
প্রতিনিধি নেছারাবাদ (পিরোজপুর)
উপজেলা বিএনপির কমিটি না থাকায় কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচি ঘিরে পিরোজপুরের নেছারাবাদে তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করেছেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক তিনটি স্থান থেকে মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে দিবসটি পালন করেন তাঁরা। দলীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের এমন বিভক্তি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার জগন্নাথকাঠি বাজারের সুপারিপট্টি থেকে স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সভাপতি কাজী কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি পৌর শহরের বাজার রোড ও তেঁতুলতলা প্রদক্ষিণ করে পুরাতন থানা এলাকার রিকশাস্ট্যান্ডের তিন রাস্তার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন কাজী কামাল হোসেনসহ তাঁর সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা।

এরপর উপজেলার জগৎপট্টি সন্ধ্যা নদীর পাড়ে ডাকবাংলার সামনে থেকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাছির উদ্দীন তালুকদারের নেতৃত্বে দ্বিতীয় একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি নদীরপাড় সড়ক হয়ে পুরাতন থানা সড়ক, তেঁতুলতলা ও জগন্নাথকাঠি বাজার সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ডাকবাংলার সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে নাছির উদ্দীন তালুকদারসহ তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

প্রায় একই সময়ে পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে থেকে তৃতীয় একটি মিছিল বের হয়। এতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল বেরুনী সৈকত, স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম ফরিদ এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মইনুল হাসান। মিছিলটি পৌর শহরের বাজার রোড, তেঁতুলতলা ও পুরাতন থানা সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন নেতারা।
কেন্দ্রী ঘোষিত গুরুত্বপূর্ণ দলীয় কর্মসূচি ঐক্যবদ্ধভাবে পালন না করে তিনটি পৃথক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কর্মসূচি আয়োজন করায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করে পুলিশ প্রশাসন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, একই দিনে তিনটি গ্রুপ পৃথক স্থান ও সময়ে কর্মসূচি পালন করেছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে ছিল। তবে কর্মসূচি চলাকালে কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি।
নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. ফকরুল আলম বলেন, উপজেলা বিএনপির কোনো কমিটি না থাকায় হয়তো নিজ নিজ সক্ষমতা দেখাতে তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কর্মসূচি পালন করেছে। সবাইকে একত্র করে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়েছিল, কিন্তু কেউ তাতে সাড়া দেয়নি। এ কারণে তিনি নিজে সরেজমিনে কর্মসূচিতে অংশ নেননি। তবে তাঁর লোকজন সব কটি মিছিলেই ছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, কমিটি গঠন হলে এ সমস্যা দ্রুত নিরসন হবে। মূলত কমিটি না থাকায় নেতৃত্বের অনৈক্য থেকেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম খান বলেন, নেছারাবাদে দলীয়ভাবে পৃথক কর্মসূচি পালনের বিষয়টি তাঁদের জানা ছিল না। এটি কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচি। তাই তাঁদের একত্র হয়ে কর্মসূচি পালন করার প্রয়োজন ছিল না। মূল বিষয় হলো, কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়েছে কি না।
তবে দলের এত বড় একটি কর্মসূচি সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে পালন করলে ভালো হতো কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পৃথক কর্মসূচি পালনের মূল কারণ হলো, নেছারাবাদে বিএনপির কোনো কমিটি নেই। তবে সবাই একত্র হয়ে কর্মসূচি পালন করলে আরও ভালো হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।
Reporter Name 


















