
কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় কৃষক কার্ড হালনাগাদের লক্ষ্যে চলমান কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন কৃষি অধিদপ্তর, পিরোজপুরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার। বুধবার (২২ জুলাই) দিনব্যাপী উপজেলার আমরাজুরী ইউনিয়নের আমরাজুরী, গন্তব্য ও রোঙ্গাকাঠি—এই তিনটি ওয়ার্ডে পরিচালিত তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম তিনি সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আমরাজুরী ইউনিয়নের ওই তিনটি ওয়ার্ডে মোট ৯৪৩টি কৃষক পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের একটি হালনাগাদ ও নির্ভুল তথ্যভান্ডার তৈরি করা হবে। ফলে সরকারি কৃষি প্রণোদনা, ভর্তুকি, উন্নতমানের বীজ, সারসহ বিভিন্ন কৃষি সেবা আরও স্বচ্ছ ও সহজ উপায়ে প্রকৃত কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা এবং মাঠ পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কৃষকদের জমি, ফসল, চাষাবাদ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছেন। পরিদর্শনকালে উপজেলা কৃষি অফিসার সোমা রানী দাস, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার প্রদীপ কুমার হালদার, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাইনুল হুদা রোমান, সৈয়দ ফাহিম, সাকায়েত হোসেন তুহিন, রফিকুল ইসলাম ও কেয়া সিকদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সভাপতি মো. ফারুক হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিলও উপস্থিত ছিলেন।
কৃষক গৌতম বড়াল বলেন, “কৃষি কর্মকর্তারা আমাদের বাড়িতে এসে জমি, ফসল ও চাষাবাদের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছেন। এতে প্রকৃত কৃষকদের সঠিক তালিকা তৈরি হবে এবং ভবিষ্যতে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া আরও সহজ হবে।”
আরেক কৃষক নারায়ণ মণ্ডল বলেন, “আগে অনেক সময় তথ্যের অসঙ্গতির কারণে বিভিন্ন সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে হতো। এবার বাড়িতে এসে তথ্য সংগ্রহ করায় আমরা আশাবাদী, প্রকৃত কৃষকরাই সরকারি সুবিধা পাবেন।”
উপজেলা কৃষি অফিসার সোমা রানী দাস বলেন, “কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে কৃষকদের একটি নির্ভুল ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকারি কৃষি সহায়তা ও প্রণোদনা বিতরণ আরও স্বচ্ছ, কার্যকর এবং জবাবদিহিমূলক হবে।”
কৃষি অধিদপ্তর, পিরোজপুরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, “প্রকৃত কৃষকদের সঠিক তথ্য সংরক্ষণ বর্তমান সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ যাতে নির্ভুল, স্বচ্ছ ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়টি আমরা নিবিড়ভাবে তদারকি করছি। সরকারের কৃষিবান্ধব কর্মসূচির সুফল প্রকৃত কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেই এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।”
Reporter Name 



















