার এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় শিক্ষক পদায়নের দাবিতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাউখালী সরকারি গাণ্ডতা (কেজি) ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৭টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ কর্মরত রয়েছেন মাত্র পাঁচজন শিক্ষক। এর মধ্যে একজন বি.এড. প্রশিক্ষণে থাকায় কার্যত প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন মাত্র চারজন শিক্ষক। ফলে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান কোনো রকমে জোড়াতালি দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।

 

অন্যদিকে, কাউখালী এসবি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী থাকলেও শিক্ষক রয়েছেন মাত্র সাতজন। দীর্ঘদিন ধরে দুটি বিদ্যালয়েই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

এ অবস্থার মধ্যেই গত ১৭ জুন কাউখালী কেজি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গণিত) মো. আমিনুর রহমানকে ঢাকার নারিন্দা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। শিক্ষক সংকটে থাকা বিদ্যালয় থেকে একমাত্র গণিত শিক্ষককে বদলি করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা বদলি আদেশ বাতিল এবং দ্রুত নতুন শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।

 

একাধিক অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়ে আগে থেকেই শিক্ষক সংকট ছিল। তার ওপর শিক্ষার্থীদের প্রিয় গণিত শিক্ষককে বদলি করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। গণিত ও ইংরেজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষক না থাকায় সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগে রয়েছেন। তারা অবিলম্বে বদলি আদেশ বাতিল এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষক পদায়নের দাবি জানান।

 

এসবি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক বলেন, প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র সাতজন শিক্ষক দিয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। শিক্ষকরা অতিরিক্ত চাপের কারণে নিয়মিত পাঠদান করতে পারছেন না। আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে অনেক শিক্ষার্থী প্রাইভেট বা কোচিংও করতে পারে না। ফলে শিক্ষার মান নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ বাড়ছে।

 

কাউখালী কেজি ইউনিয়ন সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিজন হালদার শিক্ষক সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সীমিত জনবল দিয়ে এত শিক্ষার্থী সামলানো প্রায় অসম্ভব। এর মধ্যে গণিত শিক্ষকের বদলি আমাদের সংকট আরও বাড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।”

 

এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, উপজেলার সরকারি দুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। গণিত শিক্ষকের বদলির ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগের বিষয়টিও প্রশাসনের নজরে রয়েছে। ইতোমধ্যে শিক্ষক সংকটের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় শিক্ষক পদায়নের সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

 

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, বরিশাল অঞ্চলের উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, কাউখালীর দুটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকটের বিষয়টি অধিদপ্তরের জানা রয়েছে। শূন্য পদের হালনাগাদ তথ্য ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত শিক্ষক পদায়ন ও প্রয়োজনীয় বদলির মাধ্যমে সংকট নিরসনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Spread the love